Google search engine

বন্যা প্রতিরোধে গাফিলতির যে শাস্তি দিলেন কিম জং উন

উত্তর কোরিয়ার সর্বোচ্চ নেতা কিম জং উনের বিরুদ্ধে ৩০ জন সরকারি কর্মকর্তাকে মৃত্যুদণ্ড দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। এই শাস্তি তাদের ওপর আরোপ করা হয়েছে বন্যা প্রতিরোধে গাফিলতির অভিযোগে। দক্ষিণ কোরিয়ার বেশ কিছু সংবাদমাধ্যমে এই তথ্য উঠে এসেছে, যদিও উত্তর কোরিয়া সরকার আনুষ্ঠানিকভাবে এই ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেনি।

বন্যার ভয়াবহতা এবং ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ
জুলাই মাসে উত্তর কোরিয়ায় ব্যাপক বন্যা ও ভূমিধস হয়, যেখানে হাজার হাজার মানুষ প্রাণ হারান এবং লক্ষাধিক মানুষ ঘরবাড়ি হারান। ভারি বৃষ্টির কারণে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে ব্যাপক ধ্বংসযজ্ঞের সৃষ্টি হয়। বিশেষত, পাহাড়ি এলাকাগুলোতে ভূমিধসের কারণে ক্ষয়ক্ষতির মাত্রা ছিল ব্যাপক। অনেকের মতে, যদি সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা যথাসময়ে ব্যবস্থা নিতেন, তাহলে এই ক্ষয়ক্ষতি অনেকটাই কমানো যেত।

কিমের কঠোর নির্দেশনা
দক্ষিণ কোরিয়ার সোশান টিভি চ্যানেলের প্রতিবেদন অনুযায়ী, বন্যা প্রতিরোধে ব্যর্থতার জন্য কিম জং উন সরাসরি এই কর্মকর্তাদের মৃত্যুদণ্ডের আদেশ দেন। আগস্টের শেষের দিকে এই আদেশ কার্যকর করা হয়েছে বলে সংবাদমাধ্যমটি জানিয়েছে। যদিও উত্তর কোরিয়ার কেন্দ্রীয় সংবাদ সংস্থা (কেসিএনএ) সরাসরি এই মৃত্যুদণ্ডের ঘটনা নিশ্চিত করেনি, তবে জুলাই মাসের একটি প্রতিবেদনে বলা হয়েছিল যে কিম ক্ষয়ক্ষতির জন্য দায়ী কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে কঠোর শাস্তির নির্দেশ দিয়েছিলেন।

কিমের শাসনামলে অদ্ভুত শাস্তির উদাহরণ
২০১১ সালে ক্ষমতায় আসার পর থেকেই কিম জং উনের শাসনামল বিভিন্ন চমকপ্রদ ও অস্বাভাবিক শাস্তির ঘটনা দিয়ে আলোচিত। ক্ষমতা গ্রহণের পর থেকে তিনি যে কঠোর শাসনব্যবস্থা পরিচালনা করছেন, তা দেশ এবং আন্তর্জাতিক মহলে ব্যাপক আলোচনা ও সমালোচনার জন্ম দিয়েছে। এর আগে তার আত্মীয়দের ওপরও তিনি কঠোর শাস্তি দিয়েছেন, যা বিশ্বব্যাপী আলোচনার জন্ম দিয়েছিল।

মানবাধিকার লঙ্ঘন নিয়ে আন্তর্জাতিক উদ্বেগ
উত্তর কোরিয়ার সরকারের এই ধরনের কঠোর পদক্ষেপ নিয়ে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের উদ্বেগ অনেক আগে থেকেই রয়েছে। কিম জং উনের শাসনামলে মানবাধিকার লঙ্ঘন এবং রাজনৈতিক কারণে মৃত্যুদণ্ড দেওয়ার ঘটনা নতুন নয়। এর আগেও রাজনৈতিক কারণে কর্মকর্তাদের হত্যা, বিভিন্নভাবে শাস্তি প্রদান ও ভয়ভীতি দেখানোর অভিযোগ উঠেছে। বন্যা প্রতিরোধে গাফিলতির জন্য এমন কঠোর শাস্তি দেওয়া নিয়ে আবারও আন্তর্জাতিক মহলে মানবাধিকার লঙ্ঘনের অভিযোগ উঠতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

- Advertisement -

More articles

Latest