
শেখ হাসিনার সরকারের পতনের পর মঙ্গলবার (৬ আগস্ট) বাংলাদেশের শেয়ারবাজারে এক নতুন উল্লম্ফন দেখা গেছে। ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জে (ডিএসই) এই দিনে ৮৩ শতাংশ কোম্পানির শেয়ারের দাম বৃদ্ধি পেয়েছে, যার ফলে প্রধান সূচক ১৯৭ পয়েন্ট বেড়ে ৫,৪২৬ পয়েন্টে পৌঁছেছে। আজকের লেনদেনের পরিমাণ ৭৪৯ কোটি ৯৯ লাখ টাকা হয়েছে, যা আগের কার্যদিবসের তুলনায় ৫৪২ কোটি ১৬ লাখ টাকা বৃদ্ধি পেয়েছে।
চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জ (সিএসই) তেও দামের বৃদ্ধি লক্ষ্য করা গেছে। সিএসইয়ের সূচক ৪৬৭ পয়েন্ট বেড়ে মূল্যসূচক বৃদ্ধি পেয়েছে। এখানে লেনদেনের পরিমাণ ৯ কোটি ২৯ লাখ টাকা, যা আগের দিনের তুলনায় উল্লেখযোগ্য বৃদ্ধি দেখিয়েছে।
গত কয়েক মাস ধরে শেয়ারবাজারের মন্দা অবস্থা চলছিল, বিশেষ করে কোটা সংস্কার আন্দোলনের পর দেশের রাজনৈতিক অস্থিরতা বৃদ্ধি পায়। সেই সময় দেশের সাধারণ ছুটি ঘোষণার কারণে শেয়ারবাজারের লেনদেন বন্ধ ছিল। তবে শেখ হাসিনার পদত্যাগের পর মঙ্গলবার থেকে সরকারি-বেসরকারি সকল অফিস খুলে দেওয়া হয় এবং শেয়ারবাজারে লেনদেন শুরু হয়।
ডিএসইতে একদিনের মধ্যে ১০৭টি প্রতিষ্ঠানের শেয়ারের দাম সর্বোচ্চ সীমায় পৌঁছেছে। ট্রাস্ট ব্যাংক, উত্তরা ব্যাংক এবং অগ্নি সিস্টেম উল্লেখযোগ্য লেনদেনে অবদান রেখেছে। ট্রাস্ট ব্যাংকের শেয়ারের লেনদেন হয়েছে ৪৮ কোটি ৩৫ লাখ টাকা, উত্তরা ব্যাংকের ৪৩ কোটি ৭১ লাখ টাকা, এবং অগ্নি সিস্টেমের ২৩ কোটি ৭৯ লাখ টাকা।
ডিএসইর অন্যান্য সূচকগুলোর মধ্যে ডিএসই শরিয়াহ্ সূচক ৩২ পয়েন্ট বৃদ্ধি পেয়ে ১,১৭৬ পয়েন্টে পৌঁছেছে, এবং ডিএসই-৩০ সূচক ৭৫ পয়েন্ট বেড়ে ১,৯৩৪ পয়েন্টে উঠে এসেছে। বাজারের এ উল্লম্ফন নতুন করে বিনিয়োগকারীদের মধ্যে আশার সঞ্চার করেছে।
ডিএসইর একাধিক সদস্যের মতে, সাম্প্রতিক সময়ে শেয়ারবাজারে ব্যাপক অনিয়ম হয়েছে এবং কারসাজির মাধ্যমে অর্থ হাতিয়ে নেওয়া হয়েছে। তবে শেখ হাসিনার সরকারের পতনের পর বাজারে ইতিবাচক প্রবণতা দেখা যাচ্ছে। একদিনের উত্থান থেকে পুরো বাজারের পরিবর্তন নির্ধারণ করা সম্ভব নয়, কিন্তু আগামীদিনগুলো শেয়ারবাজারের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।























