
যুক্তরাজ্যে মসজিদ এবং ধর্মীয় স্থাপনাগুলোতে ঘৃণামূলক অপরাধ প্রতিরোধে সরকার কর্তৃক রেকর্ড পরিমাণ নিরাপত্তা তহবিল বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে।
২০২২ সালের এপ্রিল থেকে ২০২৩ সালের এপ্রিল পর্যন্ত সময়ে “প্লেসেস অফ ওয়ারশিপ সিকিউরিটি স্কিম” এর অধীনে মসজিদ এবং অন্যান্য মুসলিম ধর্মীয় স্থাপনাগুলোতে প্রায় ৩ মিলিয়ন পাউন্ড বরাদ্দ করা হয়েছে, যেখানে ২০১৬-২০১৭ সালে বরাদ্দ করা হয়েছিলো মাত্র ৭৩,০০০ পাউন্ড।
ফ্রিডম অব ইনফরমেশন রিকোয়েস্টের মাধ্যমে প্রাপ্ত তথ্যে দেখা যায়, মুসলিম সম্প্রদায় থেকে যোগ্য আবেদনগুলোর সংখ্যা উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। ২০১৬ সালে ৩৬টি আবেদন করা হয়েছিল, যেখানে ২০২৩ থেকে ২০২৪ সালের মধ্যে ৩০৪টি আবেদন জমা পড়েছে।
যুক্তরাজ্যের মুসলিম কাউন্সিল (MCB) এই বরাদ্দের প্রশংসা করেছে। তবে তারা বলেছে প্রকল্পটি প্রকৃত চ্যালেঞ্জের চিত্র তুলে ধরতে পারছে না। ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর ইসরায়েল হামলার পর যুক্তরাজ্যে ইসলামফোবিয়ার পরিমাণ রেকর্ড পরিমাণ বৃদ্ধি পায়।
যুক্তরাজ্যের জাতীয় মনিটরিং গ্রুপ টেল মামা ইউকে জানিয়েছে, ৭ অক্টোবর, ২০২৩ থেকে ৩০ সেপ্টেম্বর, ২০২৪ পর্যন্ত মুসলিমদের বিরুদ্ধে ৪,৯৭১টি ঘৃণামূলক হামলার ঘটনা নথিভুক্ত হয়েছে, যা গত ১৪ বছরে সর্বাধিক। তবে এই বরাদ্দ ৭ অক্টোবর হামলার আগেই দেওয়া হয়েছিল।
যদিও ২০২৩ সালে ৩০৪টি মসজিদ এবং মুসলিম ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান সুরক্ষার জন্য আবেদন করেছে, তবে যুক্তরাজ্যের ২,০০০-এর বেশি মসজিদ এবং প্রার্থনার কক্ষের তুলনায় এটি অনেক কম।
MCB এর সেক্রেটারি জেনারেল জারা মোহাম্মদ বলছেন, অনেক মসজিদ এই তহবিল সম্পর্কে জানেই না। যারা আবেদন করেছে এবং ব্যর্থ হয়েছে, তারা পুনরায় আবেদন করতে চান না। তাছাড়া, আবেদন প্রক্রিয়াটি প্রযুক্তিগত ভাষা এবং জটিলতার কারণে অনেকের জন্য চ্যালেঞ্জিং।
সরকার ২০১৬ সালে মসজিদ ও ধর্মীয় স্থাপনার জন্য সুরক্ষা প্রকল্প চালু করে এবং ২০২৩ সালে ২৯.৪ মিলিয়ন পাউন্ডের একটি প্রকল্প প্রণয়ন করে।
জারা মোহাম্মদ আরও বলেন, নিরাপত্তা তহবিল প্রক্রিয়ার পুনর্বিবেচনা করা প্রয়োজন, কারণ অনেক ঝুঁকিপূর্ণ মুসলিম প্রতিষ্ঠান সুরক্ষা তহবিল থেকে বঞ্চিত হচ্ছে।
ব্রিটিশ মুসলিম হেরিটেজ সেন্টারের প্রধান নির্বাহী কামরান হুসাইন বলেন, “ইসলামফোবিয়ার কারণে মসজিদগুলোর জন্য নিরাপত্তা অত্যন্ত জরুরি।” তিনি বলেন, “আমরা সাম্প্রতিক সপ্তাহে বোমা হামলার হুমকি পেয়েছি, যা বর্তমান পরিস্থিতির প্রমাণ দেয়।”
হোম অফিসের একজন মুখপাত্র বলেন, “প্রত্যেক সম্প্রদায়ের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ, বিশেষত উপাসনালয়গুলোতে।”
সূত্র: দ্য গার্ডিয়ান























