Google search engine

টিউলিপকে শেষ পর্যন্ত যেতেই হলো

পদত্যাগ করেছেন ব্রিটেনের আর্থিক সেবা বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী টিউলিপ সিদ্দিক।

তিনি বাংলাদেশের ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ছোট বোন শেখ রেহানার কন্যা। ৪২ বছর বয়সী টিউলিপ লেবার পার্টির টানা চারবারের এমপি।

আজ মঙ্গলবার (১৪ জানুয়ারি) রাতে যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমারের কাছে পদত্যাগপত্র জমা দেন তিনি।

টিউলিপ লন্ডনে ফ্ল্যাট নিয়ে এবং বাংলাদেশে দুর্নীতি ও অনিয়ম নিয়ে গত কয়েক সপ্তাহ ধরে সমালোচনার মধ্যে ছিলেন।

সবশেষ যুক্তরাজ্যের দুর্নীতি বিরোধী জোট দুর্নীতিবিরোধী দায়িত্ব থেকে তাকে সরে দাঁড়ানোর আহ্বান জানানোর মধ্যে ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমারের মন্ত্রিসভা থেকে তার পদত্যাগের খবর পাওয়া গেল।

প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমারের কাছে দেওয়া টিউলিপ সিদ্দিকের পদত্যাগপত্র

প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমারের কাছে দেওয়া পদত্যাগপত্রে তিনি লিখেছেন, “সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলোতে আমার প্রতি যে আস্থা দেখিয়েছেন সেজন্য ধন্যবাদ। আমার বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগ তদন্ত করে দেখার যে আহ্বান জানিয়েছিলাম, তাতে তাৎক্ষণিক সাড়া দেওয়ায় আমি আপনার (স্টারমার) ইনডিপেনডেন্ট এথিকস অ্যাডভাইজর স্যার লাউরি ম্যাগনাসের প্রতি কৃতজ্ঞ। আমার বর্তমান ও অতীতের আর্থিক ও আবাসনসংক্রান্ত বিস্তারিত তথ্য তুলে ধরার সুযোগ দেওয়ার জন্যও আমি তার প্রতি কৃতজ্ঞ থাকব।

আপনি (স্টারমার) জানেন যে বিষয়টি নিয়ে আমার অনুরোধে যে গভীর পর্যালোচনা হয়েছে, সেখানে স্যার লাউরি নিশ্চিত করেছেন মন্ত্রী হিসেবে কোনো বিধি আমি লঙ্ঘন করিনি। যেমনটি তিনি (লাউরি ম্যাগনাস) বলেছেন, আমি আমার সম্পদ ও আবাসন সম্পত্তি নিয়ে কোনো অনিয়ম করেছি, সেরকম কোনো প্রমাণ নেই। অথবা এমন কোনো প্রমাণ নেই যা দিয়ে বোঝায় আমার কোনো সম্পদ আইনগত বা বৈধ উৎসের বাইরে থেকে পাওয়া।

আমার পারিবারিক সম্পর্কের বিষয়টি উন্মুক্ত। মন্ত্রী হওয়ার সময় আমি আমার বিভিন্ন সম্পর্ক এবং ব্যক্তিগত স্বার্থের বিষয়গুলো সরকারকে বিস্তারিত জানিয়েছি।

বিস্তর আলোচনার পর কর্মকর্তারা আমাকে পরামর্শ দিয়েছিলেন, আমি যেন ঘোষণাপত্রে এটা উল্লেখ করি যে আমার খালা বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী ছিলেন। স্বার্থের সংঘাত যেন না ঘটে, সেজন্য বাংলাদেশ সম্পর্কিত বিষয়সমূহ এড়িয়ে চলার পরামর্শও আমাকে দেওয়া হয়েছিল।

আপনাকে (স্টারমার) নিশ্চিত করতে চাই, আমি এসব পরামর্শ মেনে চলেছি এবং পুরোপুরি স্বচ্ছতার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করেছি।

যাহোক, এটা স্পষ্ট যে ব্রিটেনের আর্থিক সেবা বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী হিসেবে আমার দায়িত্ব চালিয়ে যাওয়াটা সরকারের মনোযোগ নষ্টের কারণ হতে পারে।

তাই আমি মন্ত্রিত্বের পদ থেকে পদত্যাগের সিদ্ধান্ত নিয়েছি। তবে লেবার সরকারের প্রতি আমার আনুগত্য স্পষ্ট এবং সবসময় তা অব্যাহত থাকবে।

আপনার সরকারের দায়িত্ব পালনের সুযোগ দেওয়ায় আপনাকে ধন্যবাদ দিতে চাই। পেছন থেকে হলেও যেকোনোভাবে হোক আমি আমার সহযোগিতা চালিয়ে যাব।

পরে মন্ত্রিত্ব থেকে সরে দাঁড়ানো টিউলিপ এক্স হ্যান্ডেলে তার পদত্যাগের কথা জানান। এতে তিনি প্রধানমন্ত্রীর কাছে পাঠানো পদত্যাগপত্রের ছবিও পোস্ট করেন।

টিউলিপ সিদ্দিককে লেখা কিয়ার স্টারমারের চিঠি

টিউলিপকে লেখা স্টারমারের একটি চিঠি প্রকাশ করেছে ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়। সেখানে তিনি লিখেছেন, “আপনার পদত্যাগপত্র গ্রহণ করার পাশাপাশি আমি এটাও স্পষ্ট করে বলতে চাই, স্বাধীন উপদেষ্টা হিসেবে স্যার লরি ম্যাগনাস আমাকে আশ্বস্ত করে বলেছেন যে তিনি মন্ত্রী হিসেবে আপনার বিরুদ্ধে নিয়ম লঙ্ঘন ও আর্থিক অনিয়মের কোনো অভিযোগের ঘটনা পাননি।”

প্রসঙ্গত, লন্ডনে বিনামূল্যে ফ্ল্যাট উপহার নেওয়া এবং বাংলাদেশে রূপপুর পারমাণবিক প্রকল্পে বড় অঙ্কের দুর্নীতিতে তার নাম আসার পাশাপাশি রাজধানীতে প্লট নিয়ে অনিয়মের অভিযোগও ওঠে টিউলিপের বিরুদ্ধে। এসব খবর আসার পর ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যমে তাকে পদত্যাগের আহ্ববানের পাশাপাশি কিংবা প্রধানমন্ত্রীকে তাকে বাদ দেওয়ার পরামর্শও দেওয়া হয়।

বাংলাদেশে শেখ হাসিনার মতো টিউলিপের বিরুদ্ধেও দুর্নীতির অভিযোগে তদন্ত শুরু হয়েছে। তাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ, ঘুষ আর অনিয়মের মাধ্যমে পাওয়া হাজার হাজার কোটি টাকা তারা অবৈধভাবে অন্য দেশে পাচার করেছেন।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

- Advertisement -

More articles

Latest