
২০২৮ সালের মধ্যে বৈশ্বিক ভিডিও গেমিং খাতের আয় প্রায় ৩১ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়ে ২৫ হাজার ৭০০ কোটি ডলারে পৌঁছাতে পারে। বেইন অ্যান্ড কোম্পানির মতে, ২০২৩ সালে এই বাজারের আকার ছিল ১৯ হাজার ৬০০ কোটি ডলার, যা স্ট্রিমিং সেবা ও বক্স অফিসের সম্মিলিত আয়কে ছাড়িয়ে গেছে।
গেমারদের আচরণ এবং তাদের বিনোদনের ধরন সম্পর্কে আরও জানতে বেইন অ্যান্ড কোম্পানি একটি বিশ্লেষণ চালায়। এই গবেষণায় ব্রাজিল, ইন্দোনেশিয়া, জাপান, সংযুক্ত আরব আমিরাত, যুক্তরাজ্য এবং যুক্তরাষ্ট্রের পাঁচ হাজারেরও বেশি ভোক্তার মতামত সংগ্রহ করা হয়েছে।
বেইন অ্যান্ড কোম্পানির গ্লোবাল মিডিয়া ও এন্টারটেইনমেন্ট প্র্যাকটিসের প্রধান ড্যানিয়েল হং জানান, “বিশ্বব্যাপী ভিডিও গেম দর্শকসংখ্যা ক্রমেই বাড়ছে এবং এটি মূলত তরুণদের দ্বারা চালিত। তারা গেমিংয়ে অধিক সময় ব্যয় করছে, অন্যদিকে ভিডিও ও অন্যান্য মিডিয়ায় তাদের আগ্রহ কমছে।” তিনি আরও উল্লেখ করেন যে, “এই গেমাররা শুধু গেমিং নয়, বরং সামাজিকীকরণ, কেনাকাটা, এবং অন্যান্য মিডিয়া ব্যবহারের জন্যও গেমিং প্ল্যাটফর্মগুলোকে ব্যবহার করছে।”
গবেষণায় উঠে এসেছে যে, অংশগ্রহণকারী ব্যক্তিদের মধ্যে ৫২ শতাংশ নিয়মিত ভিডিও গেমস খেলে। তরুণ গেমাররা তাদের বিনোদনের জন্য যে বাজেট নির্ধারণ করে, তার একটি বড় অংশই তারা গেমিংয়ে ব্যয় করে।
বেইনের গবেষণায় গেমিং শিল্পের ভবিষ্যৎ সম্পর্কে কয়েকটি প্রবণতা চিহ্নিত করা হয়েছে:
তরুণ গেমারদের প্রভাব: আগামী বছরগুলোতে ২-১৮ বছর বয়সী গেমাররা এই খাতের প্রবৃদ্ধিতে বিশেষ ভূমিকা রাখবে। এ গোষ্ঠীর প্রায় ৮০ শতাংশ গেমিংয়ের সঙ্গে যুক্ত এবং তাদের দিনের উল্লেখযোগ্য সময় তারা গেম খেলে কাটায়।
ইমারসিভ গেমিং অভিজ্ঞতা: এক-তৃতীয়াংশ গেমার এমন গেম পছন্দ করে যা সম্পূর্ণ নিমজ্জিত অভিজ্ঞতা দেয়। ১৮ বছরের নিচের গেমারদের মধ্যে এই সংখ্যা প্রায় অর্ধেক। এই ধরনের গেমগুলো খেলোয়াড়দের সম্পূর্ণরূপে গেমের ভেতরে ডুবিয়ে রাখার জন্য ডিজাইন করা হয়েছে।
ব্যবহারকারীর তৈরি কনটেন্ট: ভিডিও গেমসের ক্ষেত্রে ব্যবহারকারীর তৈরি বিষয়বস্তু (ইউজার জেনারেটেড কনটেন্ট বা ইউজিসি) গত দুই দশকে গেমিং খাতে নাটকীয় পরিবর্তন এনেছে। প্রায় ৮০ শতাংশ গেমার ইউজিসিসহ গেম খেলেছে এবং সাতজনের মধ্যে একজন নিজেই কনটেন্ট তৈরি করেছে।
একাধিক ডিভাইসে গেম খেলা: প্রায় ৭০ শতাংশ গেমার দুই বা তার বেশি ডিভাইসে গেম খেলে। এছাড়া, গেম সম্পর্কিত শো ও সিনেমাগুলোও গেমারদের বিনোদন বিকল্প হিসেবে বড় ভূমিকা রাখছে।























