সারাদেশজুড়ে গত জুলাই-আগস্ট মাসে ছাত্র-জনতার বিক্ষোভে সহিংসতায় প্রাণ হারিয়েছেন অন্তত ৬৩১ জন, আর আহত হয়েছেন ১৯ হাজার ২০০ জনেরও বেশি। এই ভয়াবহ ঘটনায় হতাহতদের পরিপূর্ণ তালিকা প্রস্তুত করার জন্য গত ১৫ আগস্ট স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় একটি বিশেষ কমিটি গঠন করে। বৃহস্পতিবার (৫ সেপ্টেম্বর) সেই কমিটি তাদের প্রাথমিক প্রতিবেদন জমা দিয়েছে।
প্রতিবেদনে বলা হয়, আহতদের মধ্যে ৪৫০ জনের বেশি ঘটনাস্থলেই নিহত হন এবং পরবর্তী ২১ দিনের চিকিৎসা চলাকালীন অবস্থায় আরও ১৮১ জন মারা যান। গুরুতর আহতদের মধ্যে প্রায় ৩ হাজার ৪৮ জনের অবস্থা সংকটাপন্ন হওয়ায় তাদের অস্ত্রোপচার করতে হয়েছে।
স্বাস্থ্য সেবা বিভাগের সাবেক সিনিয়র সচিব ও এই কমিটির প্রধান মুহাম্মদ হুমায়ুন কবির জানান, বেসরকারি হাসপাতালগুলো থেকে সঠিক তথ্য সংগ্রহ করা বেশ চ্যালেঞ্জিং। অনেক সময় ভুক্তভোগীদের পরিবার নাম রেজিস্ট্রেশন করতে ভয় পায়, যা ডেটা সংগ্রহে বাঁধা হয়ে দাঁড়ায়।
প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, দেশের বিভিন্ন বিভাগের মধ্যে সবচেয়ে বেশি প্রাণহানি ও আহতের ঘটনা ঘটেছে ঢাকা বিভাগে। এখানে আহত হয়েছেন প্রায় ১১ হাজার মানুষ এবং প্রাণ হারিয়েছেন ৪৭৭ জন। চট্টগ্রাম বিভাগে আহত হয়েছেন প্রায় ২ হাজার জন, যেখানে নিহতের সংখ্যা ৪৩। বরিশালে প্রাণহানি হয়েছে সবচেয়ে কম, মাত্র ১ জন।
এছাড়া, এই বিক্ষোভে অংশ নেওয়া ৫৩৫ জন স্থায়ীভাবে শারীরিক অক্ষমতায় ভুগছেন। তাদের অনেকের ক্ষেত্রেই গুরুতর আঘাতের কারণে দীর্ঘমেয়াদী চিকিৎসার প্রয়োজন হবে। সরকারের পক্ষ থেকে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের অধীনে ম্যানেজমেন্ট ইনফরমেশন সিস্টেম (এমআইএস) বিভাগের মাধ্যমে হতাহতদের তালিকা প্রণয়ন চলছে এবং শেষ হলে তা জনসাধারণের জন্য উন্মুক্ত করা হবে।
সম্পাদক: রাশেদুল হাসান (রাশেদুল তুষার)
প্রকাশক: শফিউল আজম বাবু
ব্যবস্থাপনা সম্পাদক: ফয়সাল নূরী
মহাব্যবস্থাপক: জাফর উল্লাহ কচি
স্বত্ব © ২০২৫ | মায়ামি সংবাদ | সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত