
চট্টগ্রামের খাতুনগঞ্জ এবং চাক্তাইয়ের মতো বৃহৎ ভোগ্যপণ্যের বাজারগুলোতে সম্প্রতি হঠাৎ করে চিনির দাম বেড়ে গেছে। একাধিক ব্যবসায়ী এবং আমদানিকারক সূত্রে জানা গেছে, গত তিন দিনের মধ্যে চিনির দাম প্রতি মণে (৩৭.৩২ কেজি) ২০০ থেকে ৩০০ টাকা পর্যন্ত বেড়েছে। বর্তমানে প্রতি মণ চিনি বিক্রি হচ্ছে ৪,৬০০ টাকায়, যা তিন দিন আগেও ছিল ৪,৩০০ টাকা। খুচরা বাজারে প্রতি কেজি চিনি ১৪০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে, যা সাধারণ ভোক্তাদের জন্য অত্যন্ত চাপের।
বিভিন্ন ব্যবসায়ী এবং বাজার বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, ডলার সংকট এবং এলসি (লেটার অফ ক্রেডিট) খোলার সমস্যার কারণে চিনির পরিশোধনকারী কাঁচামাল আমদানি বন্ধ হয়ে আছে। আন্তর্জাতিক বাজারে চিনির দাম স্থিতিশীল থাকলেও দেশে কাঁচামালের অভাবের কারণে দাম বেড়ে গেছে। এছাড়া বাজারে অসাধু ব্যবসায়ীদের সিন্ডিকেট চিনি মজুত করে কৃত্রিম সংকট তৈরি করছে। এ কারণে বাজারে চিনির দাম আরও বৃদ্ধি পাচ্ছে।
এলসি সমস্যা এবং কাঁচামাল আমদানির প্রভাব
ব্যবসায়ীদের মতে, ডলার সংকটের কারণে এখন ১০০% পেমেন্ট দিয়ে এলসি খুলতে হচ্ছে, যা আগে ৫% মার্জিনে সম্ভব ছিল। এ কারণে আমদানিকারকরা এলসি খোলা থেকে বিরত থাকছেন। চিনির পরিশোধনের জন্য প্রয়োজনীয় কাঁচামাল যেমন কস্টিক সোডা, সালফাইড লবণ এবং অন্যান্য রাসায়নিক পদার্থ আমদানি বন্ধ হয়ে গেছে। এই কাঁচামালগুলো ভিয়েতনাম, মালয়েশিয়া, ফ্রান্স এবং যুক্তরাষ্ট্র থেকে আসে। ফলে চিনির উৎপাদন ব্যাহত হচ্ছে, যার প্রভাব সরাসরি বাজারে পড়ছে।
ডিও স্লিপ এবং বাজার নিয়ন্ত্রণ
খাতুনগঞ্জের বাজারে পণ্য বেচাকেনার আরেকটি প্রধান সমস্যা হল ডেলিভারি অর্ডার (ডিও) স্লিপ বাণিজ্য। ব্যবসায়ীরা পণ্য হাতে না পেয়েও আগাম ডিও বেচাকেনা করে থাকেন। এর ফলে বাজারে কৃত্রিম সংকট সৃষ্টি হয় এবং চাহিদার তুলনায় সরবরাহ কম থাকে, যা চিনির দামের ঊর্ধ্বগতির অন্যতম কারণ।
চিনির আমদানি শুল্ক ও কর
চিনি আমদানিতে ৬১% কাস্টমস ডিউটি, নিয়ন্ত্রণমূলক শুল্ক, ভ্যাট এবং অগ্রিম কর রয়েছে, যা বাজারকে আরও অস্থির করে তুলছে। একাধিক ব্যবসায়ী জানিয়েছেন যে, বড় বড় ব্যবসায়ী গ্রুপগুলো চিনি মজুত করে বাজারে কৃত্রিম সংকট তৈরি করছে। প্রশাসন যদি শক্ত হাতে এই সিন্ডিকেট ভাঙতে না পারে, তাহলে চিনির বাজারে স্থিতিশীলতা আনা কঠিন হয়ে যাবে।























