Google search engine

কোটা সংস্কার আন্দোলন: দেশজুড়ে ছয় মৃত্যু

সরকারি চাকরিতে কোটা ব্যবস্থা সংস্কারের দাবিতে দেশব্যাপী আন্দোলনে আজ ঢাকা, চট্টগ্রাম ও রংপুরে ছয়জনের প্রাণহানি হয়েছে। মঙ্গলবার দুপুর থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত দেশের বিভিন্ন স্থানে আন্দোলনকারীদের সঙ্গে পুলিশ ও সরকারসমর্থক সংগঠনের কর্মীদের সংঘর্ষের এসব ঘটনায় আহত হয়েছেন কয়েকশত মানুষ। এর মধ্যে ঢাকায় দুইজন, চট্টগ্রামে তিনজন এবং রংপুরে একজন মারা গেছেন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে উক্ত জেলাসমূহে বিজিবি নামানো হয়েছে।

আন্দোলনকারী শিক্ষার্থী, ছাত্রলীগ-যুবলীগ এবং আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ত্রিমুখী এই সংঘর্ষ এখনো থামেনি। ঢাকাসহ বিভাগীয় শহরগুলোতে এখনো উত্তেজনা বিরাজ করছে, ঘটছে ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়ার ঘটনা। চট্টগ্রামে নিহত তিনজনই বুকের বাঁপাশে গুলিবিদ্ধ হয়েছেন বলে নিশ্চিত করেছেন চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ (চমেক) হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ।

মঙ্গলবার সকাল থেকে সারা দেশের মতো চট্টগ্রামেও চরম উত্তেজনা বিরাজ করছিলো। ঢাকায় আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের ওপর বর্বর হামলার প্রতিবাদে বেলা ৩টায় চট্টগ্রামের মুরাদপুরে জড়ো হন সাধারণ শিক্ষার্থীরা। বেলা সাড়ে ৩টার দিকে হঠাৎ করে ছাত্রলীগ-যুবলীগের নেতা-কর্মীরা তাদের ওপর আক্রমণ করেন। এ সময় দুই পক্ষই সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়েন। একপর্যায়ে ছাত্রলীগ-যুবলীগের কর্মীরা পিছু হটলে শিক্ষার্থীরা এলাকাটি নিয়ন্ত্রণে নেন। চট্টগ্রামের নিহতদের মধ্যে ফারুকের বাড়ি কুমিল্লায়। তিনি একটি ফার্নিচারের দোকানে চাকরি করতেন। আর ওয়াসিম আকরাম ছিলেন চট্টগ্রাম কলেজের সমাজবিজ্ঞান বিভাগের তৃতীয় বর্ষের ছাত্র। অপরজনের পরিচয় জানা যায়নি।

রাজধানী ঢাকায় দুই পক্ষের সংঘর্ষের মধ্যে দুইজন নিহত হওয়ার খবর এসেছে। নিহতদের মধ্যে আনুমানিক ২৫ বছর বয়সী অজ্ঞাতনামা এক যুবককে গুরুতর অবস্থায় ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালে নিয়ে এলে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। যুবকের মাথায় প্রচন্ড জখম ছিল। ময়নাতদন্তের জন্য লাশটি মর্গে রাখা হয়েছে এবং তার পরিচয় জানার চেষ্টা চলছে। এদিকে রাত ৮টার দিকে ঢাকার সায়েন্সল্যাব এলাকায় সংঘর্ষের মাঝে আরও একজনের মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে।

রংপুরে কোটা আন্দোলনকারীদের সঙ্গে পুলিশ এবং ছাত্রলীগের সংঘর্ষে বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের ইংরেজি বিভাগের শিক্ষার্থী আবু সাঈদ (২৫) নিহত হয়েছেন। তার মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়লে আন্দোলনকারীরা আরও ক্ষুব্ধ হয়ে পড়েন এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের মূল ফটক অবরুদ্ধ করে রাখেন। রংপুর মেডিকেল কলেজ (রমেক) হাসপাতাল থেকে আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীরা আবু সাঈদের লাশ নিয়ে বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের দিকে যাত্রা করলে মাঝপথে পুলিশ তাঁদের থামিয়ে দেয় এবং লাশটি ছিনিয়ে নিয়ে যায়। রমেক হাসপাতালের জরুরি বিভাগের চিকিৎসক জানিয়েছেন, হাসপাতালে আনার আগেই ওই শিক্ষার্থীর মৃত্যু হয়েছে।

আরো পড়ুন: বাংলাদেশে স্কুল-কলেজ অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধ

দুপুরে কোটা আন্দোলনকারীরা বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের মূল ফটকে অবস্থান নিলে পুলিশ তাদের সেখান থেকে সরানোর চেষ্টা করে। এক পর্যায়ে আন্দোলনকারীরা পুলিশের বাধা ভেঙে ভেতরে প্রবেশের চেষ্টা করলে শুরু হয় সংঘর্ষ। এই সময় পুলিশ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাবার বুলেট ও টিয়ার গ্যাসের শেল ছুড়তে থাকলে আন্দোলনকারীরাও ইটপাটকেল ছুড়তে থাকেন। এ সময় ১০ সাংবাদিকসহ শতাধিক আহত হন। পরে ছাত্রলীগের নেতা-কর্মীরা হল থেকে লাঠি, ছোরা, চাপাতিসহ দেশীয় অস্ত্র নিয়ে আন্দোলনকারীদের ধাওয়া করেন। দীর্ঘক্ষণ ধরে চলে পাল্টাপাল্টি ধাওয়া। একপর্যায়ে শহর থেকে যুবলীগ, স্বেচ্ছাসেবক লীগের নেতা-কর্মীরা এসে যোগ দেন ছাত্রলীগের সঙ্গে।

এই প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত (রাত ১০টা) রাজধানী ঢাকার সায়েন্সল্যাব, স্যার সলিমুল্লাহ মেডিকেল কলেজ এবং মহাখালীতে সংঘর্ষ চলছে।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

- Advertisement -

More articles

Latest