
কয়েক দিনের টানা বৃষ্টিতে ভয়াবহ বন্যা দেখা দিয়েছে ভারতের ত্রিপুরা রাজ্যে। বন্যার কারণে ডুম্বুর জলবিদ্যৎ প্রকল্পের বাঁধ খুলে দিয়েছে কর্তৃপক্ষ। এর ফলে পানি ঢুকছে বাংলাদেশে। ১৯৯৩ সালের পর প্রথমবারের মতো ত্রিপুরার ডুম্বুর বাঁধ খুলে দিয়েছে কর্তৃপক্ষ। রাজ্যের সাম্প্রতিক ইতিহাসে এটিকে উল্লেখযোগ্য ঘটনা হিসেবে অভিহিত করেছে।
টানা বৃষ্টি ও ঢলের ফলে কুমিল্লার গোমতী নদীতে পানি বৃদ্ধির কারণে বন্যার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। ইতিমধ্যে প্রায় চার হাজার হেক্টর ফসলি জমি পানিতে তলিয়ে গেছে। গতকাল রাত থেকে ক্রমাগত পানি বাড়ছে, এবং আজ সকাল পর্যন্ত নদীটির পানি বিপৎসীমার নিচে থাকলেও স্থানীয়রা আশঙ্কা করছেন, দ্রুতই পানি দুই কূল ছাপিয়ে উঠতে পারে।
গোমতী নদীর পাড়ের বাসিন্দারা বলছেন, গত ১০ বছরে তাঁরা নদীতে এত পানি দেখেননি। পানি বৃদ্ধির কারণে চরাঞ্চলের সহস্রাধিক পরিবার বাধ্য হয়ে বাঁধে আশ্রয় নিয়েছে। কুমিল্লা আবহাওয়া অফিসের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা সৈয়দ আরিফুর রহমান জানিয়েছেন, গত ২৪ ঘণ্টায় ৭৯ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে এবং আগামী ৭২ ঘণ্টার মধ্যে আরও বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে। এদিকে, কুমিল্লা পানি উন্নয়ন বোর্ডের তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী মো. আবদুল লতিফ জানিয়েছেন, গোমতী নদীর পানি বিপৎসীমার ২২ সেন্টিমিটার নিচে দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে, তবে দ্রুত পরিস্থিতি বদলাতে পারে।
গোমতী নদীর তীরবর্তী এলাকাগুলোতে বন্যার শঙ্কা আরও প্রবল হয়েছে, কারণ ভারত থেকে আসা পানির প্রবাহ বেড়েই চলেছে। টানা তিন দিনের বৃষ্টির ফলে কুমিল্লার কাকড়ী, পাগুলি, ও সালদা নদী দিয়ে ভারত থেকে হু হু করে পানি প্রবেশ করছে, যা বন্যার পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলছে।
এদিকে, কুমিল্লার গোমতী নদীর চরাঞ্চলে ফসলের ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। কুমিল্লা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক আইয়ুব মাহমুদ জানিয়েছেন, ক্ষতির পরিমাণ নিরূপণ করা এখনই সম্ভব নয়, কারণ পানি না সরা পর্যন্ত ক্ষতির পরিমাণ নির্ধারণ করা যাবে না। তিনি জরুরি ভিত্তিতে একটি সভার আয়োজন করেছেন, যেখানে কৃষি কর্মকর্তাদের উপস্থিত থাকার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।























