কুয়েতের গৃহস্থালি কাজে নিযুক্ত কর্মীদের জন্য খাদেম ভিসা (ডমেস্টিক ভিসা) ইস্যু করা হয়। সাধারণত গৃহকর্মী, ড্রাইভার, মালি, বা অন্যান্য গৃহস্থালি কর্মীরা এই ভিসার আওতায় পড়ে। তবে, খাদেম ভিসা নিয়ে গৃহস্থালির বাইরে অন্য পেশায় কাজ করা সম্পূর্ণ বেআইনি এবং শাস্তিযোগ্য অপরাধ।
কুয়েতের আইন অনুযায়ী, গৃহস্থালি কাজের জন্য ইস্যু করা খাদেম ভিসায় বহিরাগত কাজ করার সুযোগ নেই। কেউ যদি এই ভিসা নিয়ে বাইরে কাজ করেন, তাহলে সেটা কুয়েতি আইন অনুযায়ী গুরুতর অপরাধ হিসেবে গণ্য হয়। এই ধরনের অপরাধের শাস্তি হিসেবে জেল, জরিমানা, এবং দেশ থেকে বহিষ্কার পর্যন্ত হতে পারে।
কুয়েতি আইনে খাদেম ভিসা নিয়ে কাজ করার নিয়ম
কুয়েতের মজদুর আইনের ২৮ নম্বর ধারা অনুযায়ী, খাদেম ভিসা নিয়ে নিয়োগকর্তা ছাড়া অন্য কোথাও কাজ করা আইনত দণ্ডনীয়। এই আইন ভঙ্গ করলে নিয়োগকর্তার বিরুদ্ধে যেমন শাস্তির ব্যবস্থা রয়েছে, তেমনি ভিসাধারী ব্যক্তি নিজেও শাস্তির আওতায় পড়বেন।
২০২৪ সালের তথ্য অনুযায়ী, কুয়েতে প্রবাসীদের জন্য বিভিন্ন ভিসার ধরন রয়েছে। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য ভিসা ক্যাটাগরিগুলো হলো:
খাদেম ভিসা (ডমেস্টিক ভিসা): গৃহস্থালি কাজে নিযুক্ত কর্মীদের জন্য।
ওয়ার্ক ভিসা: কুয়েতের বিভিন্ন পেশাগত কাজে যোগ দিতে প্রবাসীদের দেওয়া ভিসা।
ট্রানজিট ভিসা: কুয়েতে সাময়িকভাবে অবস্থানের জন্য।
ভিজিট ভিসা: স্বল্পমেয়াদী ভ্রমণ বা আত্মীয়দের সঙ্গে সাক্ষাৎ করার জন্য।
ডিপেন্ডেন্ট ভিসা: পরিবারের সদস্যদের কুয়েতে নিয়ে আসার জন্য।
কুয়েতের ভিসা পেতে চাইলে কিছু নির্দিষ্ট শর্ত পূরণ করতে হয়। যেমন, ভিসাপ্রার্থীদের জন্য ন্যূনতম বেতনসীমা নির্ধারণ করা হয়েছে এবং পরিবারের সদস্যদের জন্য নির্দিষ্ট শর্তাবলী মানতে হবে। এছাড়া, স্বাস্থ্যবীমা বাধ্যতামূলক করা হয়েছে।
বাংলাদেশী প্রবাসীদের জন্য সুযোগ
বাংলাদেশী প্রবাসীদের কুয়েতে বিভিন্ন ক্যাটাগরির অধীনে কাজের সুযোগ রয়েছে। তবে, খাদেম ভিসা নিয়ে বাইরে কাজ না করার জন্য কঠোরভাবে সতর্ক করা হয়েছে, কারণ এটি কুয়েতের আইন অনুযায়ী শাস্তিযোগ্য। বাংলাদেশী কর্মীরা মূলত নির্মাণশিল্প, ড্রাইভার, হাউসকিপিং, এবং গৃহস্থালি কাজের সঙ্গে যুক্ত হয়ে থাকেন।
সম্পাদক: রাশেদুল হাসান (রাশেদুল তুষার)
প্রকাশক: শফিউল আজম বাবু
ব্যবস্থাপনা সম্পাদক: ফয়সাল নূরী
মহাব্যবস্থাপক: জাফর উল্লাহ কচি
স্বত্ব © ২০২৫ | মায়ামি সংবাদ | সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত