
শঙ্খনাদ–উলুধ্বনি, ঢাকের বাদ্যি ও সিঁদুর খেলার মাঙ্গলিক আচারে দেবী দুর্গাকে ভালোবাসার চোখের জলে বিদায় দিলেন ভক্তরা। বছর ঘুরে অন্নপূর্ণার আগমনে দেশের মন্দির–মণ্ডপে উৎসব আর আনন্দের যে রেশ ছড়িয়েছিল গত কয়েকদিন; রবিবার দশমী তিথিতে দেবীকে বিদায় জানানোর মধ্য দিয়ে সাঙ্গ হল সনাতন ধর্মাবলম্বীদের সবচেয়ে বড় ধর্মীয় উৎসব শারদীয় দুর্গাপূজার। আগামী বছরের অপেক্ষায় থেকে দুর্গতিনাশিনী দেবী দুর্গাকে দেবালয়ে বিদায় জানালেন ভুবনের বাসিন্দারা।

শারদীয় দুর্গোৎসবে বিজয়া দশমীর দিনটি ভক্তদের কাছে একদিকে যেমন উৎসবের, তেমনি বেদনারও। দোলায় চেপে দুর্গা এসেছিলেন মর্ত্যলোকে, আর ঘোটকে চড়ে দেবী ফিরে গেলেন কৈলাসে। হিন্দু ধর্মের বিশ্বাস অনুযায়ী, প্রতি শরতে কৈলাস ছেড়ে কন্যারূপে মর্ত্যলোকে আসেন দেবীদুর্গা। তার এই ‘আগমন ও প্রস্থানের’ মাঝে আশ্বিন মাসের শুক্লপক্ষের ষষ্ঠী থেকে দশমী তিথি পর্যন্ত পাঁচ দিন চলে দুর্গোৎসব। মহালয়ার মধ্য দিয়ে ২ অক্টোবর এবারের দুর্গোৎসবের ক্ষণ গণনা শুরু হয়েছিল। ওইদিন থেকেই দুর্গোৎসবের আনুষ্ঠানিকতার সূচনা হয়।

গত রবিবার যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডায় বসবাসরত বাঙালি সনাতনীরাও দোলায় চেপে দুর্গা মর্ত্যলোকে আসা দেবীকে ঘোটকে চড়ে কৈলাসে ফিরে যেতে দেখলেন চোখের জলে। সাউথ ফ্লোরিডা হিন্দু টেম্পলে আয়োজিত ফ্লোরিডার বৃহত্তম এই দুর্গাপূজার আয়োজন করেছে হিন্দু বেঙ্গলি সোসাইটি অফ ফ্লোরিডা। জানা গেছে এ সংগঠনটি কত ২০ বছর ধরে দুর্গাপূজার এমন আয়োজন করে আসছে। এবারের পূজোর পুরোহিতের দায়িত্বে ছিলেন ইন্দ্রজিৎ ভট্টাচার্য।

আয়োজকরা জানান, হিন্দু বেংঙ্গলী সোসাইটি অব ফ্লোরিডা আয়োজনে গত ১২ ,১৩ অক্টোবর শনিবার ও রবিবার শ্রী শ্রী শারদীয়া দূর্গা পূজার সমস্ত মাংঙ্গলিক আয়োজনে নেতৃত্ব দেন সাংগঠনিক সম্পাদিকা চম্পা সাহা ও সিনিয়র সদস্যা সুবর্ণা চৌধুরী।

পুরোহিত ইন্দ্রজিত ভট্টাচার্য দুদিনের পূজা পরিচালনা করেন ষষ্ঠী,সপ্তমী, অষ্টমী পূজা প্রথমদিন পূজা শেষে প্রসাদ বিতরণের পর সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান ও আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান পরিচালিত হয় সংগঠনের সাংস্কৃতিক সম্পাদিকা শর্মিলা ভট্টাচার্য তত্তাবধানে। সংগঠনের সভাপতি সঞ্জয় কুমার সাহার সভাপতিত্বে আলোচনা সভা পরিচালনা করেন সাধারণ সম্পাদক লিটন মজুমদার। সভায় বক্তব্য রাখেন সাবেক দুই সভাপতি সাধন সরকার ও রতন মজুমদার।

বক্তারা জানান, হিন্দু বেংঙ্গলী সোসাইটি আগামীতে নিজস্ব মন্দিরে পূজার আয়োজন করবে। এজন্য সবার সহযোগিতা কামনা করেন।

সর্বজনীন এই ধর্মীয় অনুষ্ঠানে ফ্লোরিডার বিভিন্ন সামাজিক সংগঠন যেমন; বাংলাদেশ এসোসিয়েসন অব ফ্লোরিডা, বাংলাদেশ এসোসিয়েসন অব ফ্লোরিডা ইঙ্ক, মায়ামী বৈশাখী মেলা, বাংলাদেশ ক্লাব অব ফ্লোরিডা, মা ও শিশু ফ্লোরিডা, প্রতিনিয়ত টিভি ও মায়ামী সংবাদ এর প্রতিনিধিরা উপস্হিত হয়ে সম্প্রীতির আবহ তৈরি করেন। এজন্য উপস্থিত সকলের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন হিন্দু বেংঙ্গলী সোসাইটি অব ফ্লোরিডা সাংগঠনিক সম্পাদক মিল্টন মজুমদার।























