
ফেনীতে তৃতীয় দফার বন্যায় জেলার ফুলগাজী, পরশুরাম, এবং ছাগলনাইয়া উপজেলায় দুই শতাধিক গ্রাম প্লাবিত হয়েছে, ফলে প্রায় দুই লাখ মানুষ পানিবন্দি অবস্থায় মানবেতর জীবনযাপন করছেন। প্রবল স্রোতে ভেসে গিয়ে একজন নিখোঁজ রয়েছেন, এবং সিলোনীয়া নদীর একটি পয়েন্টে নতুন করে বাঁধ ভেঙে গেছে।
ফেনী জেলার প্রধান সড়ক ২ থেকে ৪ ফুট পানিতে তলিয়ে যাওয়ায় ফুলগাজী ও পরশুরামের সঙ্গে জেলা সদরের সড়ক যোগাযোগ সম্পূর্ণ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে। এছাড়া, আবহাওয়া অফিস জানিয়েছে, গত ২৪ ঘণ্টায় ৯৭ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে, এবং আগামী কয়েকদিন জেলাজুড়ে বৃষ্টি অব্যাহত থাকতে পারে।

ফেনী পানি উন্নয়ন বোর্ডের উপবিভাগীয় প্রকৌশলী মো. আবুল কাশেম বলেন, টানা বর্ষণ ও উজানের পাহাড়ি ঢলে মুহুরী নদীর পানি বিপদসীমার ৮৫ সেন্টিমিটার উপরে দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। মুহুরী, কহুয়া, এবং সিলোনীয়া নদীর বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধের ২৭টি ভাঙা অংশ দিয়ে পানি লোকালয়ে ঢুকে পড়েছে। ফলে বন্যা পরিস্থিতি আরও খারাপ হয়েছে। ফায়ার সার্ভিসসহ বিভিন্ন সংস্থা পানিবন্দি মানুষদের উদ্ধার করে নিরাপদ আশ্রয়ে নিয়ে যাচ্ছে।
পরশুরাম উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আফরোজা হাবিব জানিয়েছেন, প্রবল স্রোতে একজন নিখোঁজ হয়েছেন। মঙ্গলবার রাত পর্যন্ত ডিঙি নৌকা দিয়ে প্রায় ১০০ মানুষকে উদ্ধার করা হয়েছে, এবং জরুরি উদ্ধার কাজের জন্য সেনাবাহিনী ও কোস্ট গার্ডের সহায়তা চাওয়া হয়েছে। ফুলগাজী উপজেলার নির্বাহী কর্মকর্তা তানিয়া ভূঁইয়া জানিয়েছেন, এই উপজেলায় স্মরণকালের সবচেয়ে ভয়াবহ বন্যা দেখা দিয়েছে, যেখানে ছয়টি ইউনিয়নের প্রায় সবগুলো গ্রাম প্লাবিত হয়েছে। তিনি বলেন, এখন পর্যন্ত প্রায় ৩০০ জনকে উদ্ধার করা হয়েছে এবং আরও ৫০০ প্যাকেট শুকনো খাবার এবং ১৮ টন চাল মজুদ রয়েছে।

এদিকে, স্বেচ্ছাসেবকরা পানিবন্দি মানুষদের উদ্ধারে কাজ করছে, তবে পানির উচ্চতা বেশি হওয়ায় ডিঙি নৌকায় উদ্ধার অভিযান চালানো সম্ভব হচ্ছে না। ফুলগাজী-পরশুরামের দুর্গত এলাকাগুলোতে যাওয়া স্পিডবোট ছাড়া সম্ভব নয় বলে জানান স্বেচ্ছাসেবক মাহবুবা তাবাচ্ছুম ইমা।
জেলা প্রশাসক মোসাম্মৎ শাহীনা আক্তার বলেছেন, বন্যাদুর্গতদের সহায়তায় সব ধরনের ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।
বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম এর প্রতিবেদন: বন্যা: ফেনীতে ২০০ গ্রাম প্লাবিত, প্রায় দুই লাখ মানুষ পানিবন্দি























