Google search engine

গাজার উন্নয়ন ৭০ বছর পিছিয়েছে: জাতিসংঘ

জাতিসংঘের সাম্প্রতিক এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে ইসরায়েলের যুদ্ধের কারণে গাজার উন্নয়ন সূচক, বিশেষ করে স্বাস্থ্য এবং শিক্ষা প্রায় ৭০ বছর পিছিয়ে গেছে। এই যুদ্ধের ফলে অনেক ফিলিস্তিনি জনগণ দারিদ্র্যের নিচে চলে যাচ্ছে।

মঙ্গলবার প্রকাশিত জাতিসংঘ উন্নয়ন কর্মসূচির (UNDP) প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ইসরায়েলের গাজা অভিযানের শুরু থেকে ফিলিস্তিনের সামগ্রিক অর্থনীতি ৩৫ শতাংশ পিছিয়েছে। বেকারত্ব “সম্ভাব্যভাবে বৃদ্ধি পেয়ে” ৪৯.৯ শতাংশে পৌঁছাতে পারে।

Deadly Israeli strike on hospital tent camp in Gaza
ছবি: রামাদান আবেদ (রয়টার্স)

UNDP’র গবেষণা অনুযায়ী, গাজার মানব উন্নয়ন সূচক (HDI) এমন একটি স্তরে নেমে যাবে যা তাদের এ যাবতকালের সামগ্রিক অগ্রগতিকে অনেকটা পিছিয়ে দিবে। অপরদিকে, দখলকৃত পশ্চিম তীরে HDI এমন একটি স্তরে নেমে যাবে যা তাদের ১৬ বছরের ক্ষতির মুখে ফেলবে। রিপোর্টটি সতর্ক করে বলেছে যে পরিস্থিতি আরও খারাপ হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে যদি ইসরায়েলি সামরিক হামলাগুলি বৃদ্ধি পায়।

প্রতিবেদনে আরো বলা হয়েছে, গাজার মধ্যে দারিদ্র্যের হার এই বছর প্রায় দ্বিগুণ হয়ে ৭৪.৩ শতাংশে পৌঁছাবে। মোট ৪.১ মিলিয়ন মানুষ এখন দারিদ্র্যসীমার নিচে বাস করছে, যার মধ্যে গাজা এবং দখলকৃত পশ্চিম তীর অন্তর্ভুক্ত এবং গত বছরই ২.৬১ মিলিয়ন নতুনভাবে দারিদ্র্যের সম্মুখীন হয়েছে।

Palestinians carry a wounded girl after being rescued from under the rubble of buildings that were destroyed by Israeli airstrikes in Jabaliya
ছবি: আবেদ খালেদ (এপি)

গাজার কেন্দ্রীয় ডেইর এল-বালাহ থেকে UNDP-এর প্রতিনিধি চিতোসে নোগুচি বলেছেন, “ফিলিস্তিন চরমভাবে বিপর্যয়ের সম্মুখীন হচ্ছে”।

UNDP প্রধান আচিম স্টেইনার AFP নিউজ এজেন্সিকে বলেছেন, অবকাঠামোর ধ্বংস, দারিদ্র্য এবং জীবিকার ক্ষতির ক্ষেত্রে যুদ্ধের অবিলম্বে ফলাফল ভয়াবহ।

এছাড়া, প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, ইসরায়েলের বিমান হামলায় গাজায় ৪২ মিলিয়ন টন মাটির স্তূপ সৃষ্টি হয়েছে, যা গুরুতর স্বাস্থ্য ঝুঁকি তৈরি করছে।

মঙ্গলবার ফিলিস্তিন শরণার্থী সংস্থা (UNRWA) উত্তর গাজার যুদ্ধবিরতির জন্য একটি জরুরি আবেদন জানায়, যাতে মানবিক সহায়তা সেখানে আটকে পড়া নাগরিকদের কাছে পৌঁছাতে পারে।

গাজার একটি মর্গের সামনে ইসরায়েলি বোমাবর্ষণে নিহত স্বজনদের লাশ খুঁজছেন ফিলিস্তিনিরা। (ছবি: ফাতিমা শাবেয়ার/এপি)

UNRWA প্রধান ফিলিপ লাজারিনি X-এ একটি পোস্টে বলেন, এজেন্সির কর্মীরা যুদ্ধ-বিধ্বস্ত অঞ্চলে খাবার, পানি বা ওষুধ খুঁজে পাচ্ছে না।

তিনি বলেন, “সর্বত্রই মৃত্যুর গন্ধ। মৃতদেহগুলি রাস্তায় অথবা ধ্বংসাবশেষের নিচে পড়ে আছে। মৃতদেহগুলি পরিষ্কার করার বা মানবিক সহায়তা দেওয়ার মিশনগুলোও নিষিদ্ধ”।

গাজার সরকারী মিডিয়া অফিস বলেছে, ইসরায়েলের যুদ্ধের শুরু থেকে ইসরায়েলি বাহিনী ২৫০,০০০ এরও বেশি ট্রাকের সাহায্য এবং পণ্যের প্রবেশাধিকার বন্ধ করে দিয়েছে”, যার ফলে ৯৬ শতাংশ মানুষ খাদ্য সংকটের উচ্চ মাত্রায় রয়েছে।

গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ৭ অক্টোবর, ২০২৩ থেকে ইসরায়েলি হামলায় অন্তত ৪২,৭১৮ জন নিহত এবং ১০০,২৮২ জন আহত হয়েছে।

সূত্র: আল জাজিরা, AFP

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

- Advertisement -

More articles

Latest