
আদানির পাওনা নিয়ে চলমান ইস্যুর প্রেক্ষিতে ভারতের আদানি পাওয়ার বাংলাদেশে বিদ্যুৎ সরবরাহ কমিয়ে দেওয়ার পর বিদ্যুৎ পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ সৃষ্টি হয়েছে। সম্প্রতি ভারতীয় এক গণমাধ্যমে প্রকাশিত হয়েছে যে, বাংলাদেশ প্রায় ৮৫ কোটি ডলার বকেয়া পরিশোধ না করলে ৭ নভেম্বর থেকে আদানি পাওয়ার বিদ্যুৎ সরবরাহ সম্পূর্ণ বন্ধ করে দিতে পারে। ঝাড়খণ্ডের গোড্ডায় অবস্থিত আদানির কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎ কেন্দ্র থেকে প্রতিদিন প্রায় ১৪০০-১৫০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ বাংলাদেশে আসে।
বাংলাদেশ সরকারের জ্বালানি উপদেষ্টা মুহাম্মদ ফাওজুল কবির খান জানিয়েছেন, পাওনা পরিশোধের জন্য একটি নির্দিষ্ট পরিকল্পনা রয়েছে এবং সেই পরিকল্পনা অনুযায়ী আদানির পাওনা পরিশোধ করা হচ্ছে। তিনি এটাও জানান যে, আদানির সঙ্গে চুক্তিটি বাংলাদেশের অনুকূলে ছিল না।
বিশেষজ্ঞদের মতে, আদানি পাওয়ার বিদ্যুৎ সরবরাহ একেবারে বন্ধ করবে না বরং এটি তাদের পাওনা আদায়ে একটি চাপ প্রয়োগের কৌশল। ইতিমধ্যেই আংশিক পাওনা পরিশোধের প্রক্রিয়া চলছে এবং ভবিষ্যতে বাকি পাওনা পরিশোধে প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছে।
আওয়ামী লীগ সরকারের শেষ মাসে বাংলাদেশ সাড়ে তিন কোটি ডলার পরিশোধ করে এবং সেপ্টেম্বরে ৬ কোটি ৮০ লাখ ও অক্টোবরে ৯ কোটি ৭০ লাখ ডলার প্রদান করেছে।
ভারতের ভূমিকা ও রাজনীতি
শেখ হাসিনা ক্ষমতা থেকে সরে যাওয়ার পর ভারত বিদ্যুৎ রপ্তানির নীতিমালা সংশোধন করে, যাতে ভারতের অভ্যন্তরীণ চাহিদা পূরণে জাতীয় গ্রিডে বিদ্যুৎ যোগ করা যায়। বিরোধী দলগুলো মনে করছে, এটি আদানি পাওয়ারের স্বার্থে করা হয়েছে।
জ্বালানি উপদেষ্টা এবং বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ভারত সরকার আদানির পাওনা আদায়ে চাপ প্রয়োগ করছে। তবে আদানির বিদ্যুৎ সরবরাহ পুরোপুরি বন্ধ হয়ে যাবে এমন আশঙ্কা তারা করছেন না।
বিদ্যুৎ চাহিদা ও সাম্প্রতিক পরিস্থিতি
গ্রীষ্মকালে বিদ্যুতের চাহিদা সর্বোচ্চ ১৭,৫০০ মেগাওয়াট হলেও ১৪ অক্টোবরের তথ্য অনুযায়ী বাংলাদেশে বিদ্যুৎ উৎপাদন ক্ষমতা ৩১,১৪৫ মেগাওয়াট। শীতকালে বিদ্যুতের চাহিদা কম থাকে বলে বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন এটি একটি স্বস্তির বিষয়।
সরকারের জ্বালানি উপদেষ্টা ফাওজুল কবির খান জানান, আদানির বিদ্যুৎ সরবরাহ কম পাওয়া গেলেও এটি সংকট তৈরি করবে না। বিদ্যুতের চাহিদা মেটাতে বিকল্প ব্যবস্থা রয়েছে এবং দেশের বিদ্যুৎ চাহিদা সামাল দিতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।























