
গাজীপুরের কাশিমপুর কেন্দ্রীয় কারাগার থেকে ২০৯ জন বন্দী পালিয়ে গেছে।
এ সময় কারারক্ষীদের গুলিতে ছয়জন বন্দী নিহত হয়।
নিহতদের লাশ গাজীপুর শহীদ তাজউদ্দীন আহমদ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে রাখা হয়েছে। তাদের মধ্যে তিনজন জঙ্গি।
দেয়াল টপকে পালানোর ঘটনাটি মঙ্গলবার (৬ আগস্ট) ঘটলেও বিষয়টি গণমাধ্যমকে কাশিমপুর হাই সিকিউরিটি কারাগারের জেল সুপার সুব্রত কুমার বালা জানান আজ বুধবার (৭ আগস্ট)।
তিনি বলেন, পালানোর সময় এনকাউন্টারে ছয়জন বন্দী মারা গেছে। এছাড়া দেয়াল টপকে দাঙ্গা করে বেরিয়ে গেছে ২০৯ জন বন্দী। এখন সেনাবাহিনীর নিয়ন্ত্রণে পরিবেশ স্বাভাবিক আছে।
নিহতরা হলো গুলশানে হলি আর্টিজানে জঙ্গি হামলা মামলার আসামি নরসিংদীর নলভাটা এলাকার মো. জিন্নাহ (২৮) ও নওগাঁর কাঞ্চনপুর এলাকার আসলাম হোসেন মোহন, একই মামলায় মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত আসামি আফজাল হোসেন (৬৩), হত্যা মামলার আসামি মৌলভীবাজারের রামেশ্বপুরের ইমতিয়াজ পাভেল (২৪), টাঙ্গাইলের তারটিয়া এলাকার স্বপন শেখ (৪০) ও সুনামগঞ্জের জলোশা এলাকার আয়াতুল্লাহ (৩৯)।
উল্লেখ্য, গাজীপুরের কাশিমপুর কারা কমপ্লেক্সের ভেতর একটি মহিলা কারাগারসহ চারটি কেন্দ্রীয় কারাগার রয়েছে। সেগুলোর মধ্যে হাইসিকিউরিটি কেন্দ্রীয় কারাগারে বিডিআর বিদ্রোহ মামলার সাজাপ্রাপ্ত আসামি, জঙ্গি, ফাঁসি ও যাবজ্জীবনসহ দুর্ধর্ষ আসামিরা বন্দী রয়েছে। এছাড়া রয়েছে রাজনৈতিক মামলায় গ্রেপ্তার অনেক নেতা-কর্মীও।
জানা গেছে, মঙ্গলবার বেলা ১১টায় কারাগারের বন্দীরা কারারক্ষীদের জিম্মি করে মুক্তির দাবিতে বিদ্রোহ শুরু করে। পরে কারারক্ষীরা তাদের শান্ত করার চেষ্টা করে ব্যর্থ হয়। দেশের চলমান পরিস্থিতিতে আগে থেকে কারা অভ্যন্তরে অল্পসংখ্যক সেনা সদস্য দায়িত্ব পালন করছিল। তারাও বন্দীদের নিয়ন্ত্রণ করার চেষ্টা করে ব্যর্থ হয়। পরে উত্তেজনা বেড়ে গেলে বেলা দেড়টার দিকে অতিরিক্ত সেনা সদস্য হেলিকপ্টার যোগে কারা অভ্যন্তরে এসে বন্দীদের শান্ত করে।
এদিকে, কারা অভ্যন্তরে বিদ্রোহের খবর পেয়ে বন্দীদের স্বজনরা সকাল থেকে কারাগারের সামনে অবস্থান করে। এ সময় কারাগারের বাইরে একটি ঝুট গুদামে অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটে। পরে সেনাবাহিনীর সদস্যরা তাদের ধাওয়া করে ছত্রভঙ্গ করে দেয়।























