
মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের স্বরাষ্ট্র নিরাপত্তা বিভাগ (DHS) ঘোষণা দিয়েছে যে, তারা কিছু শরণার্থী ও আশ্রয়প্রার্থীদের গ্রিন কার্ড আবেদন পর্যালোচনা সাময়িকভাবে স্থগিত করছে। এই সিদ্ধান্তের ফলে অনিশ্চয়তার মুখে পড়েছেন হাজারো অভিবাসী, যারা রাজনৈতিক অস্থিরতা, যুদ্ধ বা নির্যাতন থেকে বাঁচতে যুক্তরাষ্ট্রে এসেছিলেন।
কাদের উপর প্রভাব পড়বে?
মার্কিন নাগরিকত্ব ও অভিবাসন পরিষেবা (USCIS) থেকে জারি করা নির্দেশনা অনুযায়ী, এই স্থগিতাদেশ দুটি গোষ্ঠীর উপর প্রভাব ফেলবে—
১. যেসব শরণার্থী ইতোমধ্যে যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশের অনুমোদন পেয়েছেন।
২. যেসব আশ্রয়প্রার্থী অভিবাসন আদালতে আবেদন করে আশ্রয়ের অনুমোদন লাভ করেছেন।
ট্রাম্প প্রশাসনের নির্দেশনা
প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের দুইটি নির্বাহী আদেশের ফলে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। DHS জানিয়েছে, “প্রতারণা, জননিরাপত্তা বা জাতীয় নিরাপত্তার ঝুঁকি চিহ্নিত করতে আমরা নির্দিষ্ট কিছু অ্যাডজাস্টমেন্ট অব স্ট্যাটাস (Adjustment of Status) আবেদন চূড়ান্ত করার প্রক্রিয়া সাময়িকভাবে স্থগিত রাখছি।”
প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প স্বাক্ষরিত এক নির্বাহী আদেশ অনুযায়ী, “যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশকারী ও ইতোমধ্যে অবস্থানরত অভিবাসীদের কঠোর যাচাই-বাছাই করা হবে, বিশেষ করে যারা ঝুঁকিপূর্ণ দেশ থেকে এসেছেন।”
অপেক্ষা আরও দীর্ঘ হবে
সরকারি তথ্য অনুযায়ী, অক্টোবর ২০২৩ থেকে সেপ্টেম্বর ২০২৪-এর মধ্যে—
🔹 ৬৭,৮০০ আশ্রয়প্রার্থী তাদের গ্রিন কার্ডের জন্য আবেদন করেছেন।
🔹 ৩৯,৯০০ শরণার্থী স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদন করেছেন।
এখন পর্যন্ত, এই আবেদনগুলোর গড় অপেক্ষার সময় আশ্রয়প্রার্থীদের জন্য ১০ মাস এবং শরণার্থীদের জন্য ৮ মাস। তবে, DHS-এর সাম্প্রতিক সিদ্ধান্তের ফলে এই সময়সীমা আরও দীর্ঘ হতে পারে।
আশঙ্কা ও প্রতিক্রিয়া
বিশেষজ্ঞদের মতে, ট্রাম্প প্রশাসনের এই পদক্ষেপের ফলে শরণার্থী ও আশ্রয়প্রার্থীদের জন্য যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থা আরও কঠোর হতে পারে।
DHS-এর এক মুখপাত্র সংবাদমাধ্যমকে জানিয়েছেন,
“প্রতারণা, জননিরাপত্তা বা জাতীয় নিরাপত্তার উদ্বেগগুলোর আরও ভালোভাবে চিহ্নিত করতে, USCIS কিছু অ্যাডজাস্টমেন্ট অব স্ট্যাটাস আবেদন চূড়ান্তকরণের প্রক্রিয়া সাময়িকভাবে স্থগিত করছে।”
ক্যাটো ইনস্টিটিউটের অভিবাসন গবেষণা পরিচালক ডেভিড বায়ার সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে লিখেছেন,
“এই আবেদনগুলোর অপেক্ষার সময় ইতোমধ্যেই অস্বাভাবিকভাবে দীর্ঘ, আর ট্রাম্প শুধুমাত্র সেগুলো বাতিল ও নির্বাসনের পথ সহজ করার জন্য স্থগিত করেছেন।”
শরণার্থী ও আশ্রয়প্রার্থীদের অবশ্যই প্রমাণ করতে হয় যে, তারা জাতি, ধর্ম, বা রাজনৈতিক মতাদর্শের কারণে নির্যাতনের শিকার হতে পারেন। কিন্তু বর্তমান সিদ্ধান্তের ফলে অনেক আবেদনকারী আরও দীর্ঘ সময় ধরে অনিশ্চয়তার মধ্যে থাকবেন, যা তাদের ভবিষ্যৎকে আরও অনিরাপদ করে তুলবে।























