
২০০৯ থেকে ২০২৪ সাল পর্যন্ত আওয়ামী লীগ নেতৃত্বাধীন সরকারের শাসনামলে দেশে বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ডের শিকার হয়েছেন ২ হাজার ৬৯৯ জন। একই সময়ে গুম হন ৬৭৭ জন, এবং কারাগারে মৃত্যুবরণ করেন ১ হাজার ৪৮ জন। মানবাধিকার সংগঠন ‘অধিকার’ এর পরিসংখ্যানে এই তথ্য উঠে এসেছে। অধিকার আরও উল্লেখ করেছে যে, বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনে নিহতদের তালিকাসহ ২০২৪ সালের ঘটনা যুক্ত করলে নিহতের সংখ্যা তিন হাজার ছাড়িয়ে যাবে।
অধিকারের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, আওয়ামী লীগ সরকার জবাবদিহিতা ও আইনের শাসন বজায় রাখতে ব্যর্থ হয়েছে। অকার্যকর বিচার ব্যবস্থার কারণে সরকারের আইন প্রয়োগকারী সংস্থার সদস্যদের ব্যবহার করে বিচারবহির্ভূত হত্যা, গুম, ও খুনের ঘটনা ঘটেছে। আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে রাজনৈতিক প্রতিপক্ষ, সমালোচক ও ভিন্ন মতাবলম্বীদের দমনের কাজে ব্যবহার করা হয়েছে। এসব হত্যার মধ্যে ক্রসফায়ার, নির্যাতন, বিরোধী রাজনৈতিক কর্মীদের গুলি, ব্যবসায়ীদের আটক করে মালামাল লুট, এবং নাগরিকদের গ্রেফতারের ভয় দেখিয়ে টাকা আদায়ের মতো ঘটনাও রয়েছে।
বিচারবহির্ভূত হত্যার পরিসংখ্যান:
অধিকারের তথ্য অনুযায়ী, ২০০৯ সালে বিচারবহির্ভূত হত্যার শিকার হন ১৫৪ জন। এরপর, ২০১০ সালে ১২৭ জন, ২০১১ সালে ৮৪ জন, ২০১২ সালে ৭০ জন, ২০১৩ সালে ৩২৯ জন, ২০১৪ সালে ১৭২ জন, ২০১৫ সালে ১৮৬ জন, ২০১৬ সালে ১৭৮ জন, ২০১৭ সালে ১৫৫ জন, ২০১৮ সালে ৪৬৬ জন, ২০১৯ সালে ৩৯১ জন, ২০২০ সালে ২২৫ জন, ২০২১ সালে ১০৭ জন, ২০২২ সালে ৩১ জন, এবং ২০২৩ সালে ২৪ জন বিচারবহির্ভূত হত্যার শিকার হয়েছেন।
গুমের পরিসংখ্যান:
এ দেড় দশকে ৬৭৭ জন গুমের শিকার হন। এর মধ্যে সবচেয়ে বেশি ৯৮ জন গুমের শিকার হন ২০১৮ সালে। ২০০৯ সালে ৩ জন, ২০১০ সালে ১৯ জন, ২০১১ সালে ৩২ জন, ২০১২ সালে ২৬ জন, ২০১৩ সালে ৫৪ জন, ২০১৪ সালে ৩৯ জন, ২০১৫ সালে ৬৭ জন, ২০১৬ সালে ৯০ জন, ২০১৭ সালে ৮৮ জন, ২০১৯ সালে ৩৪ জন, ২০২০ সালে ৩১ জন, ২০২১ সালে ২৩ জন, ২০২২ সালে ২১ জন, এবং ২০২৩ সালে ৫২ জন গুমের শিকার হন।
অন্যান্য মানবাধিকার সংস্থার তথ্য:
আইন ও সালিশ কেন্দ্র (আসক) এর নির্বাহী পরিচালক ফারুখ ফয়সলও এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন। তিনি বলেন, অধিকারের সঙ্গে আসকের তথ্যের মধ্যে সংখ্যাগত পার্থক্য খুবই কম। ২০১৫ থেকে ২০২৩ সাল পর্যন্ত আসকের তথ্য অনুযায়ী, ২৬০ জন গুমের শিকার হয়েছেন, যাদের মধ্যে ১৯২ জন এখনো নিখোঁজ। তাদের মধ্যে রাজনৈতিক নেতাকর্মী, শিক্ষার্থী ও ব্যবসায়ীও রয়েছেন।
বিগত বছরগুলোর পরিস্থিতি বিশ্লেষণ:
তথ্য বিশ্লেষণ করে দেখা যায়, নির্বাচনের বছরগুলোয় গুম ও বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ডের সংখ্যা অন্যান্য বছরের তুলনায় দ্বিগুণ ছিল। ২০১৮ সালে সর্বোচ্চ ৪৬৬ জনকে হত্যা করা হয়। গুমের সংখ্যা ও কারাগারে মৃত্যুবরণ করা ব্যক্তিদের সংখ্যাও এ বছরই সর্বাধিক ছিল।
মানবাধিকারকর্মী নূর খান বলেন, “দীর্ঘদিন বাংলাদেশে বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ড, গুম, খুনের ঘটনা ঘটেছে। এটি গুরুতর মানবতাবিরোধী অপরাধ। ক্রসফায়ার, আটক করে মুক্তিপণ দাবি, এবং পুলিশি হেফাজতে মৃত্যুসহ নানা পন্থায় এসব ঘটনা ঘটানো হয়েছে।”























