গত ১৬ বছরে বান্দরবান জেলা পরিষদের খাদ্যশস্য প্রকল্পের বরাদ্দকৃত প্রায় ৭২০ কোটি টাকার সম্পূর্ণটাই লুটপাট ও আত্মসাৎ করা হয়েছে। এ সময়ে দেড় শতাধিক অস্তিত্বহীন ও ভুয়া প্রকল্পের নামে এই বিপুল পরিমাণ খাদ্যশস্য কাগজপত্রে বরাদ্দ দেখানো হলেও, বাস্তবে এসব প্রকল্পের কোনো অস্তিত্ব পাওয়া যায়নি।
অনুসন্ধানে জানা গেছে, এই লুটপাটের সঙ্গে জড়িত আছেন জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান ক্য শৈ হ্লা, নির্বাহী প্রকৌশলী জিয়াউর রহমান, উপসহকারী প্রকৌশলী থোয়াই চ মং, এবং হিসাবরক্ষক উসাজাই মারমা। তবে অফিসের কেউ তাদের ভয়ে গণমাধ্যমে মুখ খুলতে সাহস পাচ্ছেন না। প্রকল্পের বরাদ্দকৃত খাদ্যশস্যের মধ্যে চাল এবং গমের পরিমাণ উল্লেখযোগ্য, যা গড়মূল্যে প্রায় ৭২০ কোটি টাকায় পৌঁছেছে। কিন্তু বাস্তবে এসব প্রকল্পের কোনো কাজ হয়নি।
এলাকার একাধিক স্থানে প্রকল্পগুলো খুঁজতে গিয়ে দেখা যায়, কাগজে উল্লেখিত স্থান বা কাজের কোনো অস্তিত্ব নেই। বিভিন্ন ইউপির রাস্তা সংস্কার, পুকুর সংস্কার, হাঁস-মুরগি বিতরণ প্রকল্পের নামে বরাদ্দকৃত খাদ্যশস্যগুলো কেবল কাগজপত্রেই সীমাবদ্ধ ছিল। সরেজমিনে খোঁজ নিলে প্রকল্পগুলোর বাস্তবতা অস্বীকার করা কঠিন হয়ে পড়ে।
জেলা পরিষদের এক কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, প্রকল্পগুলো বাস্তবে না থাকলেও কাগজে-কলমে সেগুলোকে সঠিকভাবে প্রদর্শন করে, দায়িত্বশীল কর্মকর্তারা বরাদ্দকৃত সম্পূর্ণ টাকাই আত্মসাৎ করেছেন। এই ব্যাপারে জানতে চাওয়া হলে, বান্দরবান জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান ক্য শৈ হ্লা কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি। নির্বাহী প্রকৌশলী এবং অন্যান্য কর্মকর্তারাও এ বিষয়ে মুখ খুলতে চাননি।
এই ধরণের লুটপাটের ঘটনা সামনে আসায় বান্দরবান জেলা পরিষদের খাদ্যশস্য প্রকল্প নিয়ে নতুন করে তদন্তের দাবি উঠেছে।
সম্পাদক: রাশেদুল হাসান (রাশেদুল তুষার)
প্রকাশক: শফিউল আজম বাবু
ব্যবস্থাপনা সম্পাদক: ফয়সাল নূরী
মহাব্যবস্থাপক: জাফর উল্লাহ কচি
স্বত্ব © ২০২৫ | মায়ামি সংবাদ | সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত