তুরস্কের একটি জনপ্রিয় স্কি রিসোর্ট হোটেলে আগুন লেগে কমপক্ষে ৬৬ জন নিহত হয়েছেন যাদের মধ্যে কয়েকজন জানালা দিয়ে লাফিয়ে পড়েন।
বোলু প্রদেশের কার্তালকায়ায় অবস্থিত ১২ তলা বিশিষ্ট গ্র্যান্ড কার্তাল হোটেলটিতে স্থানীয় সময় ভোর ৩:২৭টায় (০০:২৭ গ্রিনিচ মান সময়) ব্যস্ত ছুটির সময় আগুন লাগে। তখন সেখানে ২৩৪ জন অবস্থান করছিল।
প্রাথমিকভাবে ১০ জনের মৃত্যুর খবর জানানো হলেও তুরস্কের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় অগ্নিকাণ্ডের কয়েক ঘণ্টার মধ্যে মৃতের সংখ্যা উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়ে যাওয়ার কথা জানায়। নিরাপদে লাফিয়ে পড়ার চেষ্টা করার পর কমপক্ষে দুইজন মারা যায়।
আগুন নেভাতে ১২ ঘণ্টা সময় লাগে। তুরস্কের বিচারমন্ত্রী ইলমাজ টুনক জানান, এ ঘটনায় হোটেলটির মালিকসহ চারজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
তুরস্কে প্রচারিত ভিডিও ফুটেজে জ্বলন্ত ভবনটি থেকে বাঁচার জন্য যারা চেষ্টা করছিল তাদের ব্যবহৃত জানালা থেকে ঝুলন্ত লিনেন কাপড় দেখা গেছে।
নেকমি কেপসেতুতান নামে এক স্কি প্রশিক্ষক যুক্তরাজ্য ভিত্তিক সংবাদমাধ্যম বিবিসিকে জানায় যে আগুন লাগার সময় তিনি হোটেলের দ্বিতীয় তলায় ছিলেন এবং স্কি রুম দিয়ে বেরিয়ে আসতে সক্ষম হন। এরপর তিনি অন্যদেরও উদ্ধারে সহায়তা করেন।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানায়, হোটেলটি যাদের মালিকানাধীন সেই পরিবারের সদস্যরা অগ্নিকাণ্ডের সময় সেখানে ছিল এবং কেপসেতুতান বলেন যে তিনি তাদের কাউকে কাউকে বাইরে দেখেছেন।
আগুন লাগার কারণ এখনও জানা যায়নি, তবে বোলুর গভর্নর আব্দুল আজিজ আইদিন বলেন, প্রাথমিক প্রতিবেদনে ধারণা করা হচ্ছে যে এটি হোটেলের চতুর্থ তলার রেস্তোরাঁ অংশে সৃষ্টি হয়ে উপরের তলাগুলোতে ছড়িয়ে পড়ে।
আইদিন বলেন, কার্তালকায়ায় হোটেলটি এবং বোলুর কেন্দ্রস্থলের মধ্যে দূরত্ব আর ঠাণ্ডা আবহাওয়া এই দুই কারণে দমকল বাহিনীর গাড়ি পৌঁছাতে এক ঘণ্টারও বেশি সময় লাগে। জরুরি পরিষেবাগুলি ঘটনাস্থলে ২৬৭ জন কর্মী পাঠিয়েছে বলে জানান তিনি।
আগুন ছড়িয়ে পড়ার সাথে সাথে শিশু সহ অতিথিরা তাদের ঘরে আটকা পড়েছে কি না তা হোটেল কর্তৃপক্ষ তদন্ত করছে।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর মতে, হোটেলটিতে দু’টি অগ্নি নির্বাপক ব্যবস্থা ছিল এবং একজন হোটেল কর্মী জানিয়েছেন যে তারা ৩০-৩৫ জনকে উদ্ধার করতে সক্ষম হয়েছেন।
বিচারমন্ত্রী ইলমাজ টুনক বলেন, আগুনের তদন্তের জন্য প্রসিকিউটরদের নিয়োগ করা হয়েছে।
হোটেলটি শেষবার ২০২৪ সালে পরিদর্শন করা হয়েছিল এবং পর্যটনমন্ত্রী বলেছেন যে মঙ্গলবারের দুর্যোগের আগে হোটেলটির অগ্নি নিরাপত্তা নিয়ে কোনো প্রশ্নও ছিল না।
ইস্তাম্বুল এবং রাজধানী আঙ্কারার স্কিয়ারদের কাছে বোলু পর্বতমালা জনপ্রিয় এবং দুই সপ্তাহের স্কুল ছুটির শুরুতে হোটেলটিতে অতিথি সংখ্যাও ছিল বেশ।
উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলীয় শহরটি আঙ্কারা থেকে প্রায় ১৭০ কিলোমিটার (১০৫ মাইল) দূরে অবস্থিত।
গভর্নর তুরস্কের সংবাদমাধ্যমকে জানায়, আগুন একটি হোটেলে লাগলেও সতর্কতামূলক ব্যবস্থা হিসেবে পার্শ্ববর্তী একটি হোটেল থেকে মানুষজনকে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে।
হোটেল থেকে সরিয়ে নেওয়া অতিথিদের বোলুর কেন্দ্রস্থলের কাছাকাছি হোটেলগুলিতে নিয়ে যাওয়া হয়েছে।
সম্পাদক: রাশেদুল হাসান (রাশেদুল তুষার)
প্রকাশক: শফিউল আজম বাবু
ব্যবস্থাপনা সম্পাদক: ফয়সাল নূরী
মহাব্যবস্থাপক: জাফর উল্লাহ কচি
স্বত্ব © ২০২৫ | মায়ামি সংবাদ | সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত