
আমেরিকার তৃতীয় সর্বাধিক জনবহুল রাজ্য ফ্লোরিডা, যেটি ‘সানশাইন স্টেট’ নামে পরিচিত। প্রতি বছর প্রায় ৩০০ দিন রোদেলা আবহাওয়ার জন্য এই নামটি প্রায় সবার কাছে পরিচিত। ফ্লোরিডার উষ্ণ আবহাওয়া এবং আনন্দময় পরিবেশই দেশ-বিদেশের মানুষকে এখানে আসতে আকৃষ্ট করে। ফ্লোরিডার মজার তথ্যগুলো জানলে হয়তো আপনি আরও মুগ্ধ হবেন।
প্রথমেই আসি ফ্লোরিডার বিখ্যাত ওয়াল্ট ডিজনি রিসোর্টের কথায়। প্রতি বছর প্রায় ৪৬ মিলিয়ন মানুষ এই রিসোর্টে ভ্রমণ করতে আসে। ফ্লোরিডার সবচেয়ে বড় আকর্ষণগুলোর মধ্যে এটি অন্যতম। ১৯৪৪ সালে মিয়ামি বিচে বেঞ্জামিন গ্রিন প্রথমবারের মতো সানট্যান লোশন আবিষ্কার করেছিলেন, যেটি সূর্যের তীব্রতা থেকে ত্বক রক্ষা করে।

ফ্লোরিডায় রয়েছে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সবচেয়ে বেশি সংখ্যক গলফ কোর্স; প্রায় ১,৩০০টি। এছাড়া, ফ্লোরিডা তার কমলার উৎপাদনের জন্যও বিখ্যাত। যুক্তরাষ্ট্রের ৭৫ শতাংশ কমলা উৎপাদিত হয় ফ্লোরিডাতেই! পাশাপাশি বিশ্বব্যাপী অরেঞ্জ জুসের চাহিদার ৪০ শতাংশ যোগান দেয় ফ্লোরিডা।

কেবল গলফ বা অরেঞ্জই নয়, ফ্লোরিডার আরও অনেক আকর্ষণীয় দিক রয়েছে। যেমন, ফ্লোরিডার সবচেয়ে পুরানো গাছটির বয়স প্রায় ৩,৫০০ বছর। এটি অবস্থিত লংউডের উত্তরে বিগ ট্রি পার্কে।
আপনি কি জানেন? গেটোরেডের নামকরণ করা হয়েছিল ইউনিভার্সিটি অফ ফ্লোরিডা গেটর্সের নামানুসারে, যেখানে এটি প্রথম তৈরি হয়েছিল। ফ্লোরিডার আরও একটি মজার ফিচার হলো, এটি পৃথিবীর একমাত্র স্থান যেখানে অ্যালিগেটর এবং কুমির একসঙ্গে একই স্থানে বসবাস করে।

এবার আসি ফ্লোরিডার সুন্দর পরিবেশের কথায়। ফ্লোরিডার গ্রীষ্মকাল খুবই উষ্ণ এবং শীতকাল অত্যন্ত মৃদু। এই উষ্ণ আরামদায়ক আবহাওয়ার কারণে যুক্তরাষ্ট্রের অন্যান্য স্থান থেকে বহু মানুষ এখানে এসে বসবাস করতে পছন্দ করেন, বিশেষত অবসরপ্রাপ্তরা।
শেষে, আরেকটি তথ্য জানিয়ে রাখি, গ্রেটার মায়ামি হলো আমেরিকার একমাত্র মেট্রোপলিটন এলাকা যেখানে দুটি জাতীয় উদ্যান রয়েছে: প্রিসটিন এভারগ্লেডস ন্যাশনাল পার্ক এবং ছবির মতো সুন্দর বিসকেইন ন্যাশনাল পার্ক।
ফ্লোরিডার এমন সব বিস্ময়কর দিক জানার পর আপনিও যদি রোদেলা দিন এবং মনোরম সৌন্দর্যের সান্নিধ্য পেতে চান, তাহলে দ্রুত পরিকল্পনা করুন একটি ফ্লোরিডা ভ্রমণের। এখানে আসুন এবং অনুভব করুন ফ্লোরিডার অপার সৌন্দর্য ও বৈচিত্র্য!























