ওমানে দেখতে দেখতে এগারো বছর পার করলাম। সুখ—দুঃখ, হাসি—কান্না, আনন্দ—বেদনা সবকিছুর অনুভূতি পাওয়া হয়েছে। হারানো থেকে পাওয়ার ওজনটা ভারী। ওমানের প্রবাস জীবনের অনেক ঘটনাই বারবার মনে পড়ে।
২০১৪ সালের ডিসেম্বরের একদিনের ঘটনা। এক ওমানীর বাসায় ফ্রিজ মেরামত করার জন্য তিনজন বাঙালি শ্রমিক আসলো। ভালোভাবে দেখেশুনে অনেক চেষ্টা করেও কোনোভাবেই ফ্রিজটাকে চালু করা যাচ্ছিলো না। আমার দেখে মনে হলো তারা কাজটাতে দক্ষ নয়।
যে কাজটা করতে হয়ত এক ঘণ্টা লাগার কথা, তিন ঘণ্টা পরও তারা কাজের কাজ কিছুই করতে পারলো না। এদিকে, তাদের কাজকর্ম লক্ষ্য করছিলেন ওমানী বৃদ্ধটি যার বয়স আশি বছরের বেশি। উনি কোনো কথাবার্তা বলছেন না, শুধুই দেখেই চলেছেন।
এক পর্যায়ে, কিছুই করতে না পেরে ওই শ্রমিকরা নিজেদের মধ্যে আলোচনা শুরু করে দিলো। তাদের কথাগুলো ছিল এইরকম: এটা হবে না, কোনোরকমে বুঝ দিয়ে দে, বুড়া কিছু বুঝবে না।
লক্ষ্য করলাম, তারা বৃদ্ধটিকে এমনকি গালিগালাজ পর্যন্ত করতে করতে চট্টগ্রামের আঞ্চলিক ভাষায় বলছিল, “চল রিয়াল নিয়ে ভাগি”। তারপর তারা বৃদ্ধটিকে আরবি ভাষায় বলল, “কাজ হয়ে গেছে, আমরা যাচ্ছি।”
বৃদ্ধটি তাদের বাংলা ভাষায় বললেন, “চা—নাস্তা খেয়ে যাও। ভাতের ব্যবস্থাও আছে।”
আমি এতোক্ষণ যে ওমানী বৃদ্ধটির কথা বলছিলাম, আসলে তিনি জন্মগত ওমানী নন, তিনি একজন বাঙালি। ১৯৬৭ সাল থেকে ওমানে বসবাস করছেন, ওমানে খুবই ভালো অবস্থান তাঁর। তিনি ওমানের জাতীয়তা পেয়েছেন। খুবই ভালো মানুষ।
এই মানুষটির এমন বাংলা বলা শুনে বাঙালি ওই শ্রমিকগুলো ভয় পেয়ে তাড়াতাড়ি দৌড়ে পালিয়ে গেল।
লেখক: আম্পায়ার, ওমান ক্রিকেট
সম্পাদক: রাশেদুল হাসান (রাশেদুল তুষার)
প্রকাশক: শফিউল আজম বাবু
ব্যবস্থাপনা সম্পাদক: ফয়সাল নূরী
মহাব্যবস্থাপক: জাফর উল্লাহ কচি
স্বত্ব © ২০২৫ | মায়ামি সংবাদ | সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত