Google search engine

কিশোরগঞ্জে বিতর্কিতভাবে গড়ে ওঠা হারুনের ‘প্রেসিডেন্ট রিসোর্ট’

ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) অতিরিক্ত কমিশনার ও সাবেক গোয়েন্দা বিভাগের প্রধান মোহাম্মদ হারুন অর রশীদ কিশোরগঞ্জে তাঁর নিজ এলাকায় নির্মাণ করেছেন ‘প্রেসিডেন্ট রিসোর্ট’ নামে বিলাসবহুল একটি অবকাশ কেন্দ্র। জেলার মিঠামইন উপজেলার ঘাগড়া ইউনিয়নের হোসেনপুর গ্রামে প্রায় ৪০ একর জমির ওপর এ রিসোর্টটি নির্মিত হয়েছে। এটি স্থাপন করতে ব্যয় হয়েছে শত কোটি টাকারও বেশি।

রিসোর্টটির নির্মাণ কাজ শুরু হয় ২০২০ সালের ডিসেম্বর মাসে, আর ২০২১ সালের সেপ্টেম্বরে এর উদ্বোধন করা হয়। স্থানীয়রা জানায়, এ বিশাল বিনিয়োগের পেছনে মূলত হারুনের প্রভাব ও ক্ষমতার জোরই কাজ করেছে। তবে এ বিশাল জমির মালিকানা নিয়ে অভিযোগ উঠেছে যে, হারুন স্থানীয় অনেক জমির মালিককে প্রাপ্য দাম না দিয়ে জায়গাগুলো দখল করেছেন।

রিসোর্টটির নামকরণ করা হয়েছে তৎকালীন রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সম্পর্কের কারণেই। রিসোর্টটির প্রিমিয়াম স্যুটের প্রতিদিনের ভাড়া ২০ হাজার টাকা এবং ডিলাক্স রুমের ভাড়া ১০ হাজার টাকা। স্যুট, কটেজ, চাইনিজ রেস্টুরেন্ট, শিশুপার্ক, লেকসহ বিভিন্ন আধুনিক সুবিধা রয়েছে রিসোর্টটিতে।

স্থানীয় এক ব্যক্তি দিলীপ বণিক জানান, রিসোর্টের জন্য তাঁর এক একর ১০ শতাংশ জমি নেওয়া হলেও, তিনি সঠিক দাম পাননি। তাঁর মতো আরও ১০-১২ জন জমির মালিক রয়েছেন যারা জমির ন্যায্য দাম না পেয়ে বঞ্চিত হয়েছেন। এ নিয়ে এলাকায় তীব্র অসন্তোষ বিরাজ করছে।

সাবেক রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদের সহযোগিতায় সরকারি চাকরিতে উচ্চ পদে পৌঁছানো হারুনের বিরুদ্ধে জমি দখলের অভিযোগ উঠেছে। হারুনের ছোট ভাই ডা. শাহরিয়ার রিসোর্টটির ব্যবস্থাপনা পরিচালকের দায়িত্ব পালন করছেন।

গত ৫ আগস্ট সরকারের পতনের পর থেকে রিসোর্টে দর্শনার্থীদের প্রবেশ বন্ধ রয়েছে, তবে রিসোর্টের বুকিং কার্যক্রম চালু রয়েছে বলে জানান এক কর্মী। জমি দখল, ভুয়া মুক্তিযোদ্ধা সনদসহ নানা বিতর্কে জড়িয়ে থাকা হারুনের ভবিষ্যৎ কী, তা নিয়ে আলোচনা চলছে।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

- Advertisement -

More articles

Latest