
আওয়ামী লীগের সভাপতি ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ছাত্র-জনতার আন্দোলনের মুখে পদত্যাগ করে দেশ ত্যাগ করার পর থেকে দলটি অভিভাবকহীন হয়ে পড়েছে। একসময় দেশের অন্যতম প্রধান রাজনৈতিক দল হিসেবে ক্ষমতায় থাকা আওয়ামী লীগের বর্তমান অবস্থা নেতাকর্মীদের হতাশায় নিমজ্জিত করেছে। দলের শীর্ষ নেতাদের অনেকেই দেশ ছেড়েছেন বা আত্মগোপনে চলে গেছেন, যার ফলে তৃণমূলের নেতাকর্মীরা রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ নিয়ে চরম উদ্বেগে রয়েছেন।
শেখ হাসিনার হঠাৎ দেশ ত্যাগের পর থেকে কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের অভাবে দলের তৃণমূল পর্যায়ে কার্যক্রম স্থবির হয়ে পড়েছে। দীর্ঘদিন ক্ষমতায় থাকা আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা এখন তাদের ভবিষ্যৎ নিয়ে সংশয়ে দিন কাটাচ্ছেন। দলের একজন জেলা পর্যায়ের নেতা বলেন, “আমাদের নেতৃত্ব দিশাহারা, কেউ কোনও নির্দেশনা দিচ্ছে না। কেউ ফোনও ধরছে না। হামলা-মামলা নিয়ে আমাদের নেতাকর্মীরা ভীত-সন্ত্রস্ত অবস্থায় আছেন।”
আওয়ামী লীগ কর্মীদের অনেকেই এখন রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড থেকে সরে আসার কথা ভাবছেন। ফরিদপুরের এক কর্মী জানান, “রাজনীতির জন্য আমরা অনেক কিছু ত্যাগ করেছি, কিন্তু এখন এমন একটা অবস্থায় এসে পড়েছি যে, সংসার চালানোও কঠিন হয়ে পড়েছে।”
শীর্ষ নেতাদের পালানোর খবরে দলের কর্মীদের মধ্যে হতাশা আরও বেড়েছে। একটি সংবাদমাধ্যমে দেওয়া সাক্ষাৎকারে দলের এক কর্মী বলেন, “আমাদের নেতারা এতদিন ক্ষমতায় থেকে নিজেদের সুবিধা নিয়েছে, আর আজ আমাদের মতো সাধারণ কর্মীরা তাদের পাপের ফল ভোগ করছি।”
শেখ হাসিনার দেশত্যাগের বিষয়টি এখনও অনেক নেতাকর্মীর কাছে অবিশ্বাস্য মনে হচ্ছে। ঢাকার এক নেতার মতে, “আমরা এখনও বিশ্বাস করতে পারছি না যে শেখ হাসিনা দেশ ছেড়ে চলে গেছেন। তিনি কখনো এমন করতে পারেন বলে আমরা ভাবিনি।”
এ অবস্থায় দলটির ভবিষ্যৎ নিয়ে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে। দল পুনর্গঠনের দায়িত্ব কার হাতে যাবে এবং নতুন নেতৃত্ব দলের এই কঠিন পরিস্থিতি সামাল দিতে পারবে কিনা তা নিয়ে দলীয় কর্মীদের মধ্যে উদ্বেগ বিরাজ করছে।























