কুয়েতের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, দেশটির গোয়েন্দারা এ বছরের শুরু থেকে ২১,১৯০ জন অবৈধ প্রবাসীকে গ্রেপ্তার করেছে এবং তাদের সবাইকে দেশে ফেরত পাঠানো হয়েছে। মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, প্রায় ১২,০০০ প্রবাসী জরিমানা পরিশোধের মাধ্যমে আইনানুগভাবে তাদের অবস্থান বৈধ করেছে। এই পদক্ষেপটি কুয়েতের প্রশাসনের অবৈধ প্রবাসী এবং বাসস্থান অনুমতি বিক্রি করা নিয়োগকর্তাদের বিরুদ্ধে পরিচালিত অভিযানের অংশ।
গত ১৭ মার্চ থেকে ৩০ জুন পর্যন্ত, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের দেওয়া সাধারণ ক্ষমার সময় প্রায় ৭০,০০০ অবৈধ প্রবাসী তাদের অবস্থান বৈধ করেছে বা জরিমানা ছাড়া দেশ ত্যাগ করেছে। ক্ষমা শেষে কুয়েত কর্তৃপক্ষ অবৈধ প্রবাসীদের বিরুদ্ধে অভিযান শুরু করে এবং শত শত প্রবাসীকে গ্রেপ্তার করেছে।
গোয়েন্দারা তদন্তে দেখেছেন, নিয়োগকর্তারা অর্থের বিনিময়ে ভুয়া বাসস্থানের অনুমতি বিক্রি করছিলেন। তারা ৫৯টি গুরুতর অপরাধ এবং ৫০৬টি ছোটখাটো অপরাধের ঘটনা নিবন্ধন করেছেন।
এদিকে, কুয়েত নির্যাতনবিরোধী আন্তর্জাতিক মানবাধিকার চুক্তির প্রতি প্রতিশ্রুতি রেখে তাদের দণ্ডবিধিতে নতুন সংশোধনী করেছে। বিচার, ওয়াকফ ও ইসলামিক বিষয়ক মন্ত্রী ড. মোহাম্মদ আল-ওয়াসমি ২০২৪ সালের ৩৯ নম্বর ডিক্রি আইনের অধীনে সংশোধনী ঘোষণা করেছেন।
নতুন আইনের অধীনে, স্বীকারোক্তি আদায়ের জন্য নির্যাতন করলে সর্বোচ্চ পাঁচ বছরের কারাদণ্ডের পাশাপাশি ১০০০ থেকে ৫০০০ কুয়েতি দিনার পর্যন্ত জরিমানা হতে পারে। নির্যাতনের ঘটনা কেউ যদি অনুমোদন করে, সাক্ষী থাকে বা চুপ করে থাকে এবং হস্তক্ষেপের ক্ষমতা থাকা সত্ত্বেও কিছু না করে, তাদের বিরুদ্ধেও কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
এই নতুন আইন কুয়েতের জাতীয় আইনকে জাতিসংঘের নির্যাতনবিরোধী কনভেনশন ও মানবাধিকার চুক্তির সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ করে তুলেছে।
অন্যদিকে, কুয়েতের আপিল আদালত সাবেক জাতীয় সংসদ নির্বাচনের প্রার্থী মুসায়েদ আল-কুরাইফার বিরুদ্ধে চার বছরের কারাদণ্ড কমিয়ে দুই বছর করেছে এবং শর্তসাপেক্ষে তিন বছরের জন্য মুলতবি করেছে। মামলাটি এখন কাসেশন আদালতে যাবে, যা কুয়েতের সর্বোচ্চ আদালত এবং এর রায় চূড়ান্ত হবে।
সম্পাদক: রাশেদুল হাসান (রাশেদুল তুষার)
প্রকাশক: শফিউল আজম বাবু
ব্যবস্থাপনা সম্পাদক: ফয়সাল নূরী
মহাব্যবস্থাপক: জাফর উল্লাহ কচি
স্বত্ব © ২০২৫ | মায়ামি সংবাদ | সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত