
ভারতের স্বনামধন্য ব্যবসায়ী প্রতিষ্ঠান টাটা গ্রুপকে দুই দশকেরও বেশি সময় ধরে নেতৃত্ব দেয়া ভারতীয় ধনকুবের রতন টাটা ৮৬ বছর বয়সে মারা গেছেন।
তিনি ছিলেন আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত ভারতের অন্যতম ব্যবসায়ী নেতা।
টাটা গ্রুপ হলো ভারতের বৃহত্তম কোম্পানিগুলির মধ্যে একটি যার বার্ষিক আয় দশ হাজার কোটি ডলারেরও বেশি।
রতন টাটা’র মৃত্যুবরণ করার কথা ঘোষণা করে এক বিবৃতিতে টাটা সন্স-এর বর্তমান চেয়ারম্যান নটরাজন চন্দ্রশেখরন তাঁকে ‘সত্যিকার অসাধারণ নেতা’ হিসেবে বর্ণনা করেন।
নটরাজন চন্দ্রশেখরন আরো বলেন, “পুরো টাটা পরিবারের পক্ষ থেকে আমি তার প্রিয়জনদের প্রতি গভীর সমবেদনা জানাই। তাঁর উত্তরাধিকার আমাদের অনুপ্রাণিত করতে থাকবে কারণ আমরা যে নীতিগুলিকে তিনি এত আবেগের সাথে ধরে রেখেছিলেন তা ধরে রাখার চেষ্টা করি।”
টাটা গ্রুপের চেয়ারম্যান হিসাবে রতন টাটা’র মেয়াদকালে এ ব্যবসায়ী গ্রুপটি অ্যাংলো-ওলন্দাজ ইস্পাত প্রস্তুতকারক কোরাস, যুক্তরাজ্য-ভিত্তিক গাড়ির ব্র্যান্ড জাগুয়ার এবং ল্যান্ড রোভার এবং বিশ্বের দ্বিতীয় বৃহত্তম চা কোম্পানি টেটলি’র অধিগ্রহণ সহ বেশ কয়েকটি উচ্চ-প্রোফাইল অর্জন করেছিল।
২০১১ সালে ইকোনমিস্ট ম্যাগাজিনে প্রকাশিত একটি প্রোফাইলে টাটাকে ‘টাইটান’ বলে অভিহিত করা হয় যা তাঁকে একটি পারিবারিক গ্রুপকে ‘একটি বৈশ্বিক শক্তিশালায়’ রূপান্তরিত করার কৃতিত্ব দেয়।
ইকোনমিস্টে বলা হয়, “তিনি তাঁর পরিবারের নাম বহনকারী গোষ্ঠীটির শতকরা এক ভাগেরও কম ভাগের মালিক কিন্তু তবুও তিনি একজন টাইটান: ভারতের সবচেয়ে শক্তিশালী ব্যবসায়ী এবং বিশ্বের অন্যতম প্রভাবশালী।”
তিনি টাটা গ্রুপের চেয়ারম্যান হিসাবে অবসর গ্রহণ করেন এবং গ্রুপের হোল্ডিং কোম্পানি টাটা সন্স-এর চেয়ারম্যান এমেরিটাস নিযুক্ত হন ২০১২ সালে।
ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী রতন টাটাকে একজন “দূরদর্শী ব্যবসায়ী নেতা, একজন সহানুভূতিশীল আত্মা এবং একজন অসাধারণ মানুষ” হিসেবে প্রশংসা করেছেন।
সামাজিক মাধ্যম এক্স-এ শ্রদ্ধা নিবেদন করে মোদী টাটার সাথে “অগণিত সাক্ষাৎ”-এর কথা বর্ণনা করেন এবং বলেন যে তিনি তাঁর মৃত্যুতে “অত্যন্ত পীড়িত” হয়েছেন।
রতন টাটা ১৯৩৭ সালের ২৮ ডিসেম্বর একটি ঐতিহ্যবাহী পার্সি পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন। তিনি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের কর্নেল বিশ্ববিদ্যালয়ে স্থাপত্য এবং কাঠামোগত প্রকৌশল অধ্যয়ন করেন।
তিনি টাটা গ্রুপের প্রবর্তক প্রতিষ্ঠান টাটা ইন্ডাস্ট্রিজে একজন সহকারী হিসাবে যোগ দেন ১৯৬২ সালে এবং জামশেদপুরের একটি কোম্পানির প্ল্যান্টে ছয় মাস প্রশিক্ষণ গ্রহণ করেন।
সেখান থেকে তিনি টাটা আয়রন অ্যান্ড স্টিল কোম্পানি (বর্তমানে টাটা স্টিল), টাটা কনসালটেন্সি সার্ভিসেস (টিসিএস) এবং ন্যাশনাল রেডিও অ্যান্ড ইলেকট্রনিক্স (নেলকো) এ কাজ করতে যান।
১৯৯১ সালে জেআরডি টাটা যিনি অর্ধ শতাব্দীরও বেশি সময় ধরে এই গোষ্ঠীর নেতৃত্ব দিয়েছিলেন তিনি রতন টাটাকে তাঁর উত্তরসূরী হিসাবে নিযুক্ত করেন।
পরে এক সাক্ষাতকারে রতন টাকা জেআরডি টাটা সম্পর্কে বলেন, “তিনি [জেআরডি টাটা] আমার সর্বশ্রেষ্ঠ পরামর্শদাতা ছিলেন… তিনি আমার কাছে একজন বাবা এবং ভাইয়ের মতো ছিলেন – এবং এটি সম্পর্কে যথেষ্ট বলা হয়নি।”
ভারত সরকার রতন টাটাকে ২০০৮ সালে দেশের দ্বিতীয় সর্বোচ্চ বেসামরিক সম্মান পদ্মবিভূষণ-এ সম্মানিত করে।























