
ভারত-পাকিস্তান উত্তেজনা নতুন মাত্রা পেয়েছে। কাশ্মীরের পেহেলগামে সন্ত্রাসী হামলার ঘটনার জেরে ভারত মঙ্গলবার রাতে “অপারেশন সিঁদুর” নামে পাকিস্তানের ছয়টি শহরে ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালায়। পাকিস্তানের আন্তবাহিনী জনসংযোগ পরিদপ্তর (ISPR)-এর মহাপরিচালক লেফটেন্যান্ট জেনারেল আহমেদ শরীফ চৌধুরী জানান, এই হামলায় ২৬ জন বেসামরিক নাগরিক নিহত এবং অন্তত ৪৬ জন আহত হয়েছেন।
এ ঘটনার পর পাকিস্তান রাতেই নিয়ন্ত্রণরেখার ওপারে পাল্টা হামলা চালায়। এই চলমান সংঘর্ষে দুই দেশের মধ্যে সামরিক উত্তেজনা সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছেছে।
সীমান্তবর্তী বিমানবন্দর বন্ধ ও ফ্লাইট বাতিল
উত্তর ও পশ্চিম ভারতের বেশ কয়েকটি বিমানবন্দর আজ বুধবার ভোর থেকে বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে। ভারতীয় বেসরকারি বিমান সংস্থাগুলো — এয়ার ইন্ডিয়া, ইন্ডিগো, স্পাইসজেট, এয়ার ইন্ডিয়া এক্সপ্রেস — একযোগে জানায়, যাত্রীদের নিরাপত্তার স্বার্থে জম্মু, শ্রীনগর, লেহ, যোধপুর, অমৃতসর, ভুজ, জামনগর, চণ্ডীগড়, ধর্মশালা ও বিকানিরগামী সমস্ত ফ্লাইট স্থগিত রাখা হয়েছে বা বাতিল করা হয়েছে।
শ্রীনগর বিমানবন্দর থেকে আজ কোনো উড়োজাহাজ উড়বে না, নামবেও না। বেশ কয়েকটি আন্তর্জাতিক ফ্লাইট দিল্লিতে নামানো হয়েছে।
পাকিস্তানে জরুরি অবস্থা, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বন্ধ
ভারতের হামলার জবাবে পাকিস্তানের পাঞ্জাব প্রদেশে জরুরি অবস্থা জারি করেছেন মুখ্যমন্ত্রী মরিয়ম নওয়াজ শরিফ।
এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি বলেন,
“সব চিকিৎসক ও স্বাস্থ্যকর্মীদের ছুটি বাতিল করা হয়েছে। বেসামরিক প্রতিরক্ষা কর্মীদের নিজ নিজ দায়িত্বে ফিরতে বলা হয়েছে। জরুরি সেবাপ্রতিষ্ঠানগুলোকে সর্বোচ্চ সতর্ক থাকতে বলা হয়েছে।”
তিনি আরও বলেন, “আমরা শান্তি চাই, তবে তা সম্মানের সঙ্গে। যদি যুদ্ধ চাপিয়ে দেওয়া হয়, তাহলে পাকিস্তানের জনগণ সেনাবাহিনীর পাশে ঐক্যবদ্ধ হয়ে দাঁড়াবে।”
জাতিসংঘের উদ্বেগ
জাতিসংঘ মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস ভারত-পাকিস্তান সংঘর্ষে উভয় পক্ষকে সামরিক সংযম দেখানোর আহ্বান জানিয়েছেন। এক বিবৃতিতে তিনি বলেন,
“বিশ্ব আর ভারত-পাকিস্তানের মধ্যে নতুন কোনো সামরিক সংঘাত সহ্য করতে পারবে না।”
জাতিসংঘের ওয়েবসাইটে এই বিবৃতি প্রকাশিত হয়েছে, যেখানে বিশ্বব্যাপী উদ্বেগের কথা জানানো হয়।























