Google search engine

বাংলাদেশের ক্ষুদ্র জাতিগোষ্ঠী থেকে উঠে আসা প্রথম পুরুষ ক্রিকেটার

মিরপুর শেরেবাংলা স্টেডিয়ামে চলছে অনূর্ধ্ব-১৯ ক্রিকেট দলের বিশেষ ক্যাম্প, যেখানে ২০২৬ অনূর্ধ্ব-১৯ বিশ্বকাপকে সামনে রেখে সারা দেশ থেকে বাছাই করা ৩০ জন ক্রিকেটার অংশ নিচ্ছেন। এখান থেকেই চূড়ান্ত দল গঠনের পরিকল্পনা করছেন নির্বাচকরা। তবে এই ক্যাম্পে সবচেয়ে বেশি আলোচনায় এসেছেন ছয় ফুট তিন ইঞ্চি লম্বা পেসার অনিক দেব বর্মণ, যিনি বাংলাদেশের ক্ষুদ্র জাতিগোষ্ঠী থেকে উঠে আসা প্রথম পুরুষ ক্রিকেটার হিসেবে একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক স্পর্শ করেছেন।

অনিকের ক্রিকেটে আসার গল্পটি বেশ চমকপ্রদ। হবিগঞ্জের বাহুবল উপজেলার কালিগুচিয়া গ্রামের ত্রিপুরা জাতিগোষ্ঠীর ছেলে অনিক শুরুতে ফুটবলমুখী পরিবার থেকে ক্রিকেটে আসতে অনেক বাধার সম্মুখীন হন। গ্রামের ছোট মাঠে ফুটবল খেলেই বড় হওয়া অনিকের মধ্যে ক্রিকেটের প্রতি আকর্ষণ জন্মায় টিভিতে খেলা দেখে। বাবার বাধা সত্ত্বেও পালিয়ে খেলায় যোগ দিতেন, যার জন্য মারও খেতে হতো। তবু নিজের স্বপ্ন পূরণের দৃঢ়তা তাকে কখনো পিছিয়ে দেয়নি।

পঞ্চম শ্রেণিতে পড়াকালীন শ্রীমঙ্গলে এসে তাঁর পরিবার স্থায়ী হয়। এখান থেকেই অনিকের ক্রিকেট যাত্রা শুরু হয়। শ্রীমঙ্গলের একটি ছোট্ট একাডেমিতে প্রাথমিক শিক্ষা লাভ করার পর মৌলভীবাজার অনূর্ধ্ব-১৬ পর্যায়ে দু’বার ট্রায়াল দিয়ে সফল হন তিনি। এরপর হবিগঞ্জ জেলা থেকে সুযোগ পেয়ে আরও উন্নতি করেন। তাঁর বোলিং ভিডিও বিসিবির কোচ এবং সাবেক পেসার নাজমুল হোসেনের নজরে আসার পর থেকে আর পেছনে ফিরে তাকাতে হয়নি।

এ বছরের শুরুতে শেখ কামাল অনূর্ধ্ব-১৮ জাতীয় ক্রিকেট টুর্নামেন্টে অনিকের ভালো পারফরম্যান্স তাকে বাংলাদেশ অনূর্ধ্ব-১৯ দলে স্থান করে দিয়েছে। জাতীয় দলের পেসার তাসকিন আহমেদ অনিকের অনুপ্রেরণা। দেশের বাইরে শোয়েব আখতার এবং ব্রেট লির বোলিং তাকে মুগ্ধ করে। তাসকিনদের দেখানো পথ ধরেই অনিকের স্বপ্ন এখন জাতীয় দলে খেলা।

অনিকের এই পথচলা শুধু তার নিজের নয়, বরং পুরো ক্ষুদ্র জাতিগোষ্ঠীর জন্যও এক বড় স্বপ্নের দিশারী হয়ে উঠেছে। তার সাফল্য যেন এ দেশের অগণিত তরুণ ক্রিকেটারের জন্য প্রেরণা হয়ে থাকে।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

- Advertisement -

More articles

Latest