Google search engine

বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনে গুলি করা ৭৪৭ জন পুলিশ সদস্য চিহ্নিত

ঢাকা ও চট্টগ্রামের বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনে ২০২৪ সালের ১৮ থেকে ২১ জুলাই পর্যন্ত প্রাণঘাতী অস্ত্র ব্যবহারকারী পুলিশের অন্তত ৭৪৭ সদস্যকে ইতিমধ্যে চিহ্নিত করেছে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের তদন্ত সংস্থা। এসব সদস্যের মধ্যে কনস্টেবল থেকে শুরু করে সহকারী পুলিশ সুপার (এএসপি) পদমর্যাদার কর্মকর্তারা রয়েছেন। তদন্ত সংস্থার সূত্র জানায়, এই তালিকাটি সেই চার দিনের ওই আন্দোলনের সময় পুলিশের দায়ের করা মামলাগুলোর এজাহার থেকে তৈরি করা হয়েছে।

১৮ থেকে ২১ জুলাই পর্যন্ত চলমান এই আন্দোলনে পুলিশের অতিরিক্ত শক্তি প্রয়োগের ফলে বহু শিক্ষার্থী প্রাণ হারান। বিভিন্ন সূত্র অনুযায়ী, এই সময়ে ১৫০ জনেরও বেশি প্রাণ হারান এবং অসংখ্য শিক্ষার্থী আহত হন। পুলিশের এই গুলি বর্ষণের ঘটনায় ব্যাপক আলোচনা ও সমালোচনা সৃষ্টি হয়েছে, যেখানে আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীদের ওপর নির্বিচারে গুলি চালানো হয়।

ছবি: আজকের পত্রিকা
ছবি: আজকের পত্রিকা

আন্দোলনকারীদের ওপর গুলিবর্ষণকারী হিসেবে চিহ্নিত পুলিশ সদস্যদের মধ্যে রয়েছেন ৪৬৭ জন কনস্টেবল, ১০৬ জন এএসআই, ১৫৭ জন এসআই, ২ জন পরিদর্শক এবং একজন এএসপি। তারা প্রায় ২৬ হাজার গুলি বর্ষণ করেছেন, যার মধ্যে প্রায় ১৬ হাজার গুলি প্রাণঘাতী। গুলিবর্ষণের জন্য শটগান, পিস্তল, চায়নিজ রাইফেল এবং এসএমজি ব্যবহার করা হয়েছে।

তদন্ত সংস্থার বক্তব্য অনুযায়ী, এই গুলি বর্ষণের ক্ষেত্রে পুলিশের সদস্যরা নিয়ম-নীতি মানেননি। তাদের বিরুদ্ধে বিভিন্ন অভিযোগ থাকলেও পুলিশ মহাপরিদর্শক (আইজিপি) ময়নুল ইসলাম জানান, অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হচ্ছে এবং ইতোমধ্যে বেশ কিছু পুলিশ সদস্যকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

সাবেক আইজিপি নূর মোহাম্মদ বলেন, লক্ষ্যবস্তু বানিয়ে গুলি করা পুলিশের কাজ নয়। এই আন্দোলন দমন করতে গিয়ে পুলিশ বেশ কিছু অপেশাদার কাজ করে ফেলেছে।

পুলিশ প্রবিধানের ১৫৩ ধারা অনুযায়ী, তিন ক্ষেত্রে পুলিশ আগ্নেয়াস্ত্র ব্যবহার করতে পারবে। এগুলো হলো ব্যক্তির আত্মরক্ষা ও সম্পদ রক্ষার অধিকার প্রয়োগ, বেআইনি সমাবেশ ছত্রভঙ্গ করা ও গ্রেপ্তার কার্যকর করার জন্য। এ ছাড়া দণ্ডবিধির ১০২ ধারা অনুযায়ী, যখনই ক্ষতির আশঙ্কা শেষ হবে, তখন আত্মরক্ষার জন্য শক্তি প্রয়োগের অধিকারও শেষ হবে। অভিযোগ রয়েছে, আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীদের ওপর গুলিবর্ষণের ক্ষেত্রে এসব নিয়ম মানেননি পুলিশ সদস্যরা। এ কারণে প্রাণহানিও অনেক বেশি হয়েছে।

পুলিশের দাবি, আত্মরক্ষার্থে গুলি করা হয়েছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক পুলিশ সদস্য বলেন, তাঁরা চাইলেই গুলি করতে পারেন না। ওপর থেকে নির্দেশনা না দিলে গুলি করা যায় না। আবার নির্দেশ না মানলেও পুলিশের চাকরি থাকে না। তাহলে মাঠের পুলিশ সদস্যদের করণীয় কী ছিল?

সূত্র: আজকের পত্রিকা

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

- Advertisement -

More articles

Latest