চীনের পরিবেশবান্ধব প্রযুক্তিগুলো দামে কম এবং বিশ্ব বাজারে জনপ্রিয় হচ্ছে দ্রুত। পশ্চিমারা দাবি করছে, চীন ভর্তুকি দিয়ে কম দামে পণ্যগুলো বাজারে বেশি করে ছাড়ছে। এমন ভুল ভাঙবে পূর্ব চীনের আনহুই প্রদেশের রাজধানী হেফেই শহরে বৈদ্যুতিক গাড়ি নির্মাতা নিওর কারখানায় গেলে। সেখানে কাজ করছে সারি সারি রোবটিক বাহু। এ কারখানার রোবটগুলো একটি গাড়ির চারটি দরজা লাগাতে সময় নেয় মাত্র ৯৮ সেকেন্ড। এমনকি এখানকার আট শতাধিক রোবটের কাজ এতই নিখুঁত যে তাদের ভুলের সীমা মাত্র দশমিক ৫ মিলিমিটার। এখানে একটি গাড়ির অর্ডার পাওয়া থেকে তা বিতরণে সময় লাগে মাত্র ১৪ দিন।
কম সময় মানেই কম খরচ, আর রোবট ও এআইয়ের সমন্বয়ে এখানে নির্ভুল কাজ হয় বলে ভক্সওয়াগনের মডুলার ইলেকট্রিক ড্রাইভ প্লাটফর্ম ফ্যাক্টরিও এখন হেফেইতে। চীনের বিশ্বখ্যাত ইলেকট্রিক কার ব্র্যান্ড বিওয়াইডিও তাদের একটি কারখানা স্থাপন করেছে এখানে।
শুধু রোবট নয়, পরিবেশবান্ধব গাড়ির প্রযুক্তির উন্নয়নে বাজেটও একটা বড় বিষয়। গত বছর বিওয়াইডি’র বার্ষিক প্রতিবেদনে দেখা গেছে, ওই বছর প্রতিষ্ঠানটি গবেষণা ও উন্নয়নে ব্যয় করেছে প্রায় ৫৪৭ কোটি ডলার যা এর আগের বছরের চেয়ে দ্বিগুণেরও বেশি। এমনকি গবেষণায় বিওয়াইডি ছাড়িয়ে গেছে আমেরিকান বৈদ্যুতিক গাড়ির ব্র্যান্ড টেসলাকেও।
গত ফেব্রুয়ারিতে একটি বৈশ্বিক পেটেন্ট ডাটাবেজ সংস্থার প্রতিবেদনে দেখা গেছে, চীনের এনইভি সেক্টরে মেধাস্বত্ত্বের আবেদন বেড়েছে প্রায় ২২ শতাংশ অর্থাৎ শুধু উৎপাদন নয়, গবেষণা ও আবিষ্কারেও দুর্দান্ত গতিতে এগোচ্ছে চীন।
এদিকে, ওভারক্যাপাসিটির মার্কিন অভিযোগের তর্জনি উঠেছিল সোলার প্যানেলের দিকেও। সেটার জবাবও মিলবে হেফেইতে স্থাপিত জে এ সোলার কোম্পানি পরিদর্শনে গেলে।
[caption id="attachment_2660" align="alignnone" width="960"]
ছবি: চায়না ডেইলি[/caption]
সেখানে সোলার প্যানেল তৈরিতে ব্যবহৃত হচ্ছে ফাইভ-জি সমৃদ্ধ অগমেন্টেড প্রযুক্তি। এ প্রতিষ্ঠানে আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স ব্যবহার করে চলছে অ্যাসেম্বলি মেশিন। কাজ চলছে ভয়েস কমান্ডে। আবার সোলার প্যানেলের একেকটি ব্যাচে কোনো ত্রুটি আছে কি না তা জানা যাচ্ছে এক সেকেন্ডেরও কম সময়ে।
অন্যদিকে, হেফেই’র আরেক সোলার এনার্জি প্রতিষ্ঠান সুংরো পাওয়ার সাপ্লাই তাদের কারখানায় ব্যবহার করছে এআই। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা দিয়ে তারা তৈরি করেছে প্রিডায়াগনস্টিক সিস্টেম যার সাহায্যে স্বয়ংক্রিয়ভাবেই চব্বিশ ঘণ্টা নজর রাখা যাচ্ছে ভোল্টেজ, তাপমাত্রা ইত্যাদির ওপর।
তাছাড়া পিটিএল নামের লিথিয়াম আয়ন ব্যাটারি নির্মাতা প্রতিষ্ঠানটির চিয়াংশু প্রদেশের ছাংচৌতে ছয় হাজার বর্গমিটারের বড়সড় একটি ওয়্যারহাউস আছে। সেখানে কাজ করছে বুদ্ধিমান ফোর্কলিফট ও ট্রান্সপোর্ট রোবটের একটি বিশাল বাহিনী।
এখানকার যন্ত্রপাতিগুলো সব স্বয়ংক্রিয় ও এআইচালিত। লিথিয়াম ব্যাটারির জন্য কাঁচামালের রসদ আনা-নেওয়া ও অ্যাসেম্বলিং করছে তারা।
প্রযুক্তির কারণে এই স্টোরেজটির আকার ৩০ শতাংশ কমলেও অপারেশনাল দক্ষতা বেড়েছে ৭০ শতাংশ।
শুধু যন্ত্রপাতি উন্নত হয়েছে তা নয়, চিয়াংশুর লিয়াংয়ে গেলে দেখা যাবে চাইনিজ একাডেমি অভ সায়েন্সের বিজ্ঞানীরা তাদের গবেষণা কেন্দ্রগুলো তৈরি করেছেন শিল্প-চেইনের কাছাকাছি অর্থাৎ তারা গবেষণা করে যা পাচ্ছেন তা সঙ্গে সঙ্গে চলে যাচ্ছে কারখানায়। আবার লিথিয়াম ব্যাটারি কোম্পানিগুলোর কাঁচামাল সরবরাহকারীরাও এখন নিজেদের অফিস নিয়ে এসেছে কারখানার কাছাকাছি।
বিশ্লেষকরা বলছেন, গ্লোবাল ওয়ার্মিংয়ের ক্রান্তিলগ্নে আছে আমাদের বিশ্ব। এখন আমাদের বেশি বেশি পরিবেশবান্ধব প্রযুক্তির প্রয়োজন, দরকার বেশি পরিমাণে সোলার প্যানেল, বৈদ্যুতিক গাড়ি ও উন্নতমানের ব্যাটারি।
চীনের কাছ থেকে এখন বাদবাকি দেশগুলোর যেমন নতুন দিনের প্রযুক্তি দরকার, তেমনি শিখে নিতে হবে এসব অত্যাধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর উৎপাদন ব্যবস্থা।
সূত্র: সিএমজি বাংলা
সম্পাদক: রাশেদুল হাসান (রাশেদুল তুষার)
প্রকাশক: শফিউল আজম বাবু
ব্যবস্থাপনা সম্পাদক: ফয়সাল নূরী
মহাব্যবস্থাপক: জাফর উল্লাহ কচি
স্বত্ব © ২০২৫ | মায়ামি সংবাদ | সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত