
চলতি অর্থবছরের প্রথম দুই মাস, অর্থাৎ জুলাই ও আগস্ট মাসে, রাজস্ব আদায় লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে উল্লেখযোগ্য পরিমাণে কম হয়েছে। এই সময়ের মধ্যে সরকার ৪২ হাজার ১০৬ কোটি টাকা রাজস্ব আদায় করেছে, যেখানে আদায়ের লক্ষ্যমাত্রা ছিল ৫৭ হাজার ১৭৪ কোটি টাকা। এর মানে, লক্ষ্যমাত্রার তুলনায় ১৫ হাজার ৪৬৭ কোটি টাকা কম আদায় হয়েছে। এছাড়া আগের অর্থবছরের একই সময়ের তুলনায় রাজস্ব আদায়ে নেতিবাচক প্রবৃদ্ধি লক্ষ্য করা গেছে। এনবিআরের (জাতীয় রাজস্ব বোর্ড) তথ্য মতে, রাজস্ব আদায়ে এই প্রবণতা বিশেষভাবে উদ্বেগজনক।
রাজস্ব আদায়ের পরিসংখ্যান
প্রথম দুই মাসে রাজস্ব আদায়ের লক্ষ্যমাত্রা ছিল ৫৭ হাজার ১৭৪ কোটি টাকা, কিন্তু আদায় হয়েছে ৪২ হাজার ১০৬ কোটি টাকা। অর্থাৎ, প্রায় ১৫ হাজার কোটি টাকার ঘাটতি। আগের অর্থবছরে এই সময়ে রাজস্ব আদায় হয়েছিল ৪৭ হাজার ৫৬০ কোটি টাকা। অর্থাৎ, আগের বছরের তুলনায় ১২ শতাংশ নেতিবাচক প্রবৃদ্ধি হয়েছে।
শুল্ক, মূসক ও আয়করের বিস্তারিত পরিসংখ্যান
- শুল্ক: লক্ষ্যমাত্রা ছিল ১৭ হাজার ৩৯০ কোটি টাকা, কিন্তু আদায় হয়েছে ১৪ হাজার ৪৮৫ কোটি টাকা। এই ঘাটতি ২ হাজার ৯০৪ কোটি টাকা, যা আগের বছরের তুলনায় ৯ শতাংশ কম।
- মূসক: ২১ হাজার ১৫০ কোটি টাকার লক্ষ্যমাত্রা থাকলেও আদায় হয়েছে ১৬ হাজার ২৮ কোটি টাকা, যা ৫ হাজার ১২২ কোটি টাকা কম। আগের অর্থবছরের তুলনায় ১২ শতাংশ নেতিবাচক প্রবৃদ্ধি হয়েছে।
- আয়কর: প্রথম দুই মাসে লক্ষ্যমাত্রা ছিল ১৮ হাজার ৬৩৪ কোটি টাকা, তবে আদায় হয়েছে মাত্র ১১ হাজার ৫৯৩ কোটি টাকা। ঘাটতি ৭ হাজার ৪১ কোটি টাকা এবং আগের বছরের তুলনায় ১১ শতাংশ কম।
রাজনৈতিক অস্থিরতার প্রভাব
বিশ্লেষকদের মতে, প্রথম দুই মাসে রাজস্ব ঘাটতির একটি বড় কারণ ছিল রাজনৈতিক অস্থিরতা। সরকারবিরোধী ছাত্র-জনতার আন্দোলন এবং বিভিন্ন শিল্পকারখানায় হামলার কারণে রাজস্ব আদায়ে প্রভাব পড়েছে। এই অস্থিরতার কারণে রাজস্ব আদায় কাঙ্ক্ষিত মাত্রায় পৌঁছাতে পারেনি।
এনবিআরের সাবেক চেয়ারম্যান ড. মোহাম্মদ আবদুল মজিদ বলেন, “অর্থবছরের শুরুর দিকে রাজস্ব আদায় কিছুটা কম থাকে, এটি একটি স্বাভাবিক প্রবণতা। এছাড়া রাজনৈতিক অস্থিরতার কারণে রাজস্ব আদায়ে আরও সমস্যা হয়েছে। তবে আশা করা যায়, পরিস্থিতি স্থিতিশীল হলে রাজস্ব আয়ে প্রবৃদ্ধি আসবে।”
সিপিডির জ্যেষ্ঠ গবেষক ড. তৌফিকুল ইসলাম খান কর ফাঁকি রোধ এবং রাজস্ব আদায় বাড়ানোর জন্য সংস্কারের প্রস্তাবনা দিয়েছেন। তার মতে, বর্তমান অর্থবছরের রাজস্ব লক্ষ্যমাত্রা অর্জন করা কঠিন হবে যদি কর ফাঁকি রোধের জন্য কঠোর ব্যবস্থা না নেওয়া হয়।























