Google search engine

চট্টগ্রাম বন্দরে পণ্য পরিবহনে সিন্ডিকেট না থাকায় ব্যয় কমেছে ২৫%

চট্টগ্রাম বন্দরের বহির্নোঙর থেকে দেশের ৩৪টি নৌ রুটে পণ্য পরিবহন এখন ওপেন মার্কেট সিস্টেমে হচ্ছে। সিন্ডিকেটের নিয়ন্ত্রণ না থাকায় লাইটার জাহাজে পণ্য পরিবহনের ব্যয় অন্তত ২৫ শতাংশ পর্যন্ত কমে গেছে বলে জানিয়েছেন ব্যবসায়ীরা। তারা আশা করছেন, এর ফলে বাজারে পণ্যমূল্যের ওপর ইতিবাচক প্রভাব পড়বে।

পূর্বে চট্টগ্রাম বন্দর থেকে লাইটার জাহাজে পণ্য পরিবহন নিয়ন্ত্রণ করত ওয়াটার ট্রান্সপোর্ট সেল (ডব্লিউটিসি)। ২০০৩ সালে বাংলাদেশ কার্গো ভেসেল ওনার্স অ্যাসোসিয়েশন (বিসিভিওএ), কোস্টাল শিপ ওনার্স অ্যাসোসিয়েশন অভ বাংলাদেশ, এবং ইনল্যান্ড ভেসেল ওনার্স অ্যাসোসিয়েশন অভ চট্টগ্রাম (আইভোয়াক) যৌথভাবে এই সেল প্রতিষ্ঠা করে।

শিপিং খাতের ব্যবসায়ীরা জানান, ডব্লিউটিসি নিয়ন্ত্রণ করত বিসিভিওএ। এর পেছনে ছিলেন সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার শিল্প ও বিনিয়োগ উপদেষ্টা সালমান এফ রহমান, মাদারীপুর-১ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য নূর-ই-আলম চৌধুরী লিটন, এবং ডব্লিউটিসির কনভেনর নুরুল হক চৌধুরীসহ একটি চক্র। অন্যদিকে, চট্টগ্রামভিত্তিক আইভোয়াকের নিয়ন্ত্রণে ছিলেন সাবেক পররাষ্ট্রমন্ত্রী হাছান মাহমুদ, চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের সাবেক মেয়র আজম নাছির উদ্দিন, নারায়ণগঞ্জের সাবেক সংসদ সদস্য শামীম ওসমান, নোয়াখালীর সাবেক সংসদ সদস্য একরাম চৌধুরী এবং আইভোয়াকের মুখপাত্র পারভেজ আহমেদসহ আরও কিছু নেতা।

সিন্ডিকেটের অনুপস্থিতিতে আমদানি পণ্যের মালিক ও এজেন্টরা তাদের পছন্দমতো জাহাজ ভাড়া করতে পারছেন, যা পরিবহন ব্যয় কমাতে সহায়ক হয়েছে। তবে আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর চট্টগ্রাম বন্দরে পণ্য পরিবহন এবং খালাসে কিছু বিশৃঙ্খলা দেখা দিয়েছে, বিশেষত আনলোডিং পয়েন্টগুলোতে।

চট্টগ্রাম বন্দরের তথ্য অনুযায়ী, বন্দরে আসা খোলা পণ্যের ৭৫ শতাংশই বহির্নোঙরে লাইটার জাহাজে খালাস হয়। তবে এই ব্যবস্থার ওপর যেকোনো সিন্ডিকেটের প্রভাব যেন আর না পড়ে, তা নিশ্চিত করার আহ্বান জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

- Advertisement -

More articles

Latest