
কোলন ক্যান্সার (Colon Cancer) হল বৃহদন্ত্রের (Colon) এক প্রকার ক্যান্সার যা সাধারণত বড় অন্ত্র বা রেকটামে দেখা দেয়। কোলন ক্যান্সার বাংলাদেশসহ বিশ্বজুড়ে ক্যান্সারের অন্যতম প্রধান কারণ এবং এটি কেবল পুরুষদের মধ্যেই নয়, নারীদের মধ্যেও বাড়ছে। ২০২৩ সালের পরিসংখ্যান অনুযায়ী, প্রতি বছর বিশ্বব্যাপী ১৯ লক্ষেরও বেশি নতুন কোলন ক্যান্সারের কেস শনাক্ত করা হয় এবং এর ফলে ৯ লাখেরও বেশি মৃত্যুর ঘটনা ঘটে।
কোলন ক্যান্সারের কারণ
কোলন ক্যান্সারের সঠিক কারণ জানা যায়নি, তবে কিছু ঝুঁকিপূর্ণ কারণ রয়েছে যা কোলন ক্যান্সারের বিকাশের সম্ভাবনা বাড়ায়:
১. বংশগত ফ্যাক্টর: পরিবারের ইতিহাস, বিশেষ করে যদি পরিবারে কোলন ক্যান্সারের রেকর্ড থাকে।
২. বয়স: ৫০ বছরের বেশি ব্যক্তিদের মধ্যে কোলন ক্যান্সার বেশি দেখা যায়।
৩. অস্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাস: লাল মাংস, প্রক্রিয়াজাত খাবার এবং কম ফলমূল ও সবজি গ্রহণ।
৪. জীবনযাত্রার অভ্যাস: ধূমপান, অতিরিক্ত অ্যালকোহল পান এবং শারীরিক অকার্যকারিতা।
৫. পূর্ববর্তী কোলন সমস্যা: পলিপ, প্রদাহজনিত অন্ত্রের রোগ ইত্যাদি।
কোলন ক্যান্সার সনাক্ত হলে করণীয়
যদি কোলন ক্যান্সার সনাক্ত হয়, তবে কিছু পদক্ষেপ গ্রহণ করা জরুরি:
১. ডাক্তারের পরামর্শ: একজন গ্যাসট্রোএন্টারোলজিস্ট বা অনকোলজিস্টের সঙ্গে পরামর্শ করুন।
২. পরীক্ষা: রোগ নির্ণয়ের জন্য প্রয়োজনীয় পরীক্ষা করা।
৩. চিকিৎসা পরিকল্পনা: সার্জারি, রেডিয়েশন থেরাপি বা কেমোথেরাপির মাধ্যমে চিকিৎসার ব্যবস্থা করা।
কোলন ক্যান্সার সনাক্তকরণের পরীক্ষাসমূহ
কোলন ক্যান্সার সনাক্ত করতে কয়েকটি পরীক্ষা করা হয়, এবং প্রতিটি পরীক্ষার নির্দিষ্ট রেফারেন্স ভ্যালু থাকে:
১. কলোনোস্কোপি (Colonoscopy):
- এই পরীক্ষায় কোলনের অভ্যন্তরীণ অংশ দেখা হয়। এটি সাধারণত ৫০ বছরের উপরে সকলের জন্য প্রস্তাবিত।
- রেফারেন্স ভ্যালু: সাধারণত, ৫ মিমি বা তার বড় পলিপ শনাক্ত হলে পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়।
২. সিগময়েডোস্কোপি (Sigmoidoscopy):
- এটি কেবল অন্ত্রের নিম্নাংশ পরীক্ষা করে।
- রেফারেন্স ভ্যালু: ৫ মিমি বা তার বেশি পলিপ থাকলে অস্বাভাবিক ধরা হয়।
৩. ফেকাল ইম্মুনোকেমিকাল টেস্ট (FIT):
- মলের নমুনা পরীক্ষা করা হয়। এটি বছরে একবার করা যেতে পারে, ৫০ বছরের উপরে থাকা সকলের জন্য।
- রেফারেন্স ভ্যালু: ফেকাল হিমোগ্লোবিনের মাত্রা ২০ মাইক্রোগ্রাম/গ্রাম থেকে বেশি হলে পজিটিভ ধরা হয়।
৪. CT কলোনোগ্রাফি (CT Colonography):
- বড় পলিপ সনাক্ত করতে ব্যবহৃত হয়।
- রেফারেন্স ভ্যালু: ৬ মিমি বা তার বড় পলিপ থাকলে অস্বাভাবিক ধরা হয়।
৫. মলের রক্ত পরীক্ষাঃ (Stool Occult Blood Test):
- এটি একটি সাধারণ পরীক্ষা, যা বছরে একবার করা যেতে পারে।
- রেফারেন্স ভ্যালু: পজিটিভ ফলাফলে কোলন ক্যান্সার বা পলিপের সম্ভাবনা বাড়ে।
কোলন ক্যান্সারের চিকিৎসা সাধারণত গ্যাসট্রোএন্টারোলজিস্ট দ্বারা পরিচালিত হয়। তারা কোলন পরীক্ষা ও সনাক্তকরণে বিশেষজ্ঞ। এছাড়া, অনকোলজিস্ট ক্যান্সার সংক্রান্ত বিষয়ের চিকিৎসার দায়িত্বে থাকেন।
কোলন ক্যান্সার একটি গুরুতর স্বাস্থ্য সমস্যা হলেও, সঠিক সময়ে সনাক্তকরণ ও চিকিত্সার মাধ্যমে এর ঝুঁকি কমানো সম্ভব। স্বাস্থ্যকর জীবনযাপন এবং নিয়মিত পরীক্ষার মাধ্যমে কোলন ক্যান্সার প্রতিরোধে সহায়তা করা যায়। নিয়মিত পরীক্ষা এবং স্বাস্থ্যের প্রতি যত্ন নেওয়া উচিত যেন এই রোগের সম্ভাবনা কমানো যায়।























