
করোনা মহামারির সময় অর্থনীতিকে সচল রাখতে বিশেষ ঋণ সুবিধা (মরিটোরিয়াম) এবং প্রণোদনার আওতায় প্রায় ২ লাখ কোটি টাকা ব্যবসায়ীদের দেওয়া হয়েছিল। এর ফলে দেশের অর্থনীতি একসময় ঘুরে দাঁড়ায় এবং ধনীর সংখ্যা বাড়তে থাকে। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, করোনার পর সাড়ে ৩ বছরে দেশে ২৫ হাজারেরও বেশি কোটিপতি বেড়েছে। কিন্তু একই সময়ে উচ্চ মূল্যস্ফীতি নিম্ন আয়ের মানুষের জীবনযাপন কঠিন করে তুলেছে।
চলতি বছরের জুন প্রান্তিক শেষে, ১ কোটি টাকার বেশি আমানতকারী হিসাবের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১ লাখ ১৯ হাজারে। ২০২০ সালের ডিসেম্বরে এই সংখ্যা ছিল ৯৩ হাজার ৮৯০টি। সুতরাং, মাত্র সাড়ে ৩ বছরে কোটিপতির সংখ্যা বেড়েছে ২৫ হাজার ১১০টি।
অন্যদিকে, মূল্যস্ফীতির চাপ সামলাতে হিমশিম খাচ্ছে সাধারণ মানুষ। দুই অঙ্কে পৌঁছানো মূল্যস্ফীতি নিত্যপণ্যের দামকে লাগামহীনভাবে বাড়িয়ে দিয়েছে। গত অর্থবছরে গড় মূল্যস্ফীতি ছিল ৯ দশমিক ৭৩ শতাংশ, যা চলতি বছরের জুলাই মাসে বেড়ে ১১ দশমিক ৬৬ শতাংশে দাঁড়ায়।
কেন্দ্রীয় ব্যাংকের কর্মকর্তা জানিয়েছেন, কোটি টাকার হিসাব মানেই ব্যক্তিগত কোটিপতি নয়। কারণ, অনেক প্রতিষ্ঠানও কোটি টাকার হিসাব পরিচালনা করে। এছাড়া ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠান একাধিক ব্যাংক হিসাব খুলতে পারে। সরকারি প্রতিষ্ঠান ও সংস্থার অনেক কোটিপতি হিসাবও এই তালিকায় রয়েছে।
বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর তথ্য মতে, ১৯৭২ সালে দেশে মাত্র ৫ জন কোটিপতি ছিল। ১৯৭৫ সালে তা বেড়ে ৪৭ জন হয়, এবং ১৯৮০ সালে এই সংখ্যা ৯৮ জনে দাঁড়ায়। এরপর থেকে ক্রমাগত কোটিপতি বাড়তে থাকে। ১৯৯০ সালে ৯৪৩টি, ১৯৯৬ সালে ২ হাজার ৫৯৪টি, ২০০১ সালে ৫ হাজার ১৬২টি, ২০০৬ সালে ৮ হাজার ৮৮৭টি, এবং ২০০৮ সালে কোটিপতির সংখ্যা দাঁড়ায় ১৯ হাজার ১৬৩টি।























