
নিউ ইয়র্কের বিখ্যাত ম্যাডিসন স্কোয়ার গার্ডেনে রবিবার নিজের নির্বাচনী প্রচারণায় উপস্থিত হয়েছিলেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রাক্তন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। প্রায় ১৯,৫০০ ধারণক্ষমতা সম্পন্ন এই জনসভায় শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত কেবল একের পর এক বিতর্কিত বক্তব্য আর বর্ণবাদী মন্তব্য দিয়ে উত্তাল হয়ে উঠেছিল সমগ্র প্রেক্ষাগৃহ। মূলত ডেমোক্রেটিক প্রার্থী কমলা হ্যারিসের বিরুদ্ধে তার প্রচারণা চালাতে এ আয়োজন করলেও সন্ধ্যার একপর্যায়ে এটি হয়ে উঠেছিল ভিন্নধারার একটি নাটকের মঞ্চ।

কঠোর অভিবাসন নীতির প্রতিশ্রুতি
জনসভায় ট্রাম্প আবারও তার কঠোর অভিবাসন নীতির কথা স্পষ্ট করেন। তিনি প্রথম দিন থেকেই যুক্তরাষ্ট্রে অবৈধ অভিবাসীদের বিরুদ্ধে সবচেয়ে বড় নির্বাসন কার্যক্রম শুরু করার প্রতিশ্রুতি দেন। “প্রথম দিন থেকেই আমি আমেরিকার সবচেয়ে বড় নির্বাসন প্রোগ্রাম শুরু করবো,” মন্তব্য করেন ট্রাম্প। তার লক্ষ্য, “সব শহর এবং গ্রামকে যারা দখল করেছে, তাদের থেকে পুনরুদ্ধার করা।” এছাড়াও, ১৭৯৮ সালের ‘অ্যালিয়েন এনিমিজ অ্যাক্ট’ আইনের অধীনে অভিবাসী অপরাধীদের বিতাড়নের পরিকল্পনা ব্যক্ত করেন।
সমর্থকদের বিতর্কিত মন্তব্যের ঝড়
জনসভায় একাধিক সমর্থক অপমানজনক ও বর্ণবাদী বক্তব্য দিয়ে উত্তেজনা ছড়ান। গুলিয়ানি কমলা হ্যারিসের দিকে অভিযোগের তীর ছুঁড়ে বলেন, “তিনি সন্ত্রাসীদের পক্ষ নিয়েছেন,” যা উপস্থিত জনতার মধ্যে ব্যাপক উত্তেজনা সৃষ্টি করে। এর পাশাপাশি কমেডিয়ান টনি হিঞ্চক্লিফ লাতিনো সম্প্রদায়ের প্রতি অবমাননাকর মন্তব্য করেন এবং পুয়ের্তো রিকোকে “ভাসমান আবর্জনার দ্বীপ” বলে উল্লেখ করেন। তার এই বক্তব্যে পুয়ের্তো রিকান গায়ক রিকি মার্টিন সোশ্যাল মিডিয়ায় প্রতিবাদ জানিয়ে বলেন, “এটাই তারা আমাদের সম্পর্কে ভাবে।”

হ্যারিসের প্রতিক্রিয়া ও সমর্থনের বার্তা
কমলা হ্যারিস অবশ্য এইসব বিতর্ককে উপেক্ষা করে ফিলাডেলফিয়ার একটি পুয়ের্তো রিকান রেস্টুরেন্ট পরিদর্শন করেন এবং পুয়ের্তো রিকোর উন্নয়নে বিনিয়োগের প্রতিশ্রুতি দেন। তিনি ট্রাম্পের জনসভা সম্পর্কে মন্তব্য করেন, “এই জনসভা সেই একই বিভাজনমূলক এবং নীচু মানসিকতার বার্তা বহন করছে, যা ট্রাম্প সবসময় করেন।”

ফেডারেল বাজেট নিয়ে ইলন মাস্কের বক্তব্য
জনসভায় টেক উদ্যোক্তা ইলন মাস্ক তার উপস্থিতি দিয়ে উপস্থিত জনতাকে আরও উত্তেজিত করে তুলেন। তিনি যুক্তরাষ্ট্রের ফেডারেল বাজেট কমানোর বিষয়ে ট্রাম্পের সমর্থন জানিয়ে বলেন যে, এটি প্রায় দুই ট্রিলিয়ন ডলার হ্রাস করা সম্ভব। তিনি এটিকে “মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সত্যিকারের ইতিবাচক শক্তি” হিসেবে অভিহিত করেন।

আসন্ন নির্বাচনের চিত্র
একাধিক জরিপে দেখা যাচ্ছে যে, আসন্ন নির্বাচনে কমলা হ্যারিস এবং ট্রাম্প উভয়ের মধ্যে হাড্ডাহাড্ডি লড়াই হচ্ছে। ট্রাম্প তার বক্তব্যে বর্তমান অর্থনৈতিক অবস্থা ও অভিবাসন নীতির ব্যর্থতার জন্য হ্যারিসকে দায়ী করেন। তার প্রতিশ্রুতি, “তিনি যা নষ্ট করেছেন, আমি তা ঠিক করবো।” অন্যদিকে, হ্যারিস বলেন, “তিনি কেবল অভিযোগ তুলছেন, এবং তার ভাষায় প্রতিশোধ আর ঘৃণার সুর ছাড়া কিছু নেই।”























