Google search engine

যুক্তরাষ্ট্রের সহায়তা অব্যাহত রাখার আহ্বান প্রধান উপদেষ্টা ইউনূসের

বাংলাদেশের পুনর্গঠন, সংস্কার ও পুনর্নির্মাণের এই গুরুত্বপূর্ণ সময়ে যুক্তরাষ্ট্রের সহায়তা প্রয়োজন উল্লেখ করে সহায়তা বন্ধের সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনার আহ্বান জানিয়েছেন প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস।

মঙ্গলবার রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যমুনায় যুক্তরাষ্ট্রের চার্জ ডি অ্যাফেয়ার্স ট্রেসি জ্যাকবসনের সঙ্গে বৈঠকে ইউনূস বলেন, “ইউএসএআইডির ক্ষেত্রে যাই ঘটুক না কেন, এই মুহূর্তে মার্কিন সহায়তা বন্ধের সময় নয়।”

বৈঠকে আলোচিত বিষয়

রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা বাসস জানায়, বৈঠকে বাংলাদেশ-যুক্তরাষ্ট্র সম্পর্ক, ইউএসএআইডির সহায়তা স্থগিতের প্রভাব, আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি, রোহিঙ্গা সংকট ও রাজনৈতিক সংলাপ নিয়ে আলোচনা হয়।

বিশ্বের অন্যতম স্বাস্থ্য গবেষণা প্রতিষ্ঠান আইসিডিডিআর,বি-এর জীবন রক্ষাকারী ভূমিকা তুলে ধরে ইউনূস এই প্রতিষ্ঠানের সহায়তা স্থগিতের বিষয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেন। তিনি জানান, বাংলাদেশ ও হাইতির মতো দেশগুলোতে ডায়রিয়া ও কলেরা নিয়ন্ত্রণে আইসিডিডিআর,বি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে।

ট্রাম্প প্রশাসনের সহায়তা স্থগিতের প্রভাব

যুক্তরাষ্ট্রের নবনির্বাচিত প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ক্ষমতা গ্রহণের পরপরই বিশ্বব্যাপী মার্কিন সহায়তা ৯০ দিনের জন্য স্থগিত করেন। এই সিদ্ধান্তের ফলে কোটি কোটি ডলারের বৈশ্বিক উন্নয়ন প্রকল্প হুমকির মুখে পড়েছে।

ফেব্রুয়ারিতে ট্রাম্প প্রশাসন পর্যালোচনা করে সহায়তা চালিয়ে যাওয়া, সংশোধন বা স্থায়ীভাবে বাতিল করার বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেবে।

ইউএসএআইডি বিশ্বের সবচেয়ে বড় ত্রাণ সংস্থা, যার বাজেটের বড় অংশ স্বাস্থ্য খাতে ব্যয় হয় এবং সংস্থাটির ১০ হাজার কর্মীর দুই-তৃতীয়াংশ যুক্তরাষ্ট্রের বাইরে বিভিন্ন দেশে কাজ করে। ট্রাম্প প্রশাসনের অভিযোগ, “মার্কিন জনগণের অর্থ যথাযথভাবে ব্যবহৃত হচ্ছে না।”

বাংলাদেশেও এর প্রভাব পড়তে শুরু করেছে। ইউএসএআইডির অর্থায়নে পরিচালিত প্রকল্পে কাজ করা সহস্রাধিক কর্মকর্তা-কর্মচারী ছাঁটাইয়ের শঙ্কায় রয়েছে বলে জানিয়েছে আইসিডিডিআর,বি।

রোহিঙ্গা সহায়তা

প্রধান উপদেষ্টা রোহিঙ্গা শরণার্থীদের জন্য মার্কিন সহায়তা অব্যাহত রাখার জন্য ধন্যবাদ জানান। তিনি বলেন,

“রোহিঙ্গাদের জন্য মার্কিন সহায়তা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।”

রাজনৈতিক ঐকমত্য ও “জুলাই সনদ”

ড. ইউনূস জানান, দেশের রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে ঐকমত্য প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে তিনি একটি কমিশন গঠন করেছেন এবং এই কমিশনের অধীনে সংলাপ শুরু করেছেন। তিনি বলেন, “সংস্কার বিষয়ে ঐকমত্যের পর রাজনৈতিক দলগুলো ‘জুলাই সনদে’ স্বাক্ষর করবে।”

নির্বাচন ও আইন-শৃঙ্খলা

যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিনিধি ট্রেসি জ্যাকবসন বলেন, নতুন সরকারের অধীনে নির্বাচন অবাধ, সুষ্ঠু ও অন্তর্ভুক্তিমূলক হওয়া উচিত।

তিনি সম্প্রতি আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর “অপারেশন ডেভিল হান্ট” সম্পর্কে প্রধান উপদেষ্টার কাছে জানতে চান।

জবাবে প্রধান উপদেষ্টা ইউনূস বলেন, তিনি বাংলাদেশি সমাজে ‘পুনর্মিলনের’ আহ্বান জানিয়েছেন এবং প্রতিশোধের চক্র ভেঙে শান্তি প্রতিষ্ঠার উপর গুরুত্ব দিয়েছেন।

তিনি বলেন, “আমরা সবাই এই দেশের সন্তান। তাই আমাদের মাঝে প্রতিশোধের কোনো স্থান থাকা উচিত নয়।”

আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীকে “যে কোনো মূল্যে মানবাধিকার বজায় রেখে অভিযান পরিচালনার” নির্দেশ দেওয়ার কথাও উল্লেখ করেন তিনি।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

- Advertisement -

More articles

Latest