
চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের অর্থায়ন ও জমিতে প্রতিষ্ঠিত প্রিমিয়ার বিশ্ববিদ্যালয় এখন পুরোপুরি সাবেক শিক্ষামন্ত্রী মহিবুল হাসান চৌধুরীর পরিবারের নিয়ন্ত্রণে চলে গেছে। ২০০১ সালে চট্টগ্রামের প্রবর্তক মোড়ে শুরু করা এই বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়টি সিটি করপোরেশনের অর্থায়নে পরিচালিত হচ্ছিল। তবে ২০১৫ সালে মহিবুল হাসানের প্রয়াত বাবা, এ বি এম মহিউদ্দিন চৌধুরী, বিশ্ববিদ্যালয়ের নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার চেষ্টা শুরু করেন।
মহিবুল হাসান চৌধুরী ২০১৮ সালে শিক্ষা উপমন্ত্রীর দায়িত্ব নেওয়ার পরের বছর পুরোপুরি বিশ্ববিদ্যালয়টি দখলে নেন। তাঁর বাবা, এ বি এম মহিউদ্দিন চৌধুরী, চট্টগ্রামের তিনবারের মেয়র ছিলেন এবং নগর আওয়ামী লীগের সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছিলেন। তবে মহিউদ্দিন চৌধুরীর মৃত্যুর পর বিশ্ববিদ্যালয়টির নিয়ন্ত্রণ নিয়ে আ জ ম নাছির উদ্দীনের সাথে তাঁর পরিবারের বিরোধ সৃষ্টি হয়।
চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন বিশ্ববিদ্যালয়ের ভবন নির্মাণ, শিক্ষক-কর্মচারীদের বেতনসহ বিভিন্ন খাতে প্রায় ৪৩ কোটি টাকা ব্যয় করেছে। বিশ্ববিদ্যালয়টির আয়-ব্যয়ের হিসাবও যথেষ্ট ভালো অবস্থায় রয়েছে। ২০২২ সালে প্রকাশিত ইউজিসির সর্বশেষ বার্ষিক প্রতিবেদনে দেখা যায়, প্রিমিয়ার বিশ্ববিদ্যালয়ের বার্ষিক আয় ৪৩ কোটি ৯৭ লাখ টাকা, এবং ব্যয় ৩৩ কোটি ১৪ লাখ টাকা, যার ফলে বছরে গড়ে ১০ কোটি টাকার বেশি মুনাফা করে থাকে বিশ্ববিদ্যালয়টি।
সিটি করপোরেশনের দাবি, বিশ্ববিদ্যালয়টি তাদের অর্থায়নে প্রতিষ্ঠিত হওয়ায় এটি তাদেরই নিয়ন্ত্রণে থাকা উচিত। ২০০১ সালে নগরের বিভিন্ন স্থানে বিশ্ববিদ্যালয়ের জমি কেনা এবং অন্যান্য খাতে ব্যয় করা অর্থের মোট পরিমাণ ৪৩ কোটি টাকা ছাড়িয়েছে। চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা শেখ মুহম্মদ তৌহিদুল ইসলাম জানান, শিক্ষা মন্ত্রণালয়কে সিটি করপোরেশন বিশ্ববিদ্যালয়টির নিয়ন্ত্রণ নিতে একটি চিঠি দিয়েছে, যাতে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার বিষয়টি উল্লেখ করা হয়েছে।
এদিকে, প্রিমিয়ার বিশ্ববিদ্যালয়ের বর্তমান ট্রাস্টি বোর্ড মহিবুল হাসান চৌধুরীর পরিবারের নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। বোর্ডে মহিবুলের মা ও ছোট ভাইসহ বিতর্কিত ব্যবসায়ী গোষ্ঠী এস আলম গ্রুপের কর্ণধার সাইফুল আলম ও তাঁর ভাই আবদুস সামাদ সদস্য হিসেবে রয়েছেন। বোর্ডের চেয়ারম্যান হিসেবে এখন মহিবুল হাসান নিজেই দায়িত্ব পালন করছেন।
সিটি করপোরেশন দাবি করেছে যে, বিশ্ববিদ্যালয়ের নিয়ন্ত্রণ পুনরুদ্ধার করার জন্য আইনগতভাবে তাদের অধিকার রয়েছে। বর্তমানে সিটি করপোরেশন এই বিষয়ে আইনি প্রক্রিয়ায় এগোচ্ছে।























