
কোটা সংস্কার আন্দোলন এবং সরকারের পদত্যাগের দাবিতে চলমান এক দফা আন্দোলনের সময়, সরকারি দুটি সংস্থা—বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশন (বিটিআরসি) এবং ন্যাশনাল টেলিকমিউনিকেশন মনিটরিং সেন্টার (এনটিএমসি)—ইন্টারনেট বন্ধের নির্দেশ দেয়। এমনকি তখনকার ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি প্রতিমন্ত্রী জুনাইদ আহ্মেদ পলকও সরাসরি ফোন করে ইন্টারনেট বন্ধের নির্দেশ দিয়েছিলেন। যদিও সরকারি সংস্থাগুলো ইন্টারনেট বন্ধের বিষয়ে প্রকাশ্যে কোনো স্বীকারোক্তি দেয়নি, পলক বিভিন্ন সময়ে ইন্টারনেট অবকাঠামোতে অগ্নিসংযোগের কথা বলে ঘটনাকে আড়াল করার চেষ্টা করেছেন।
গত ১৭ জুলাই থেকে মোবাইল ইন্টারনেট এবং পরবর্তীতে ব্রডব্যান্ড ইন্টারনেট পুরোপুরি বন্ধ করে দেওয়া হয়। মোবাইল ইন্টারনেট ১০ দিন এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুক, হোয়াটসঅ্যাপসহ বিভিন্ন ইন্টারনেটভিত্তিক যোগাযোগ সেবা ১৩ দিন বন্ধ ছিল।
সরকারি সূত্রে জানা যায়, ১৫ জুলাই দিবাগত রাতে বিটিআরসি প্রথমে শাহবাগ ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের রাজু ভাস্কর্য এলাকায় মোবাইল ইন্টারনেট বন্ধের নির্দেশ দেয়। এরপর ধাপে ধাপে দেশের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ে ইন্টারনেট বন্ধের নির্দেশনা পাঠানো হয়। ১৬ জুলাই, দেশের ৫৯টি বিশ্ববিদ্যালয়ে মোবাইল ইন্টারনেট বন্ধের নির্দেশ আসে।
ইন্টারনেট বন্ধের পেছনে মূল নির্দেশনা এসেছিল এনটিএমসি থেকে, যা স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের অধীনে কাজ করে। ১৭ জুলাই রাতে এনটিএমসি থেকে মোবাইল অপারেটরদের ফেসবুক, ইউটিউবসহ অন্যান্য যোগাযোগ মাধ্যম বন্ধের নির্দেশ দেওয়া হয়। পরবর্তীতে এনটিএমসি থেকেই মোবাইল ইন্টারনেট পুনরায় চালু করার নির্দেশও আসে।
দেশের বাইরে থেকে ইন্টারনেট ব্যান্ডউইডথ সরবরাহকারী সংস্থাগুলোও সরকারি নির্দেশনা মেনে ব্যান্ডউইডথ সরবরাহ বন্ধ করে দেয়। সাবমেরিন কেব্ল কোম্পানি ও আইটিসি থেকে ব্যান্ডউইডথ বন্ধের জন্যও পলক নিজে ফোন করেছিলেন।

সরকার পতনের পর, ৬ আগস্ট দেশ ত্যাগের চেষ্টা করলে হজরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে জুনাইদ আহ্মেদ পলককে আটকানো হয়। এরপর থেকে তার অবস্থান সম্পর্কে কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি।
সরকারি ও বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, ইন্টারনেট বন্ধের নির্দেশের বিষয়ে কোনো আপত্তি তুললে লাইসেন্স বাতিলসহ বিভিন্ন হুমকি দেওয়া হতো।























