ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির দল ভারতীয় জনতা পার্টি (বিজেপি) অভিযোগ করেছে, যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর এবং বিভিন্ন শক্তি পরিকল্পিতভাবে ভারতকে অস্থিতিশীল করার চেষ্টা করছে। এই প্রচেষ্টায় ভারতের বিরোধী দলীয় নেতা রাহুল গান্ধী ও কিছু সাংবাদিকদের সম্পৃক্ত করার অভিযোগও তুলেছে দলটি।
বিজেপির পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, রাহুল গান্ধীর কংগ্রেস দল এবং তাদের অনুসারীরা আন্তর্জাতিক সাংবাদিক নেটওয়ার্ক অর্গানাইজড ক্রাইম অ্যান্ড করাপশন রিপোর্টিং প্রজেক্টে (ওসিসিআরপি) প্রকাশিত নিবন্ধকে ব্যবহার করে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ণ করার চেষ্টা করছে।
বিজেপি আরও দাবি করেছে, মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর ওসিসিআরপিকে অর্থায়ন করছে, যা যুক্তরাষ্ট্রের ডিপ স্টেটের উদ্দেশ্য বাস্তবায়নের হাতিয়ার হিসেবে কাজ করছে।
ভারতে বিজেপির দীর্ঘদিনের সহযোগী গৌতম আদানির বিরুদ্ধে সম্প্রতি অভিযোগ উঠেছে, ২৬৫ মিলিয়ন ডলারের একটি প্রকল্পে ভারতীয় কর্মকর্তাদের ঘুষ দেওয়ার। এই অভিযোগে আদানি গ্রুপের চেয়ারম্যানসহ সাতজনকে যুক্তরাষ্ট্রে অভিযুক্ত করা হয়েছে। তবে আদানি এসব অভিযোগকে ভিত্তিহীন বলে উড়িয়ে দিয়েছেন।
মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের এক মুখপাত্র বলেছেন:
"যুক্তরাষ্ট্র সরকার সাংবাদিকদের পেশাগত উন্নয়ন ও সক্ষমতা বৃদ্ধির জন্য সহায়তা দিয়ে থাকে। তবে এসব সহায়তা কোনো সংস্থার সম্পাদকীয় সিদ্ধান্ত বা নীতিকে প্রভাবিত করে না।"
ওসিসিআরপি-ও এক বিবৃতিতে বলেছে যে, তারা একটি স্বাধীন গণমাধ্যম এবং কোনো রাজনৈতিক দলের সঙ্গে তাদের সংশ্লিষ্টতা নেই।
বিগত দুই দশকে ভারত ও যুক্তরাষ্ট্রের সম্পর্ক দৃঢ় হয়েছে। মতপার্থক্য থাকা সত্ত্বেও উভয় দেশ প্রতিরক্ষা, প্রযুক্তি এবং কৌশলগত বিভিন্ন ক্ষেত্রে সহযোগিতা বাড়ানোর প্রতিশ্রুতি দিয়েছে। তবে বিজেপির এই অভিযোগ দুই দেশের সম্পর্কে নতুন মাত্রার চাপ তৈরি করতে পারে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।
বিজেপির এই অভিযোগ এমন সময় এসেছে যখন ভারতের অভ্যন্তরে আদানি গ্রুপ ও কংগ্রেস দল নিয়ে বিতর্ক চলছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই পরিস্থিতি ভারতীয় রাজনীতিতে নতুন উত্তেজনা তৈরি করতে পারে এবং আন্তর্জাতিক অঙ্গনেও প্রভাব ফেলতে পারে।
সম্পাদক: রাশেদুল হাসান (রাশেদুল তুষার)
প্রকাশক: শফিউল আজম বাবু
ব্যবস্থাপনা সম্পাদক: ফয়সাল নূরী
মহাব্যবস্থাপক: জাফর উল্লাহ কচি
স্বত্ব © ২০২৫ | মায়ামি সংবাদ | সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত