
অতিরিক্ত কাজের চাপ শুধুমাত্র শারীরিক নয়, মানসিক সমস্যারও কারণ হতে পারে। সাম্প্রতিক গবেষণা ও উপাত্ত বিশ্লেষণ থেকে জানা যায়, অতিরিক্ত কাজের চাপে মানসিক স্বাস্থ্যের ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলে, যা দীর্ঘমেয়াদে বিপজ্জনক হতে পারে।
২০১৯ সালে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার (WHO) এক জরিপে দেখা গেছে, অতিরিক্ত কাজের চাপের কারণে প্রতি বছর প্রায় ৭৪৫,০০০ মানুষ হৃদরোগ এবং স্ট্রোকের শিকার হচ্ছেন। এছাড়া, কাজের চাপে ডিপ্রেশন ও অ্যানজাইটি হওয়ার ঝুঁকিও বেড়ে যায়। জরিপ অনুযায়ী, যারা সপ্তাহে ৫৫ ঘণ্টার বেশি কাজ করেন, তাদের মধ্যে মানসিক সমস্যার ঝুঁকি ৩০ শতাংশ বেশি থাকে।
মানসিক সমস্যার ধরন:
১) অ্যানজাইটি (Anxiety): অতিরিক্ত কাজের চাপে মানসিক উদ্বেগ বাড়ে, যা দীর্ঘমেয়াদে অ্যানজাইটির রূপ নিতে পারে। আমেরিকান সাইকোলজিক্যাল অ্যাসোসিয়েশন (APA) এর মতে, প্রতি ১০ জন কর্মজীবীর মধ্যে ৪ জনই অতিরিক্ত কাজের চাপে অ্যানজাইটি সমস্যায় ভুগছেন।
২) ডিপ্রেশন (Depression): কাজের চাপ থেকে ডিপ্রেশনের ঝুঁকি উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়ে। এক গবেষণায় দেখা গেছে, যারা অতিরিক্ত সময় কাজ করেন, তাদের মধ্যে ডিপ্রেশনের ঝুঁকি ২৫ শতাংশ বেশি।
৩) বার্নআউট (Burnout): অতিরিক্ত কাজের চাপে কর্মীরা দ্রুত বার্নআউটের শিকার হন। গবেষণা অনুযায়ী, ২০১৯ সালে বিশ্বব্যাপী বার্নআউটের কারণে ২৮ শতাংশ কর্মী তাদের কাজ থেকে অব্যাহতি নিয়েছেন।
সমাধানের উপায়:
মানসিক স্বাস্থ্য রক্ষার জন্য কাজের ভারসাম্য বজায় রাখা জরুরি। নিয়মিত বিরতি নেওয়া, পর্যাপ্ত ঘুম এবং শারীরিক অনুশীলন মানসিক চাপ কমাতে কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে। কর্মস্থলে মানসিক স্বাস্থ্য সচেতনতা বৃদ্ধির জন্য উদ্যোগ নেওয়া উচিত, যাতে কর্মীরা নিজেদের মানসিক স্বাস্থ্যের যত্ন নিতে পারেন।























