
বাংলাদেশের মেয়েরা একবার আবারও নিজেদের প্রমাণ করল দক্ষিণ এশিয়ার ফুটবলে। কাঠমাণ্ডুর দশরথ স্টেডিয়ামে আজকের ম্যাচে ভারতকে ৩-১ গোলে হারিয়ে সাফ চ্যাম্পিয়নশিপের সেমিফাইনালে উঠে গেল বাংলাদেশ। ভারত সবসময়ই শক্তিশালী প্রতিপক্ষ, কিন্তু এই ম্যাচে বাংলাদেশের মেয়েরা খেলেছে দাপুটে ফুটবল, যা ভারতকে পেছনে ফেলে দিয়েছে।

প্রথম থেকেই বাংলাদেশ দারুণ ফর্মে ছিল। খেলার শুরুতেই গোল করে লিড নেয় তারা, যা ভারতের জন্য একটা বড় ধাক্কা ছিল। এরপর আরও দুইবার জালে বল জড়িয়ে জয় নিশ্চিত করে তারা। অন্যদিকে ভারত খেলার মাঝপথে একটি গোল করলেও তা তাদেরকে জয় এনে দিতে পারেনি।
খেলার মাত্র ১৮ মিনিটেই এগিয়ে যায় বাংলাদেশ। সাবিনা খাতুনের কর্নার থেকে আসা বল নিখুঁত শটে জালে পাঠান আফঈদা খন্দকার। এরপর ২৯ মিনিটে ঋতুপর্ণা চাকমার ক্রস থেকে ব্যবধান দ্বিগুণ করেন তহুরা খাতুন। ভারতও গোল করার সুযোগ পেয়েছিল ৩৫ মিনিটে, কিন্তু গোলকিপার রুপনা চাকমার দুর্দান্ত সেভে সেই সুযোগ হাতছাড়া হয়। ৩৭ মিনিটে ভারতের মনীষার ফ্রি-কিক ক্রসবারে লেগে ফেরত আসে।

বাংলাদেশ ৪২ মিনিটে ৩-০ করে তহুরা খাতুনের দ্বিতীয় গোলে। লেফট উইং থেকে শামসুন্নাহার সিনিয়রের থ্রু ধরে শামসুন্নাহার জুনিয়রের কাটব্যাক থেকে তহুরার অসাধারণ শট গোলপোস্টে গিয়ে ঠেকে। পুরো প্রথমার্ধ জুড়েই ঋতুপর্ণা চাকমা ও মনিকা চাকমার আক্রমণাত্মক খেলা ভারতের রক্ষণভাগকে চাপে রেখেছিল। অধিনায়ক সাবিনা খাতুন আক্রমণাত্মক মিডফিল্ডার হিসেবে দুর্দান্ত ভূমিকা পালন করেন, যদিও তিনি পুরো ম্যাচ খেলেননি।
দুর্দান্ত রুপনা
বাংলাদেশের জয়ে গোলকিপার রুপনা চাকমার ভূমিকা ছিল অপরিসীম। ভারতের আক্রমণগুলো সামলাতে প্রাচীর হয়ে দাঁড়িয়েছিলেন তিনি, পুরো ম্যাচে কমপক্ষে চারটি গোল বাঁচান। তবে ৪৪ মিনিটে একটি অপ্রত্যাশিত ভুলে ভারতের অধিনায়ক বালা দেবী একটি গোল করে স্কোরলাইন ৩-১ করেন। ভারতের ডালিমার একটি ক্রস রুপনা ধরতে ব্যর্থ হলে ফিরতি বলটি বালা দেবী হেড করে গোল করেন।

দ্বিতীয়ার্ধে মারিয়া মান্দার পরিবর্তে সানজিদা খাতুনকে মাঠে নামানো হয়। ডান প্রান্ত থেকে বারবার ভারতের রক্ষণভাগকে ব্যস্ত রাখেন সানজিদা, যদিও দ্বিতীয়ার্ধে কোনো গোলের সুযোগ তৈরি করতে পারেনি বাংলাদেশ। কোচ বাটলার দ্বিতীয়ার্ধে কিছুটা রক্ষণাত্মক কৌশল অবলম্বন করেন। তবুও ৮০ মিনিটে স্বপ্না রানী একটি দুর্দান্ত শট নিয়ে প্রায় চতুর্থ গোল করতে চলেছিলেন, কিন্তু ভারতের গোলকিপার কর্নারের মাধ্যমে সেটি রক্ষা করেন।
শেষ পর্যন্ত, বাংলাদেশের মেয়েরা এই জয় নিয়ে কোনো আক্ষেপ ছাড়াই মাঠ ছাড়ে এবং সেমিফাইনালের দিকে আরও এক ধাপ এগিয়ে যায়।























