
বর্তমানে ডেঙ্গু বাংলাদেশসহ বিভিন্ন দেশে ভয়াবহ আকার ধারণ করছে। জলবায়ু পরিবর্তন ও অভিবাসনের কারণে সারা বছর ধরেই ডেঙ্গুর ঝুঁকি বাড়ছে। চলতি বছর বাংলাদেশে ডেঙ্গুতে মৃত্যুর সংখ্যা ৯৫ ছাড়িয়েছে এবং আক্রান্তের সংখ্যা ১৫ হাজারের বেশি।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হেলথ ইমারজেন্সি অপারেশন সেন্টার ও কন্ট্রোল রুম থেকে পাঠানো নিয়মিত প্রতিবেদনে এই তথ্য উঠে এসেছে। প্রতিবছর বর্ষাকালে ডেঙ্গুর প্রকোপ বাড়লেও ২০২৩ সালের জুন মাস থেকে ডেঙ্গু পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হয়ে ওঠে। গত বছর দেশে তিন লাখ ২১ হাজার ১৭৯ জন ডেঙ্গু রোগী হাসপাতালে ভর্তি হয়েছিলেন। এর মধ্যে ঢাকায় এক লাখ ১০ হাজার ৮ জন এবং ঢাকার বাইরে দুই লাখ ১১ হাজার ১৭১ জন। সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছেন তিন লাখ ১৮ হাজার ৭৪৯ জন।
ডেঙ্গু: পরিচয় ও কারণ
ডেঙ্গু একটি ভাইরাসজনিত রোগ, যা এডিস মশার কামড়ের মাধ্যমে ছড়ায়। প্রধানত গ্রীষ্মমণ্ডলীয় ও উপ-গ্রীষ্মমণ্ডলীয় অঞ্চলে এটির প্রাদুর্ভাব বেশি। ডেঙ্গুর প্রধান লক্ষণগুলো হল:
- উচ্চ তাপমাত্রায় জ্বর
- শরীরে ব্যথা
- মাথাব্যথা
- বমি বমি ভাব
- শরীরে লালচে দাগ
- পৃথিবীর উন্নত দেশগুলোতে ডেঙ্গু প্রতিরোধ
ডেঙ্গু প্রতিরোধে উন্নত দেশগুলোতে বেশ কয়েকটি পদক্ষেপ নেওয়া হয়। যেমন:
- মশার জন্মস্থল ধ্বংস করা
- সঠিক ড্রেনেজ ব্যবস্থা গড়ে তোলা
- মশা নিধনের জন্য রাসায়নিক ব্যবহার
- জনগণকে সচেতন করা এবং সঠিক সময়ে চিকিৎসা সেবা প্রদান
ডেঙ্গু সনাক্তকরণের ল্যাব টেস্ট
ডেঙ্গু সনাক্ত করার জন্য কিছু নির্দিষ্ট ল্যাব টেস্ট রয়েছে। এদের মধ্যে গুরুত্বপূর্ণ টেস্টগুলো হল:
NS1 Antigen Test: ডেঙ্গু ইনফেকশনের প্রথম ৫ দিনের মধ্যে এটি করা হয়। যদি NS1 পজিটিভ হয়, তবে ডেঙ্গু সংক্রমণ নিশ্চিত।
IgM Antibody Test: ডেঙ্গু ভাইরাসের বিরুদ্ধে শরীরে উৎপন্ন হওয়া অ্যান্টিবডি সনাক্ত করে। সংক্রমণের ৪-৫ দিন পর এটির রেজাল্ট পজিটিভ হয়।
Complete Blood Count (CBC): ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হলে রক্তে প্লেটলেট সংখ্যা কমে যায়। এই টেস্ট প্লেটলেটের মাত্রা এবং সাদা রক্তকণিকার (WBC) পরিবর্তন সনাক্ত করতে সহায়তা করে।
ল্যাব টেস্টের রেফারেন্স ভ্যালু
NS1 Antigen Test: পজিটিভ মানে ডেঙ্গু ইনফেকশন আছে।
IgM Antibody Test: পজিটিভ মানে শরীর ডেঙ্গু ভাইরাসের বিরুদ্ধে অ্যান্টিবডি তৈরি করছে।
CBC (প্লেটলেট): সাধারণত ১৫০,০০০ থেকে ৪৫০,০০০ প্লেটলেট স্বাভাবিক বলে ধরা হয়, তবে ডেঙ্গুতে এটি ২০,০০০ বা তারও কমে নেমে যেতে পারে।
ডেঙ্গু প্রতিরোধে করণীয়
ডেঙ্গু প্রতিরোধে কিছু সাধারণ পদক্ষেপ নেওয়া যেতে পারে:
বাড়ির আশপাশ পরিষ্কার রাখা ও জমে থাকা পানি ফেলে দেওয়া।
মশার কামড় থেকে নিজেকে রক্ষা করতে পুরো হাত-পা ঢাকা পোশাক পরা।
বাড়ির ভিতরে মশারি টাঙানো।
মশা প্রতিরোধক স্প্রে বা ক্রিম ব্যবহার করা।
ডেঙ্গু বাংলাদেশের জন্য বড় একটি স্বাস্থ্য সংকট হয়ে দাঁড়িয়েছে। সচেতনতা বৃদ্ধি এবং সঠিক পদক্ষেপ গ্রহণের মাধ্যমে আমরা এই রোগের প্রাদুর্ভাব কমাতে পারি। ডেঙ্গু সনাক্ত করতে ল্যাব টেস্ট করা এবং সঠিক চিকিৎসা নেওয়া খুবই গুরুত্বপূর্ণ।























