বাংলাদেশে কোটা সংস্কার আন্দোলনকে কেন্দ্র করে চলতি মাসের শুরু থেকেই দেশজুড়ে অস্থিরতা বিরাজ করছে। এই আন্দোলনের পরিপ্রেক্ষিতে সহিংসতা এবং প্রাণহানির ঘটনাও ঘটেছে।
তারপর ১৮ জুলাই ইন্টারনেট সেবা বন্ধ হয়ে যায়। পাঁচ দিন বন্ধ থাকার পর সীমিত আকারে ব্রডব্যান্ড ইন্টারনেট চালু হয় ২৩ জুলাই সন্ধ্যায়। তবে বেশ কিছু সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম এখনও বন্ধ রয়েছে।
অনেকেই জানতে চাইছেন, বাংলাদেশে হোয়াটসঅ্যাপ এবং ফোন কলে যোগাযোগের নতুন নিয়ম চালু করা হচ্ছে কি না। তারা কিছু ‘সরকারি নির্দেশনা’ও দেখেছেন যেখানে বলা হচ্ছে, সমস্ত কল রেকর্ড করা হবে এবং হোয়াটসঅ্যাপ, ফেসবুক, এক্স (সাবেক টুইটার) সহ সকল সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে নজরদারি চালানো হবে। এখন প্রশ্ন হচ্ছে হোয়াটসঅ্যাপ ও মেসেঞ্জারে নজরদারি করা কি আসলেই সম্ভব? আসুন, একটু বিস্তারিত জানা যাক এই বিষয়ে।
হোয়াটসঅ্যাপ ও মেসেঞ্জারের নিরাপত্তা ব্যবস্থা
হোয়াটসঅ্যাপের সুরক্ষা ব্যবস্থা এন্ড-টু-এন্ড এনক্রিপ্টেড। এর মানে, এই অ্যাপের মাধ্যমে প্রেরিত বার্তা শুধুমাত্র প্রেরক এবং প্রাপকের পক্ষেই পড়া সম্ভব। এমনকি হোয়াটসঅ্যাপ কর্তৃপক্ষও এসব বার্তা দেখতে পারে না।
তবে বিভিন্ন দেশের সরকার হোয়াটসঅ্যাপ থেকে তথ্য চেয়ে আবেদন করতে পারে। এসব আবেদনের আইনি বৈধতা থাকতে হয়। হোয়াটসঅ্যাপ মেটার ‘গভর্নমেন্ট রিকোয়েস্ট ফর ইউজার ডেটা রিপোর্টে’- বছরে দুইবার এসব আবেদনের তথ্য প্রকাশ করে। এভাবে যাচাই-বাছাই শেষে কিছু নির্দিষ্ট তথ্য সরকারকে দেওয়া হয়।
এমন তথ্যের মধ্যে থাকে:
ব্যবহারকারীর প্রাথমিক তথ্য: নাম, অ্যাকাউন্ট খোলার তারিখ, শেষ সক্রিয় থাকার সময়, আইপি অ্যাড্রেস, ডিভাইসের ধরন, এবং ই-মেইল।
অ্যাকাউন্ট সম্পর্কিত তথ্য: অ্যাবাউট সেকশনে দেওয়া তথ্য, প্রোফাইল ছবি, গ্রুপের বর্ণনা এবং কনট্যাক্ট নম্বর।
মেসেজ এবং কল লগ: সাধারণত হোয়াটসঅ্যাপ এসব তথ্য সংরক্ষণ করে না, তবে যুক্তরাষ্ট্রে আইনি প্রয়োজনে সংগ্রহ করা হয়।
ফেসবুকের মেসেঞ্জারেও এখন এন্ড-টু-এন্ড এনক্রিপশন চালু রয়েছে। ২০২৩ সালের ডিসেম্বরে মেটা এই সুবিধা চালু করে, ফলে হোয়াটসঅ্যাপের মতো মেসেঞ্জারের বার্তাও সুরক্ষিত থাকে।
মাইক্রোব্লগিং সাইট এক্স (সাবেক টুইটার) এরও এন্ড-টু-এন্ড এনক্রিপশন ব্যবস্থা রয়েছে। ফলে বার্তা আদান-প্রদানের ক্ষেত্রে বার্তা প্রেরক ও গ্রাহক ছাড়া অন্য কেউ বার্তা দেখতে পারে না।
সরকারের পদক্ষেপ ও প্রতিক্রিয়া
বাংলাদেশ সরকার বিভিন্ন সময়ে ফেসবুক কর্তৃপক্ষের কাছে ইউজার আইডি বা অ্যাকাউন্ট সম্পর্কিত তথ্য চেয়ে অনুরোধ করেছে। ফেসবুক এসব অনুরোধে সাড়া দিয়ে কিছু তথ্য সরবরাহ করেছে। যেমন, ২০২০ সালে বাংলাদেশ সরকার ফেসবুকের কাছে ২৪১টি অনুরোধের মাধ্যমে ৩৭১টি ইউজার আইডি বা অ্যাকাউন্ট সম্পর্কিত তথ্য চেয়েছিল।
বাংলাদেশে কল রেকর্ড
বাংলাদেশে কল রেকর্ড করা হয় কি না, এই প্রশ্নের উত্তর ২০২১ সালে বিবিসি বাংলার এক প্রতিবেদন পাওয়া যায়। বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ আইন অনুযায়ী, ফোনে আড়ি পাতাকে শাস্তিযোগ্য অপরাধ বলা হয়েছে। তবে রাষ্ট্রীয় নিরাপত্তার স্বার্থে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী অনেক সময় ব্যক্তির ফোন কল রেকর্ড করে থাকে।
বাংলাদেশ পুলিশের সাবেক অতিরিক্ত মহাপরিদর্শক মোখলেসুর রহমান সেই প্রতিবেদনে বলেছিলেন, “রাষ্ট্রীয় নিরাপত্তা বিঘ্নিত হওয়ার আশঙ্কা থাকলে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী এনটিএমসি’র সহায়তায় কারও ফোন কল রেকর্ড করতে পারে।”
সম্পাদক: রাশেদুল হাসান (রাশেদুল তুষার)
প্রকাশক: শফিউল আজম বাবু
ব্যবস্থাপনা সম্পাদক: ফয়সাল নূরী
মহাব্যবস্থাপক: জাফর উল্লাহ কচি
স্বত্ব © ২০২৫ | মায়ামি সংবাদ | সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত