সেপ্টেম্বরের প্রথম দিকে ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদো পর্তুগাল জাতীয় দলের ক্যাম্পে ১৭ বছর বয়সী নতুন খেলোয়াড় জিওভানি কোয়েন্ডাকে দেখে তার দিকে এগিয়ে গিয়ে জিজ্ঞেস করলেন, "খেলাটার ধকল কাটিয়ে উঠেছ তো?" কারণ রোনালদো যখন ২০০৩ সালে প্রথমবারের মতো পর্তুগিজ জার্সি গায়ে জড়িয়েছিলেন, তরুণ কোয়েন্ডা তখনো জন্মাননি!
রোনালদো জাতীয় দলের সাথে আছেন দুই দশকের বেশি সময় ধরে। ইউরো ২০২৪-এ পর্তুগালের কোয়ার্টার ফাইনাল থেকে বিদায়ের পর সমালোচনায় মুখর হলেও, তিনি বারবার জানিয়েছেন যে অবসর নেওয়ার কোনো পরিকল্পনা তাঁর নেই। নিজের প্রথম পোস্ট-ইউরো সাক্ষাৎকারে তিনি বলেছিলেন, "যখন আমি আন্তর্জাতিক ফুটবল থেকে অবসর নেব, কেউ জানবে না। এটি হবে খুবই স্বতঃস্ফূর্ত সিদ্ধান্ত।"
রোনালদো এখনও নিজের ১,০০০ গোলের লক্ষ্য পূরণের পথে এগিয়ে যাচ্ছেন। তাঁর বিভিন্ন ক্লাবের হয়ে করা মোট ৯০৫টি গোলের মধ্যে উল্লেখযোগ্য সংখ্যক এসেছে রিয়াল মাদ্রিদের হয়ে—৪৫০টি। বর্তমানে তিনি আল-নাসর ক্লাবের হয়ে ৭২টি গোল করেছেন এবং জাতীয় দলের হয়ে করেছেন ১৩২টি।

রোনালদোর এই দীর্ঘ ক্যারিয়ারে তাঁর দলে নিজের অবদান ও উপস্থিতি নিয়ে কিছু বিতর্ক থাকলেও, কোচ রবার্তো মার্টিনেজ রোনালদোকে দলের গুরুত্বপূর্ণ অংশ মনে করছেন। মার্টিনেজ বলেছেন, "রোনালদোর পারফরম্যান্স কার্যকর প্রমাণিত হয়েছে।"
অনেকেই মনে করেন যে রোনালদোর ব্যক্তিগত অর্জনের দিকে দৃষ্টি দেওয়া তাঁর দলের গতিশীলতায় নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে। সমালোচকরা বলছেন যে ২০২২ বিশ্বকাপ এবং ইউরো ২০২৪-এ তাঁর পারফরম্যান্স মনমতো হয়নি। তবে পর্তুগালের ফুটবল ফেডারেশনের আর্থিক সাফল্যে রোনালদোর বিশাল সামাজিক প্রভাব অস্বীকার করা যায় না।

রোনালদো যখন তাঁর ১,০০০তম গোলের দিকে এগোচ্ছেন, তখন প্রশ্ন থাকে যে তিনি দলীয় কৌশলে কিভাবে অবদান রাখবেন এবং কতটা কার্যকর হবেন। অনেক ফুটবল বিশ্লেষক মনে করেন, তাঁর ওপর ভর না করে দলকে স্বাধীনভাবে খেলতে দেওয়াই হবে সঠিক কৌশল।
সম্পাদক: রাশেদুল হাসান (রাশেদুল তুষার)
প্রকাশক: শফিউল আজম বাবু
ব্যবস্থাপনা সম্পাদক: ফয়সাল নূরী
মহাব্যবস্থাপক: জাফর উল্লাহ কচি
স্বত্ব © ২০২৫ | মায়ামি সংবাদ | সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত