
রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনকে গ্রেপ্তার করা হতে পারে। মঙ্গোলিয়া তাকে গ্রেপ্তার করতে দায়বদ্ধ যদি তিনি মঙ্গোলিয়া সফরে যান। এ কথা জানিয়েছে আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালত (আইসিসি)।
আগামী সপ্তাহেই মঙ্গোলিয়া সফর করার কথা রয়েছে পুতিনের।
শুক্রবার (৩০ আগস্ট) যুক্তরাজ্য ভিত্তিক সংবাদমাধ্যম বিবিসি জানায়, আগামী মঙ্গলবার (৩ সেপ্টেম্বর) মঙ্গোলিয়ায় যাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে পুতিনের। এমন হলে ২০২৩ সালের মার্চে পুতিনকে গ্রেপ্তারের আদেশ দেওয়ার পর এটাই হবে আইসিসি সদস্যভুক্ত কোনো রাষ্ট্রে তাঁর প্রথম সফর।
আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালত পুতিনকে যুদ্ধাপরাধের জন্য অভিযুক্ত করে বলেছিল, ২০২২ সালের ফেব্রুয়ারিতে ইউক্রেনের সঙ্গে যুদ্ধ শুরুর পর দেশটি থেকে অসংখ্য শিশুকে বেআইনিভাবে রাশিয়ায় নিয়ে যাওয়ায় দায় রয়েছে পুতিনের।
এ অবস্থায় পুতিনের সম্ভাব্য সফরকে সামনে রেখে তাঁকে গ্রেপ্তারের বিষয়টি মঙ্গোলিয়াকে বারবার স্মরণ করিয়ে দিচ্ছে ইউক্রেন।
তবে পুতিন দপ্তর ক্রেমলিন বলছে, এই সফর নিয়ে তাদের কোনো উদ্বেগ নেই।
রাশিয়ার রাজধানী মস্কোতে ক্রেমলিনের মুখপাত্র দিমিত্রি পেসকভ এ বিষয়ে সাংবাদিকদের বলেছেন, মঙ্গোলিয়ায় অংশীদারদের সঙ্গে আমাদের চমৎকার সম্পর্ক রয়েছে। পুতিনের সফরের সমস্ত দিক নিয়ে রাশিয়া খুব সাবধানতা অবলম্বন করছে বলেও জানান পেসকভ।
আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতের সদস্যভুক্ত একটি রাষ্ট্রে গ্রেপ্তারের পরোয়া না করে পুতিন কীভাবে সফর করবেন এ বিষয়ে আদালতের মুখপাত্র ডক্টর ফাদি আল-আবদুল্লাহ বিবিসিকে জানান, আদালত তার সিদ্ধান্ত কার্যকর করতে মঙ্গোলিয়াসহ অন্যান্য সদস্য রাষ্ট্রের ওপর নির্ভর করে। অন্যান্য আইসিসি স্বাক্ষরকারী রাষ্ট্রের মতো মঙ্গোলিয়ারও সহযোগিতা করার বাধ্যবাধকতা রয়েছে। ২০২৩ সালে পুতিনকে গ্রেপ্তারে যে আদেশ জারি হয়েছিল সেটিও এই বাধ্যবাধকতার মধ্যে রয়েছে।
পুতিনের মঙ্গোলিয়া সফরের বিষয়ে ইউক্রেনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় বলেছে, তারা আশা করে, পুতিন যে একজন যুদ্ধাপরাধী এই সত্যটি সম্পর্কে মঙ্গোলিয়া সচেতন।
তাই সফরে গেলে পুতিনকে গ্রেপ্তার করে নেদারল্যান্ডসে অবস্থিত আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতের কাছে হস্তান্তর করার আহ্বান জানিয়েছে ইউক্রেন।
এর আগে গত বছর গ্রেপ্তারের পরোয়ানা থাকায় দক্ষিণ আফ্রিকায় নির্ধারিত একটি শীর্ষ সম্মেলনের সফর বাতিল করেছিলেন পুতিন।























