
নারায়ণগঞ্জ শহরের আনাচে কানাচে ছড়িয়ে থাকা ওসমান পরিবারের টর্চার সেলগুলোর বর্ণনা দিয়ে, ইসলামী আন্দোলন নারায়ণগঞ্জ মহানগরের সভাপতি মুফতি মাসুম বিল্লাহ সম্প্রতি অভিযোগ করেন যে, সাবেক সংসদ সদস্য শামীম ওসমান ও তার অনুসারীরা নির্যাতনের মাধ্যমে প্রতিপক্ষকে দাবিয়ে রাখতেন। উদাহরণস্বরূপ, কুতুবপুরের চেয়ারম্যান প্রার্থী হাফেজ জাকির হোসেনকে রাজনৈতিক চাপে বসিয়ে দেওয়া এবং কাশিপুর ইউনিয়ন পরিষদে ওমর ফারুককে মানসিকভাবে নির্যাতন করে প্রার্থিতা প্রত্যাহার করতে বাধ্য করা হয়েছিল।
শামীম ওসমান এবং তার পরিবারের এই নির্যাতন কেন্দ্রগুলো ছিল সবার কাছেই পরিচিত, যা ‘ওপেন সিক্রেট’ হিসেবে ধরা হতো। সরকারের পতনের পর, জনগণ এই টর্চার সেলগুলোর বিরুদ্ধে বিদ্রোহ করতে শুরু করে, যার ফলে স্থানীয় বাসিন্দারা ইতোমধ্যে বেশ কিছু নির্যাতন কেন্দ্র ধ্বংস করে ফেলেছেন।
নির্যাতনের ইতিহাস
রাইফেলস ক্লাব, যা ছিল শামীম ওসমানের অনুসারীদের আড্ডাখানা এবং তার রাজনৈতিক কার্যালয় হিসেবে ব্যবহৃত হতো, সেখানে প্রতিপক্ষকে দমন, ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান দখল, এবং প্রার্থীদের সরিয়ে দেওয়ার কাজ করা হতো। সরকার পতনের পর, ইসলামী আন্দোলনের নেতারা উল্লেখ করেছেন, কাশিপুরের চেয়ারম্যান প্রার্থীকে প্রার্থিতা প্রত্যাহারের জন্য এই ক্লাবে চাপ দেওয়া হয়েছিল।
নসিব পরিবহনের মালিকরা, যাদের বাসগুলো দখল করে শামীম ওসমানের লোকজন বন্ধু পরিবহন নামে পরিচালনা শুরু করে, তারা রাইফেলস ক্লাবে ডেকে এনে তাদের উপর চাপ দেওয়ার অভিযোগ করেছেন।
টর্চার সেলগুলোর ধ্বংস এবং জনগণের ক্ষোভ
শামীম ওসমানের ঘনিষ্ঠ অনুসারী শাহ নিজামের মালিকানাধীন নাসিম ওসমান মেমোরিয়াল পার্ক বা নম পার্কে ভূমিদস্যুতা এবং সাধারণ ক্রেতা ও জমিমালিকদের উপর অত্যাচারের ঘটনা ঘটে। সম্প্রতি পার্কটি পুড়িয়ে দেওয়া হয়েছে। তোলারাম কলেজের ছাত্র সংসদের কক্ষটি, যা হাবিবুর রহমান রিয়াদের টর্চার সেল হিসেবে পরিচিত ছিল, এবং শামীম ওসমানের ভাতিজা আজমেরী ওসমানের টর্চার সেলগুলোও জনগণের ক্রোধের শিকার হয়েছে।
সুশাসনের জন্য নাগরিক (সুজন) নারায়ণগঞ্জ জেলার সভাপতি ধীমান সাহা জুয়েল মন্তব্য করেন যে, “ওসমান পরিবারের টর্চার সেলগুলোর কথা নারায়ণগঞ্জবাসী সকলেই জানেন, তবে ভয়ের কারণে কেউ মুখ খুলতে সাহস পেত না। কিন্তু জনগণের ক্রোধ প্রকাশ পেয়েছে সেলগুলো গুঁড়িয়ে দেওয়ার মাধ্যমে। আমরা নারায়ণগঞ্জ শহরকে টর্চার সেলমুক্ত দেখতে চাই।”























