Google search engine

বীরশ্রেষ্ঠ মুন্সী আবদুর রউফ: দেশের জন্য আত্মোৎসর্গ করা সাহসী যোদ্ধা

বীরশ্রেষ্ঠ খেতাবে ভূষিত শহীদ মুক্তিযোদ্ধা মুন্সী আবদুর রউফ পূর্ব পাকিস্তান রাইফেলসের ল্যান্স নায়েক হিসেবে দায়িত্ব পালন করতেন। তিনি ১৯৪৩ সালের ৮ মে ফরিদপুর জেলার বোয়ালমারী থানার সালামতপুর গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। শৈশবে পিতৃহারা হওয়ায় আর্থিক অনটন দেখা দিলে ১৯৬৩ সালে পূর্ব পাকিস্তান রাইফেলসে যোগ দেন এবং সীমান্তরক্ষায় নিয়োজিত হন।

১৯৭১ সালের মার্চে মুক্তিযুদ্ধ শুরুর সময় তিনি ইপিআরের ১১ নম্বর উইং চট্টগ্রামে কর্মরত ছিলেন। ২৫ মার্চ রাতের গণহত্যার প্রতিক্রিয়ায় চট্টগ্রামের বাঙালি ইপিআর সদস্যরা পাকিস্তানি বাহিনীর বিরুদ্ধে বিদ্রোহ করে এবং ৮ ইস্ট বেঙ্গল রেজিমেন্টের সাথে যুক্ত হয়।

রাঙ্গামাটি-মহালছড়ি নৌপথের নিরাপত্তার জন্য ক্যাপ্টেন খালেকুজ্জামানের নেতৃত্বে মুক্তিবাহিনীর একটি দল দায়িত্বপ্রাপ্ত হয়। মুন্সী আবদুর রউফ ছিলেন এই দলের এক নম্বর এলএমজি চালক এবং তিনি বাকছড়ির একটি বাঙ্কারে অবস্থান নেন।

৮ এপ্রিল পাকিস্তানি সেনাবাহিনীর একটি বিশাল দল রাঙ্গামাটি-মহালছড়ি নৌপথে মুক্তিবাহিনীর উপর আক্রমণ চালায়। শত্রুর অতর্কিত আক্রমণে মুক্তিবাহিনীর সদস্যরা ছত্রভঙ্গ হলে মুন্সী আবদুর রউফ তার এলএমজির কাভারিং ফায়ার দিয়ে সৈন্যদের পেছনে সরে যেতে সহায়তা করেন। তার অব্যর্থ গুলিতে পাকিস্তানি বাহিনীর স্পিডবোটগুলো ডুবে যায় এবং শত্রুরা হতাহত হয়। তবে তারা মর্টারে গোলাবর্ষণ করে এবং একটি গোলার আঘাতে মুন্সী আবদুর রউফ শহীদ হন। পরবর্তীতে সহযোদ্ধারা তার মরদেহ নানিয়ারচরের চিংড়ি খালের কাছে সমাহিত করেন।

মহান মুক্তিযুদ্ধে সাহসিকতা ও আত্মদানের স্বীকৃতিস্বরূপ বাংলাদেশ সরকার তাকে ‘বীরশ্রেষ্ঠ’ খেতাবে ভূষিত করে। বাংলাদেশ রাইফেলস ১৯৭৩ সালে তাকে মরনোত্তর ল্যান্স নায়েক পদে পদোন্নতি প্রদান করে। মুন্সী আবদুর রউফের অসামান্য বীরত্ব ও আত্মত্যাগের স্মৃতি আজও জাতিকে দেশপ্রেমে উদ্বুদ্ধ করে।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

- Advertisement -

More articles

Latest