সাউথ ফ্লোরিডার মিয়ামি বিচ থেকে সানি আইলস পর্যন্ত প্রায় ১২ মাইল এলাকাজুড়ে প্রায় তিন ডজন উঁচু কন্ডোমিনিয়াম ও বিলাসবহুল হোটেল ধীরে ধীরে দেবে যাচ্ছে। ইউনিভার্সিটি অফ মিয়ামি রোজেনস্টিয়েল স্কুল অব মেরিন, অ্যাটমোসফেরিক অ্যান্ড আর্থ সায়েন্সের সাম্প্রতিক গবেষণায় এমন তথ্য উঠে এসেছে।
গবেষণায় দেখা গেছে, ৩৫টি ভবন ২ থেকে ৮ সেন্টিমিটার (০.৮ থেকে ৩.১ ইঞ্চি) পর্যন্ত দেবে গেছে। এই ভবনগুলোর প্রায় অর্ধেকই ১০ বছরেরও কম পুরানো।
গবেষণার প্রধান লেখক ফারজানেহ আজিজ জানজানি বলেন, “সাউথ ফ্লোরিডা উপকূলের সাবসাইডেন্স হটস্পটের এমন ব্যাপকতা আমাদের কাছে অপ্রত্যাশিত ছিল। এই গবেষণা ভবিষ্যতের জন্য এই ভবনগুলোর স্থায়িত্ব বোঝার প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরেছে।”
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ফ্লোরিডার উপকূলীয় চুনাপাথরের নিচে থাকা বালির স্তরগুলো উচ্চ ভবনের ভারে স্থানচ্যুত হতে পারে। এছাড়াও, নির্মাণের কম্পন এবং জোয়ারের প্রভাব এই পরিস্থিতি সৃষ্টি করতে পারে। কিছু ক্ষেত্রে নির্মাণস্থল থেকে ৩২০ মিটার দূরের কম্পনও ভূমির দেবে যাওয়ার কারণ হিসেবে শনাক্ত হয়েছে।
গবেষণায় সানি আইলস এলাকায় ভবনগুলোর দেবে যাওয়ার প্রক্রিয়া সবচেয়ে বেশি লক্ষ্য করা গেছে। প্রাথমিক তথ্য অনুযায়ী, ব্রাওয়ার্ড এবং পাম বিচ কাউন্টির সৈকত এলাকায়ও ভবন দেবে যাওয়ার প্রবণতা রয়েছে।
২০২১ সালের জুনে সার্ফসাইড এলাকার শ্যামপ্লেইন টাওয়ার সাউথ ধসে পড়ে ৯৮ জন নিহত হয়েছিলেন। যদিও এটি মূলত দুর্বল রক্ষণাবেক্ষণ এবং ত্রুটিপূর্ণ নকশার কারণে ঘটেছিল, তবে এই দুর্ঘটনা ভবনের স্থায়িত্ব পর্যবেক্ষণের গুরুত্ব নিয়ে ভাবাচ্ছে।
গবেষকরা ভবিষ্যতে দেবে যাওয়ার বিভিন্ন হারের কারণে ভবনের দেয়ালে ফাটল, পানি বা বিদ্যুৎ লাইনের ক্ষতি, এবং দীর্ঘমেয়াদে বড় ধরনের ঝুঁকির আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন। এ বছরের শুরুর দিকে আরেকটি গবেষণায় দেখা গেছে, নিউ ইয়র্ক সিটি, লং আইল্যান্ড, বাল্টিমোর এবং ভার্জিনিয়া বিচের ভবনগুলোও সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধির তুলনায় বেশি হারে দেবে যাচ্ছে।
সম্পাদক: রাশেদুল হাসান (রাশেদুল তুষার)
প্রকাশক: শফিউল আজম বাবু
ব্যবস্থাপনা সম্পাদক: ফয়সাল নূরী
মহাব্যবস্থাপক: জাফর উল্লাহ কচি
স্বত্ব © ২০২৫ | মায়ামি সংবাদ | সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত