Google search engine

তারেক রহমানের বিরুদ্ধে যত মামলা

আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর বিএনপির নেতাকর্মীরা এখন দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের দেশে প্রত্যাবর্তনের অপেক্ষায় রয়েছেন। তাদের বিশ্বাস, তিনি দ্রুত দেশে ফিরবেন। বিএনপি নেতাদের মতে, তারেক রহমান বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের রাজনৈতিক প্রতিহিংসার শিকার হয়েছেন। তার বিরুদ্ধে ২১ অগাস্ট গ্রেনেড হামলা মামলাসহ অর্ধশতাধিক মামলা রয়েছে, যা মূলত ২০০৭ সালের তত্ত্বাবধায়ক সরকার এবং পরবর্তী সময়ে আওয়ামী লীগ সরকার ক্ষমতায় আসার পর দায়ের করা হয়েছে। বিবিসির এক প্রতিবেদনে তারেক রহমানের উল্লেখযোগ্য মামলাগুলো উঠে এসেছে।

২১ অগাস্ট গ্রেনেড হামলা মামলা:
২০০৪ সালের ২১ অগাস্ট ঢাকার বঙ্গবন্ধু এভিনিউতে আওয়ামী লীগের রাজনৈতিক সমাবেশে গ্রেনেড হামলা হয়। আওয়ামী লীগ সভানেত্রী শেখ হাসিনা ও কয়েকজন শীর্ষ নেতা অল্পের জন্য প্রাণে বাঁচলেও, হামলায় ২৪ জন নিহত এবং চারশোর বেশি নেতাকর্মী আহত হন। ২০০৭ সালে তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সময় হামলার ঘটনার পুনঃতদন্ত শুরু হয়, এবং আওয়ামী লীগ সরকার ক্ষমতায় আসার পর অধিকতর তদন্ত করা হয়। পরবর্তীতে তারেক রহমানসহ ৩০ জনকে আসামি করে সম্পূরক অভিযোগপত্র দেওয়া হয়। বিচারিক আদালত এ মামলায় ১৯ জনকে মৃত্যুদণ্ড এবং ১৯ জনকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেন, যার মধ্যে তারেক রহমানকেও যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেওয়া হয়।

জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট দুর্নীতির মামলা:
২০০৮ সালে তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সময় জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট দুর্নীতির মামলা করে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। অভিযোগ ছিল, এতিমদের জন্য বিদেশ থেকে পাওয়া ২ কোটি ১০ লাখ টাকার বেশি অর্থ ট্রাস্টের কাজে ব্যবহার না করে আত্মসাৎ করা হয়েছে। এ মামলায় বিএনপি চেয়ারপার্সন খালেদা জিয়াকে পাঁচ বছরের কারাদণ্ড এবং তারেক রহমানসহ অন্য পাঁচ আসামিকে ১০ বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয়।

জ্ঞাত আয় বহির্ভূত সম্পদের মামলা:
২০০৭ সালে তত্ত্বাবধায়ক সরকারের আমলে তারেক রহমান, তার স্ত্রী জুবাইদা রহমান, ও তার শাশুড়ি সৈয়দা ইকবাল বানুর বিরুদ্ধে দুদক একটি মামলা করে। অভিযোগ ছিল, তারেক ও তার স্ত্রীর ঘোষিত আয়ের বাইরেও ৪ কোটি ৮০ লাখ টাকার অবৈধ সম্পদ রয়েছে। গত বছরের ২ অগাস্ট ঢাকার একটি আদালত এ মামলায় তারেককে নয় বছরের এবং তার স্ত্রীকে তিন বছরের কারাদণ্ড দেয়।

অর্থপাচার মামলা:
২০১৩ সালের ১৭ নভেম্বর সিঙ্গাপুরে অর্থ পাচারের মামলায় ঢাকার একটি আদালত তারেক রহমানকে খালাস দেয়। তবে তার বন্ধু ও ব্যবসায়ী গিয়াস উদ্দিন আল মামুনকে সাত বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয়।

মানহানির মামলায় দণ্ড:
২০১৪ সালে লন্ডনে এক সমাবেশে শেখ মুজিবুর রহমানকে রাজাকার ও পাক বন্ধু বলে উল্লেখ করার অভিযোগে তারেক রহমানের বিরুদ্ধে মানহানির মামলা হয়। নড়াইলের মুক্তিযোদ্ধা শাহজাহান বিশ্বাসের দায়ের করা এ মামলায় ২০২১ সালের ৪ ফেব্রুয়ারি নড়াইলের আদালত তারেক রহমানকে দুই বছরের কারাদণ্ড দেয়। ঢাকার আদালতে তার বিরুদ্ধে মানহানির আরও অন্তত ১০টি মামলা বিচারাধীন রয়েছে।

রাষ্ট্রদ্রোহের মামলা:
২০১৫ সালের ৮ জানুয়ারি তেজগাঁও থানায় করা রাষ্ট্রদ্রোহের মামলায় তারেক রহমান এবং একুশে টেলিভিশনের চেয়ারম্যান আবদুস সালামের বিরুদ্ধে অভিযোগ আনা হয়। অভিযোগে বলা হয়, তারা মিথ্যা ও বিভ্রান্তিকর তথ্য প্রচার করে দেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্বের প্রতি হুমকি সৃষ্টি করেছেন। এ মামলায় তারেকের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানাও রয়েছে। এছাড়া নোয়াখালীতে তার বিরুদ্ধে আরেকটি রাষ্ট্রদ্রোহের মামলা রয়েছে এবং ঢাকাসহ বিভিন্ন জেলায় তার বিরুদ্ধে ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনের মামলাও রয়েছে।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

- Advertisement -

More articles

Latest