
ফ্রান্সের রাজধানী প্যারিসের ইউনেস্কো সদর দপ্তরে শেষ হয়েছে আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবসের রজত জয়ন্তীর দুই দিনের বিশেষ অনুষ্ঠান।
আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবসের ২৫ বছর পূর্তি উপলক্ষে ফ্রান্সে বাংলাদেশ দূতাবাসের সহযোগিতায় জাতিসংঘের শিক্ষা, বিজ্ঞান ও সংস্কৃতি বিষয়ক সংস্থা ইউনেস্কো এ রজত জয়ন্তী অনুষ্ঠানের আয়োজন করে।
১৯৯৯ সালে ২১ ফেব্রুয়ারিকে ইউনেস্কো আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস ঘোষণার পর থেকে জাতিসংঘের সব সদস্যদেশে পালিত হয়ে আসছে দিবসটি।
দুই দিনের এ রজত জয়ন্তীর মূল আলোচনা অনুষ্ঠানে গেস্ট অভ অনার হিসেবে ভার্চুয়ালি ভাষণ দেন বাংলাদেশের অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা প্রফেসর মুহাম্মদ ইউনূস।
অনুষ্ঠানে বাংলাদেশ সরকারের প্রতিনিধিত্ব করেন সাংস্কৃতিক মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা মোস্তফা সরয়ার ফারুকী, ফ্রান্সে নিযুক্ত বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত ও ইউনেস্কোয় বাংলাদেশের স্থায়ী প্রতিনিধি খন্দকার এম তালহা এবং সাংস্কৃতিক মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব নাফিজা সাইমা।
অনুষ্ঠানে বিভিন্ন দেশের ভাষাবিদ, ভাষা বিশেষজ্ঞ এবং ইউনেস্কোর সদস্য রাষ্ট্রগুলোর প্রতিনিধিরা অংশগ্রহণ করেন।
ভার্চুয়ালি ভাষণে প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনুস বলেন, ২০২৪ এর ছাত্র-গণ বিপ্লবের অনুপ্রেরণা ছিল ‘৫২’র ভাষা আন্দোলন। মানুষের পরিচয়ের মূলই হলো মাতৃভাষা। সবাইকে নিজের মাতৃভাষার গুরুত্ব বুঝতে হবে।
তিনি বলেন, আমাদের ইতিহাস, ভাষার শক্তির উপস্থাপনা, আমাদের ভাষা, এটি আপনাদের প্রত্যেককে ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠী ও তাদের অধিকার সম্পর্কে কথা বলতে বাধ্য করে। আমাদের বাংলাদেশে আমরা সামাজিক-সংস্কৃতির ভিন্নতাকে অন্তর থেকে লালন করি কারণ আমাদের ভাষা এবং দেহ আমাদের ইতিহাসে আমাদের পরিচয়, বাংলাদেশে মাতৃভূমি রক্ষা করার জন্য আমরা মাতৃভাষাকে স্বীকৃতি দিয়ে এ বৈচিত্র্যকে সম্মান করে আসছি।
দূতাবাসের হেড অভ চ্যান্সারি ওয়ালিদ বিন কাশেমের পরিচালনায় সমাপনী সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য রাখেন সাংস্কৃতিক মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা মোস্তফা সরয়ার ফারুকী। অংশ নেন দূতাবাসের প্রতিরক্ষা সচিব ব্রিগেডিয়ার মিজানুর রহমান, কমার্শিয়াল কাউন্সিলর মিজানুর রহমান।
অনুষ্ঠানে রাজনৈতিক ও সামাজিক সংগঠনের নেতারাসহ বিপুলসংখ্যক প্রবাসী বাংলাদেশিসহ বিভিন্ন দেশের সংস্কৃতিপ্রেমীরা উপস্থিত ছিলেন।
সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে বাংলাদেশি শিল্পীদের পাশাপাশি বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তের ১৩টি দেশের শিল্পীরা তাদের নিজস্ব সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য তুলে ধরেন।
অনুষ্ঠানে লেখক-গবেষক বদরুদ্দীন উমর ও ভাষাসৈনিক তাহমিনা সালেহ্র ১৯৫২ ও ২০২৪-এর অভিজ্ঞতা নিয়ে একটি তথ্যচিত্র প্রদর্শিত হয়।























