
দেশের দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলে ভয়াবহ বন্যার কারণে চার দিন বন্ধ থাকার পর আজ সোমবার (২৬ আগস্ট) রাতে ঢাকা–চট্টগ্রাম রুটে ট্রেন চলাচল পুনরায় শুরু হচ্ছে। রাত সাড়ে ১১টায় চট্টগ্রাম স্টেশন থেকে ঢাকার উদ্দেশে প্রথম আন্তঃনগর ট্রেন তূর্ণা এক্সপ্রেস ছেড়ে আসবে। এরপর রাত পৌনে ১২টায় চট্টগ্রাম ছেড়ে যাবে ঢাকাগামী চট্টগ্রাম মেইল ট্রেন।
রেলওয়ের বিভাগীয় ব্যবস্থাপক (চট্টগ্রাম) মো. সাইফুল ইসলাম জানান, “আজ রাতে ট্রেন চলাচল শুরু হবে এবং আগামীকাল মঙ্গলবার থেকে নির্ধারিত সময়সূচি অনুযায়ী সবকটি ট্রেন চালানোর পরিকল্পনা রয়েছে।”
বন্যার ফলে ফেনী থেকে ফাজিলপুর পর্যন্ত দুইটি রেললাইনই ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। স্মরণকালের এই ভয়াবহ বন্যায় রেলসেতুর ওপর পর্যন্ত পানি উঠেছিল। ট্রেন চললে যাত্রীদের বিপদের পাশাপাশি রেলসম্পদেরও ক্ষতি হওয়ার আশঙ্কায় ঢাকা–চট্টগ্রাম রেলপথ বন্ধ রাখা হয়েছিল।
মো. সাইফুল ইসলাম বলেন, “দুটি ট্র্যাকের মধ্যে বন্যার স্রোতে চট্টগ্রাম থেকে ঢাকামুখী লাইনটি বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ঢাকা থেকে চট্টগ্রামমুখী ডাউনট্র্যাক তুলনামূলকভাবে কম ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এখন এগুলো সংস্কার করে ট্রেন চলাচলের উপযোগী করা হয়েছে।”
রেলওয়ের তথ্যমতে, ফেনী থেকে ফাজিলপুর পর্যন্ত রেললাইন পানিতে ডুবে গিয়েছিল। অনেক জায়গায় রেলসেতুর ওপর দিয়ে পানি চলাচল করছিল এবং কুমিল্লায় রেললাইন উপড়ে যাওয়ার খবর পাওয়া গেছে। ফেনী স্টেশনে বন্যার পানি জমে ছিল।
চট্টগ্রাম থেকে ঢাকা, জামালপুর, সিলেট এবং চাঁদপুরে প্রতিদিন ১১টি আন্তঃনগর ট্রেন চলাচল করে। এছাড়া কক্সবাজার, নাজিরহাট, চাঁদপুর, ঢাকা, ময়মনসিংহে লোকাল ও কমিউটার ট্রেন চলাচল করে নিয়মিত। এ পথে মোট ২০টি যাত্রীবাহী ট্রেন ও ৫-৬টি পণ্যবাহী ট্রেন চলাচল করে।
গত বুধবার থেকে কুমিল্লা ও ফেনীর বন্যা পরিস্থিতির অবনতি হতে থাকে। টানা ও ভারী বৃষ্টির পাশাপাশি ভারত থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলের কারণে মৌলভীবাজার, হবিগঞ্জ, ব্রাহ্মণবাড়িয়া, কুমিল্লা, ফেনী, নোয়াখালী, খাগড়াছড়ি ও চট্টগ্রামের বিভিন্ন এলাকা প্লাবিত হয়েছে।























